default-image

১৯৯১ সালের কোনো একদিন। ডাচ লেখক রিচার্ড ক্লিঙ্কামারের স্ত্রী হ্যানেলোর হঠাৎই উধাও হয়ে গেলেন। পুলিশের সন্দেহের তিরও প্রথমেই গেল মদ্যপ লেখক রিচার্ড ক্লিঙ্কামারের দিকে।

কিন্তু না, ক্লিঙ্কামারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের কোনো নিশানাই পেল না পুলিশ। হতাশ হয়ে মামলাটি শিকেয় তুলে রাখল তারা।

এ ঘটনার বছরখানেকের মধ্যে ক্লিঙ্কামার লিখে ফেলেন উডনেসডে: গ্রাউন্ড মিট ডে নামের একটি উপন্যাস। এ উপন্যাসের মধ্যেই কি স্ত্রী হত্যার ‘ক্লু’ রেখে গেলেন তিনি? এটিই কি কাল হলো তাঁর জন্য? উপন্যাসের কাহিনির কেন্দ্রে ছিল তাঁর হারিয়ে যাওয়া স্ত্রী হ্যানেলোর। আরও চমকপ্রদ ব্যাপার হলো, এখানে হ্যানেলোরকে হত্যা করার বিস্তারিত বর্ণনা ছিল। বইটি ছিল সাত খণ্ডে বিভক্ত। প্রতি খণ্ডেই ছিল নতুন নতুন উপায়ে নিজের স্ত্রীকে হত্যার পদ্ধতি। একটি অধ্যায়ে ছিল মাংস গুঁড়া করার যন্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে হত্যা করে অতঃপর সেই মাংস পাখিদের খাওয়ানোর বর্ণনা।

বিজ্ঞাপন

বইটি রাতারাতি রিচার্ড ক্লিঙ্কামারকে খ্যাতি এনে দেয়। এর মধ্যে এক দম্পতির কাছে নিজের বাড়িটি বেচে দেন ক্লিঙ্কামার। এ সময় ওই দম্পতি বাড়িটি সংস্কারের জন্য দেয়াল ভেঙে ফেললে বের হয়ে আসে কঙ্কাল। বলা বাহুল্য কঙ্কালটি ছিল হ্যানেলোরের।

এবার দুইয়ে দুইয়ে চার মেলাতে পুলিশের কোনো অসুবিধা হয় না। ১৯৯২ সালে ক্লিঙ্কামারকে গ্রেপ্তার করে তারা। পরে রিচার্ড ক্লিঙ্কামার স্বীকার করেছিলেন যে মাংস গুঁড়া করার যন্ত্র দিয়ে নয়, বউকে তিনি মেরেছিলেন মুগুর দিয়ে পিটিয়ে। এ ঘটনায় অবশ্য ছয় বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল রিচার্ড ক্লিঙ্কামারের।

সূত্র: লিস্টভার্স ডটকম

অন্যান্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন