বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমি তাই দৃঢ় শার্সি এঁটে দিই প্রতিটি জানালায়,

দেয়ালেরও ছিদ্র দিই বুজিয়ে লাগিয়ে কঠিন কুলুপ।

দাসত্বের কলঙ্ক লাগা একফোঁটা আলোও নয়,

দুদিনের বিলাসের বিনিময়ে বিকানো

শ্বাসপ্রশ্বাসের একবিন্দুও শব্দ নয়।

অবরুদ্ধ নগীর বিস্বাদ সূর্যোদয়ে

কারা প্রাণ খুঁজে ফেরে, রাহুগ্রস্ত পূর্ণিমায়

কারা উঠে যায় এখনো খোলা ছাদে, কে ভাবে

বুড়িগঙ্গা থেকে আজও বয়ে আসে দখিনা উল্লাস,

তাদের কাউকেও জানি না আমি, হোক না পরম আত্মীয় তারা,

রক্তের দোসর, আমার আত্মার কেউ নয় তারা আজ।

নগরীর বন্দিত্বে আমার বন্দিত্ব গেছে মিশে।

আত্মগোপনের গণ্ডি আঁকি তাই প্রাণপণে চারপাশে,

দুহাতে ঠেকাই চেনাজানা, আত্মসর্বস্ব প্রীতিমিলনের হাওয়া,

পার্কের কৌতুক এবং জীবনের সকল সচল বিড়ম্বনা।

অবরোধে যেখানে কঁকায় অগণিত দালানের ইটকাঠ,

অসংখ্য অজগর–পথ, শহরের মলিন উদাস গাছপালা,

সেখানে প্রতীক্ষায় উন্মুখ শিরদাঁড়া মেলে থাকি।

কবে অপচ্ছায়া যাবে সরে, কবে কবে?

আমি শুধু দিন গুনে যাই।

আমার দুই চোখ শুধুই

বাংলার দৃশ্যাবলি হয়ে গেছে,

চেতনায় প্রতিরোধ, শুধু দুই হাতে অবিরাম জিগাংসা খরতাপ

আমার সামান্য শার্টটাও মুক্তির হাওয়ায়

পতাকার মতো ওড়ার তৃষ্ণায় স্বপ্নান্ধ হয়ে গেছে আজ।

আমি বাতাসে নাক পেতে থাকি।

কবিতা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন