বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আর্থার কোনান ডয়েল

default-image

বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র শার্লক হোমসের স্রষ্টা আর্থার কোনান ডয়েল লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ছিলেন একজন শল্যচিকিৎসক। পেশা হিসেবে সেটিই বেছে নিয়েছিলেন তিনি। শল্যচিকিৎসক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়োজিত ছিলেন এ ব্রিটিশ লেখক। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্র ও বিভিন্ন অভিযানেও শল্যচিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হয় তাঁকে। বলা হয়ে থাকে, এডিনবার্গ ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময় শিক্ষক হিসেবে পাওয়া আরেক শল্যচিকিৎসককে দেখেই শার্লক হোমস চরিত্র সৃষ্টির অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন আর্থার কোনান ডয়েল। কারণ, আর্থারের ওই শিক্ষক নাকি কোনো ব্যক্তিকে বাহ্যিকভাবে পর্যবেক্ষণ করেই তাদের পেশা, কার্যকলাপ ও অভ্যাস বলে দিতে পারতেন।

জ্যাক লন্ডন

default-image

বিখ্যাত এই আমেরিকান লেখকের পুরো নাম জন গ্রিফিথ লন্ডন। সাংবাদিক এবং ঔপন্যাসিক হিসেবে নাম কুড়িয়েছিলেন তিনি। তবে লেখক হওয়ার আগে জীবিকা নির্বাহের জন্য তিনি অবৈধভাবে সংগ্রহ করতেন ঝিনুক। সেকালে পশ্চিম উপকূল থেকে সংগ্রহ করা ঝিনুকের বেশ কদর ছিল জ্যাক লন্ডনের আবাসভূমিতে। জ্যাক জেলেদের কাছ থেকে অবৈধভাবে ঝিনুক সংগ্রহ করে সেগুলো বাজারে বিক্রি করতেন। এরপর একবার জাহাজেও তিনি কাজ নিয়েছিলেন। একপর্যায়ে সব কাজ ছেড়ে উপন্যাস ও ছোটগল্প লেখায় মনোনিবেশ করেন জ্যাক। তাতেই পাল্টে গিয়েছিল তাঁর জীবন। এরপর আর লেখালেখি বাদে অন্য কোনো পেশায় যেতে হয়নি জ্যাক লন্ডনকে। আমেরিকার সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় লেখকদের একজন হয়েছিলেন তিনি।

টনি মরিসন

default-image

লেখক হিসেবে নোবেল ও পুলিৎজার—এই দুই পুরস্কারই জিতেছিলেন টনি মরিসন। তবে লেখক হিসেবে তাঁর শুরুটা ছিল অত্যন্ত বন্ধুর। প্রকাশনা ক্ষেত্রে জায়গা করে নেওয়ার জন্য অনেক লড়তে হয়েছিল। প্রকাশনা জগতে একটি চাকরি করতেন টনি, এর সঙ্গে ছিল দুই সন্তানকে বড় করার লড়াই। এ দুই কাজ সামলে যতটুকু অবসর পেতেন, তাতেই একটু একটু করে লিখেছিলেন প্রথম উপন্যাস দ্য ব্লুয়েস্ট আই। স্নাতক সম্পন্ন করার পর শুরুতে টেক্সাস সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতার কাজ নিয়েছিলেন টনি। তবে বিখ্যাত হওয়ার পর অবশ্য আবার শিক্ষকতা পেশায় ফিরে গিয়েছিলেন টনি মরিসন।

খালেদ হোসেইনি

default-image

১৯৮০ সালে মোটে ১৫ বছর বয়সে আফগান শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন খালেদ। ওই সময় ইংরেজি ভাষাটাও ঠিকমতো রপ্ত ছিল না তাঁর। এর ওপর ছিল শরণার্থীর জীবন। তবে লেখক হওয়ার স্বপ্ন তাঁর ছিল। আর অল্প জানা ইংরেজি দিয়েই লেখক হওয়ার স্বপ্নটা বুনেছিলেন খালেদ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ইংরেজিতে আমার তেমন দখল তখন ছিল না। ওই অবস্থায় একটি বিদেশি ভাষায় গল্প লেখার কথা চিন্তা সত্যিই বেশ অদ্ভুত ছিল।’ একপর্যায়ে জীবনের প্রয়োজনেই চিকিৎসক হওয়ার চেষ্টা শুরু করেছিলেন। পরে খালেদ হোসেইনি জানিয়েছিলেন, তাঁর প্রথম উপন্যাস দ্য কাইট রানার তিনি একটু একটু করে লিখতেন প্রতিদিন সকালে হাসপাতালে যাওয়ার আগে। ওই সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক হিসেবে একটি হাসপাতালে কাজ করতেন তিনি। তবে প্রথম উপন্যাসের বিপুল সাফল্যের পর ২০০৪ সাল থেকে আর চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেননি খালেদ হোসেইনি।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, দ্য আটলান্টিক, ভ্যারাইটি, মেন্টাল ফ্লস, বিজনেস ইনসাইডার ডটকম, নিউইয়র্ক পাবলিক লাইব্রেরি ডট ওআরজি, হাফপোস্ট ও আইএনসি ডটকম।

অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন