default-image

প্রয়াত বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীরের একটি লেখা আছে: ‘বইয়ের বিজ্ঞাপন পড়া’। সত্যিই সাহিত্যানুরাগী পাঠকদের কাছে বইয়ের বিজ্ঞাপন পড়া একটি চমৎকার অভ্যাস। একদা দেশ পত্রিকায় বিজ্ঞাপন পড়েই আমরা বইয়ের খবর পেতাম। কেউ কেউ কেনার জন্য বই নির্বাচন করতেন বিজ্ঞাপন (ও পুস্তক-সমালোচনা) দেখে। যাঁদের সামর্থ্য নেই, তাঁরাও বিজ্ঞাপন পড়ে দুধের সাধ ঘোলে মেটাতেন।

এই লেখাটি মূলত বইপত্রের বিজ্ঞাপন নিয়ে। এখানে সেই সময়ের বইয়ের বিজ্ঞাপনগুলো হুবহু তুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে বোঝা যায় তখনকার বিজ্ঞাপনগুলো কেমন ছিল। উল্লেখ্য, এসব বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত তৎকালের পুরোনো বাংলা এবং বানানরীতিও এখানে অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে।

লেখার শুরুতে উল্লেখ করছি উনিশ শতকে প্রকাশিত দু–একটি বইয়ের বিজ্ঞাপন। এগুলোয় উদ্ধৃত কথামালায় দৃষ্টি দিলে সেই আমলে বইয়ের বিজ্ঞাপনগুলো কেমন ছিল, দেখা যাবে তার চিত্র। কোনো কোনো বিজ্ঞাপনে আছে বই সম্পর্কে আকর্ষণীয় বক্তব্য, আবার কোনো কোনোটায় লেখক ও বই নিয়ে প্রকাশক বা বিশিষ্ট ব্যক্তির মত ও মন্তব্য। সব মিলিয়ে এখানে হয়তো পাওয়া যাবে বইয়ের বিজ্ঞাপনের একটি বিবর্তনরেখাও।

বিজ্ঞাপন

উনিশ শতকেই বইয়ের মধ্যে প্রকাশকের বক্তব্যরূপে বিজ্ঞাপন প্রকাশের চল ছিল। তাই মাইকেল মধুসূদন দত্তের ব্রজাঙ্গনা কাব্য চতুর্দশপদী কবিতাবলি বিজ্ঞাপনে সরাসরিই এই কথা লেখা ছিল যে এটি ‘প্রকাশক-দিগের বিজ্ঞাপন’:

ইউরোপ খণ্ড হইতে ইতিপূর্বে আর কখনো বাঙ্গালা কবিতা লিখিত হইয়া মুদ্রিত হইবার নিমিত্ত কলিকাতায় প্রেরিত হয় নাই এবং এই জন্য আমরা কবিবরের বন্ধুদিগের এবং সাধারণের সন্তোষার্থে কবিতাগুলির উপক্রম ভাগটি মুদ্রাক্ষরে না ছাপাইয়া যেরূপ লিখিত ছিল অবিকল তদনুরূপ হস্তাক্ষরে ছাপাইলাম।

স্ট্যানহোপ প্রেস—শ্রী ঈশ্বরচন্দ্র বসু কোং।

কলিকাতা

১লা আগস্ট ১৮৬৬।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মুচিরাম গুড়ের জীবনচিরিত-এর যে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট করেই বলা হয়েছিল, ‘এই গ্রন্থ কোন ব্যক্তিবিশেষ বা শ্রেণীবিশেষের লোককে লক্ষ্য করিয়া রচিত হয় নাই।’ পুরো বিজ্ঞাপনটি ছিল এমন:

পাঠকদিগকে বলিয়া দেওয়া আবশ্যক যে, এই গ্রন্থ কোন ব্যক্তিবিশেষ বা শ্রেণীবিশেষের লোককে লক্ষ্য করিয়া রচিত হয় নাই। সাধারণ সমাজ ভিন্ন, কাহারও প্রতি ইহাতে ব্যঙ্গ নাই। ইহাতে পাঠক যেরূপ মনুষ্যচরিত্র দেখিবেন, সেরূপ মনুষ্যচরিত্র সকল সমাজে, সকল কালেই বিদ্যমান। আধুনিক বাঙ্গালী সমাজ এই গ্রন্থের বিশেষ লক্ষ্য বটে, কিন্তু তৎস্থিত কোন ব্যক্তিবিশেষ বা শ্রেণীবিশেষ তাহার লক্ষ্য নহে। যদি কেহ বিবেচনা করেন যে, তিনি ইহার লক্ষ্য, তবে ভরসা করি, তিনি কথাটা মনে মনেই রাখিবেন। প্রকাশে তাহার গৌরব বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখি না।

এবার মৌলভি মুজীবর রহমান সম্পাদিত ইংরেজি পত্রিকা দি মুসলমান–এ মুদ্রিত বইয়ের কিছু বিজ্ঞাপন তুলে ধরছি। ১৯০৯ থেকে ১৯২৬ সালের মধ্যে প্রকাশিত এসব বিজ্ঞাপনে স্বল্পভাষ্যে বেশ লোভনীয়ভাবে উদ্দীষ্ট বইটিকে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন ২ এপ্রিল ১৯০৯ সালে একসঙ্গে রয়েছে কয়েকটি বইয়ের বিজ্ঞাপন:

মতিচূর—মিসেস আর, এস্, হোসেন। ইহা পাঠে সকলেই সন্তুষ্ট হইবেন। বাবু গিরিশচন্দ্র সেনকৃত কোরান শরিফ–এর বঙ্গানুবাদ। মেসকাত শরিফ–এর বঙ্গানুবাদ ১০ খণ্ড, হজরত মোহাম্মদ (দ.)–এর জীবনের প্রথম হইতে শেষ পর্যন্ত সমস্ত ঘটনাবলম্বনে লিখিত বৃহৎ আকার সরল ভাষায়, তাপসমালা অর্থাৎ তাজকেরাতল আউলিয়া বঙ্গানুবাদ। মৌলুদ শরিফ—মীর মশাররফ হোসেন। রসুল জীবনী বিশেষ।

default-image

আবার ১৯০৯–এরই ১৫ অক্টোবর একই পত্রিকায় মহম্মদ মোজাম্মেল হকের জাতীয় মঙ্গল কাব্য প্রকাশের সংবাদ বিজ্ঞাপনের ভাষায় লেখা হয়েছিল এভাবে:

আনন্দ সংবাদ! আনন্দ সংবাদ!

বঙ্গীয় মুসলমান সমাজের সর্ব্বশ্রেষ্ঠ হিতকাব্য।

মহম্মদ মোজাম্মেল হক প্রণীত জাতীয় মঙ্গল

সমাজের আনন্দ সংবাদ লইয়া বাহির হইয়াছে।

এই ক্ষুদ্র অথচ মনোহর গ্রন্থ মুসলমান সমাজের বর্ত্তমান দৈন্যদশায় ব্যথিত কবির উদ্দীপণাময়ী আহ্বানগীতিতে এবং তাঁহাদিগের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশ্বাসবাণীতে পূর্ণ উদীয়মান তরুণ কবির অমৃত ঝঙ্কারে চিরনির্জ্জীব প্রাণ ও সমাজ সেবায় উদ্দীপিত হইবে। ইহা সমাজ-গাঁথার উজ্জ্বলমান—অধঃপতিতঃ সমাজের নিদ্রাভঙ্গের প্রভাত-কাকলী। বিষয় অভিনব, ছন্দ সুন্দর, নির্দোষ হিতকথা। ভাষার সৌন্দর্য্য—কবির মাধুর্য্যে এবং তরুণ কবির উদার ভাবুকতায় ইহার প্রতি ছত্র কোটি কোটি কোহিনূরের ন্যায় দীপ্তোজ্জ্বল।

ফুরাইতে চলিল।...বিলম্বে আর পাইবেন না।

প্রকাশক মহম্মদ আজিজুল হক, নং ২/১ ক্রীক রোড, কলিকাতা।

১৯১০–এর ২ ডিসেম্বর দি মুসলমান–সুধাকর সম্পাদক মুনশী আবদুর রহিমের (শেখ আবদুর রহিমের পৌত্র ছিলেন প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান) ইসলামের ইতিবৃত্ত নামে একটি বইয়ের বিজ্ঞাপন ছাপা হয়। সেখানে প্রকাশ পেয়েছে বইটিতে কী কী আছে, সেই প্রসঙ্গ:

ইসলাম ইতিবৃত্ত অর্থাৎ মুসলমান জগতের ইতিহাস

প্রবীণ সমাজসেবী মিহির সুধাকর–এর সর্ব্বজনপ্রিয় সম্পাদক মাননীয় মুনশী আবদুর রহিম সাহেব, প্রথম খলিফা হজরত আবু বকর সিদ্দিক হইতে আরম্ভ করিয়া খোলাফায়ে রাশেদিন, বনি ওম্মিয়া, বনি আব্বাসিয়া, বনি ফাতেমিয়া ও স্পেনের বনি ওম্মিয়া প্রভৃতি খলিফাগণের...ইতিহাস ইসলামের ইতিবৃত্ত নাম দিয়া বঙ্গভাষায় খণ্ডাকারে প্রকাশ করিতে ব্রতী হইয়াছেন।

২৪ জুলাই ১৯২৬–এ মৌলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁর মোস্তফা চরিত বইটির বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছিল:

মৌলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ সাহেব

প্রণীত

হজরত মোহাম্মদ মোস্তফার

পুণ্যময় জীবনের সেই বিরাট চিত্র

মোস্তফা চরিত

বাহির হইয়াছে! বাহির হইয়াছে!

বাংলায় হজরত মোহাম্মদ মোস্তফা পুর্ণ্যচরিতামৃত এমন সুন্দরভাবে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ভক্ত ও ভাবুকের লেখনি নিঃসৃত এমন অমৃতময়ী ভাষায় ইতঃপূর্ব্বে আর বাহির হয় নাই।

বিজ্ঞাপন

দি মুসলমান থেকে ধূমকেতু বা লাঙল পত্রিকায় চোখ ফেরালে দেখা যাবে এখানে নিয়মিতই কাজী নজরুল ইসলামের বিভিন্ন বইয়ের বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে। ১৯২২ সালের ১১ আগস্ট ধূমকেতু পত্রিকায় অগ্নি-বীণা বইয়ের বিজ্ঞাপন:

ধূমকেতু-সারথী ‘বিদ্রোহীর সৈনিক কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর কবিতার বই

অগ্নি-বীণা! অগ্নি-বীণা!!

ছাপা হচ্ছে,—দাম এক টাকা

এতে থাকবে, কবির আজ তক্ লেখা সমস্ত গরম কবিতা ও গান।

যাঁরা কিনতে চান, তাঁরা অনুগ্রহ করে আজই চিঠি দিয়ে নাম রেজিস্টারী করে রাখুন, কিম্বা টাকা পাঠিয়ে দিন।

পরে হয়ত অনেকেই আর একখানাও ‘অগ্নি–বীণা’ পাবেন না।...বিলম্বে হতাশ হতে হবে।

লাঙল পত্রিকায় নানা সময়ে কবির বইয়ের বিচিত্র বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে:

আনন্দ সংবাদ! আনন্দ সংবাদ!

‘লাঙল’ বুক এজেন্সি

[নব যুগের নবীনতন্ত্রের নব পুস্তকালয়]

...নজরুল ইসলামেরও সকল পুস্তক এখান হইতে পাওয়া যাইবে।...এই পুস্তকালয়ের যাহা লাভ হইবে, তাহার কতকাংশ দুঃস্থ সাহিত্যিকগণের সাহায্যের জন্য ব্যয়িত হইবে। (১৬ ডিসেম্বর ১৯২৫)


পূবের হাওয়া

বির চির উদ্দাম তাজা সবুজ প্রাণের রঙীন ছবি যদি কবিতায় পাঠ করিয়া তৃপ্ত মুগ্ধ হইতে চাহেন তবে আজই একখানা ক্রয় করুন।

রিক্তের বেদন

টটা গল্প যেন আটটা হীরার টুকরা। গল্প পাঠের সঙ্গে সঙ্গে ভাবের উচ্ছ্বাস উধাও হয়ে ঝড়ের বেগে ছুটিতে থাকে। শব্দ চয়ন ও শব্দ বিন্যাসের এমনই বাহাদুরী যে পাঠের সঙ্গে সঙ্গে শরীরও তালে তালে নাচিতে থাকে। (৮ এপ্রিল ১৯২৬)

নজরুলের বইয়ের বিজ্ঞাপনের পর দেখা যাক বুলবুল–এর সাময়িকপত্রে মুদ্রিত কবি জসীমউদ্​দীনের ধান-খেত বইয়ের বিজ্ঞাপন:

ধান-খেত

ছড়ায় ছড়ায় জড়াজড়ি করি

বাতাসে ঢলিয়া পড়ে,

ঝাকে আর ঝাকে টিয়ে পাখিগুলি

শুয়েছে মাঠের পরে।

শ্রীঅরবিন্দ, বিনয়কুমার সরকার, প্রফুল্লচন্দ্র ঘোষ প্রভৃতি এই পুস্তক পড়িয়া অজস্র প্রশংসা করিয়াছেন। (নির্বাচিত বুলবুল, ২০০৫, পৃ. ২১৬)

আবার ১৩৪৬ বঙ্গাব্দে প্রকাশিত কৃষক পত্রিকার ঈদসংখ্যায় কাজী দীন মোহাম্মদের (বি–এ, বি–টি) গোলোকচন্দ্রের আত্মকথার একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়। ওই বিজ্ঞাপনে বইয়ের প্রচ্ছদের সঙ্গে আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের চিঠির অংশবিশেষও যুক্ত করা হয়:

তোমার বইতে ‘রস’ এর অভাব নাই। তুমি যে সামাজিক দুর্নীতির চিত্র অঙ্কিত করিয়াছ তাহা আমার হৃদয়ে সর্ব্বাপেক্ষা বেশী আকর্ষণ করিয়াছে। তুমি যে কদাচার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করিয়াছ তাহা বড় সময় উপযোগী। তোমার বাংলা সাহিত্যের উপর দখল দেখিয়া অবাক হইয়াছি। এ প্রকার গ্রন্থের যতই প্রচার হয় সমাজের পক্ষে ততই মঙ্গল।

সেকালের পত্রপত্রিকায় নানাভাবে বইয়ের বিজ্ঞাপন প্রকাশিত হয়েছে। বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত কবিতা পত্রিকায় ছাপা হওয়া বিজ্ঞাপনগুলো (১৯৫৪–৫৬) দেখলে বোঝা যায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, অমিয় চক্রবর্তী, সমর সেন—সবার বইয়ের আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন রয়েছে এখানে। কয়েকটির নমুনা:

চিত্র বিচিত্র

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ছোটো ছেলেমেয়েদের আনন্দদায়ক সরল সরস কবিতাবলী।

অনেকগুলি কবিতা এই প্রথম গ্রন্থে সংকলিত হলো। (ডিসেম্বর ১৯৫৪)

সমর সেনের কবিতা

আধুনিক বাংলা কবিতায় নিজেই একটা যুগের প্রবর্তন করেছিলেন সমর সেন। তাঁর কবিতার ভাব–ভাষা এবং গদ্যছন্দের অভিনবত্ব এমনই সংক্রামক হয়ে উঠেছিল যে, এমনকি, প্রতিষ্ঠাবান কবিরাও তার প্রভাব সেদিন এড়াতে পারেননি। (আশ্বিন ১৩৬১)

অমিয় চক্রবর্তী

পারাপার

বাঙালি কবিদের মধ্যে প্রকৃতই সর্বদেশীয় কবি’ অমিয় চক্রবর্তী, এ–কথার উজ্জ্বলতম প্রমাণ পারাপার। ...আধুনিক বাংলা কাব্যের প্রতি পাঠকের শ্রদ্ধা এবং ভালবাসাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে।

১৯৫৫ সালের জুন মাসে কবিতায় প্রকাশিত এই বিজ্ঞাপনের ওপর অমিয় চক্রবর্তীকে নিয়ে ‘রবীন্দ্রনাথ একবার লিখেছিলেন’ নামে রবি ঠাকুরের একটি উদ্ধৃতিও ছিল। উদ্ধৃতিটি এমন:

যথার্থ যা সহজ তাই দুঃসাধ্য, তোমার এই লেখায় সেই দুরূহ সহজ অনায়াসের প্রতীতি নিয়ে দেখা দিয়েছে। তোমার এই কবিতায় আধুনিকের স্বরূপ আমি দেখতে পেলুম।

কবিতা পত্রিকার (জুন ১৯৫৫) সংখ্যায় বুদ্ধদেব বসুর অভিনয়, অভিনয় নয় ও অন্যান্য গল্প–এর বিজ্ঞাপনে লেখক সম্বন্ধে বলা হয়:

আজ থেকে সাতাশ বছর আগে কুড়ি বছর বয়সের তরুণতম লেখক বুদ্ধদেব বসু যখন তাঁর প্রথম গল্পের বই অভিনয়, অভিনয় নয় ঠিক প্রথম রোদ্দুরের মতোই এই স্যাঁতস্যাঁতে বাংলাদেশের বুকে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন, তুমুল আলোড়ন উঠেছিল একটি। সাবধানী বয়স্ক সমাজ তৎক্ষণাৎ লাঠি উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন অপরিচয়ের বিস্ময়ে। কিন্তু কঠিন শীতের জরার পরে সবুজ প্রাণের আন্দোলন থামাবে কে?

বিশ্বভারতী পত্রিকা ‘বিজ্ঞাপনী’ অংশে নিয়মিতই ছাপা হতো বইয়ের বিজ্ঞাপন। শ্রাবণ–আশ্বিন ১৩৫৯ সংখ্যায় প্রকাশিত হয় হুমায়ুন কবিরের উপন্যাস নদী ও নারী বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনটি হুবহু তুলে দিয়ে লেখাটি শেষ করতে চাই:

খ্যাতনামা সাহিত্যিক হুমায়ুন কবিরের

সুবৃহৎ চিত্তাকর্ষক উপন্যাস

কত আশা, কত ব্যাথা, কত আনন্দ, কত নৈরাশ্যের আবর্তে পড়িয়া মানুষ গড়িয়াছে, ভালবাসিয়াছে, কীর্তিনাশা পদ্মার জলে সব হারাইয়াছে—কিন্তু হার মানে নাই। আবার গড়িয়াছে, আবার ভালবাসিয়াছে।

আমাদের অন্তরের সেই গূঢ় কাহিনী চোখের সামনে এতদিনে ফুটাইয়া তুলিল—

দী ও নারী

দুই শ বছরের বাংলা সাময়িকপত্রে বইপত্রের বিজ্ঞাপন প্রচারও একটি উল্লেখযোগ্য ও গুরুত্ববহ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এখানে প্রকাশক, লেখকের বয়ানে কোনো কোনো ক্ষেত্রে কিছুটা অতিরঞ্জন হয়তো ছিল। তবে বইয়ের প্রতি পাঠকদের আকর্ষণ করার ব্যাপারে এসব বিজ্ঞাপনের ভূমিকা নগণ্য নয়।

বিজ্ঞাপন
অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন