বিজ্ঞাপন

আমি বললাম, ‘তা করা যায় বটে। গ্রামে কুমির না থাকলে সে আর কিসের গ্রাম।’
আমি পত্রিকায় চিঠিপত্র কলামে চিঠি লিখলাম, মুকুলপুর গ্রামে জলাবদ্ধতা। আবার শীতকালে জমিগুলো পানির অভাবে শুকিয়ে কাঠ। একটা খাল কাটলেই তো হয়। রূপশ্রী নদীর উত্তর থেকে দক্ষিণে দুই মাইল একটা খাল কেটে দিলেই সমস্যার সমাধান।

শুধু চিঠি লিখলে কি আর হয়! এলাকায় মুকুলপুর খাল বাস্তবায়ন কমিটি করা হলো। সকালবিকাল মানববন্ধন। ফেসবুকে লাইভ।
শেষে কর্তৃপক্ষের টনক নড়ল।
এলাকায় খাল কাটার জন্য অর্থ বরাদ্দ হলো।

এলেন একজন। তিনি এলাকায় খাল খনন করার ঠিকাদারিটা নিলেন। কোটি কোটি টাকা চলে গেল তার পেটে। খালের নামে একটা নর্দমা-মতো কাটলেন। অসুবিধাটা হলো, শীতকালে তাতে নদীর পানি আসে না। কিন্তু বর্ষাকালে বন্যার পানি এসে পুরো গ্রাম তলিয়ে দেয়।

আমাকেই এগিয়ে আসতে হলো। খাল সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটি করলাম। আবার লেখালেখি, আবার আন্দোলন। আবারও কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ হলো।
ঠিকাদার আবার কাজ পেলেন। খালটা বন্ধ করে দেবার কাজ।
অনেক দিন পর কুমিরের সঙ্গে দেখা। ‘কই, তুমি তো আমাকে তোমাদের গ্রামে নিলে না!’

আমি বললাম, ‘ঘটনা কী ঘটেছে তোমাকে বলি। আমাদের এলাকায় খাল কাটতে এসেছিলেন একজন ঠিকাদার। তিনি এলাকায় এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আর এলাকা থেকে শত শত যুবকের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা নিয়ে তাদের পাচার করেন। ভূমধ্যসাগরে রাবারের নৌকাডুবিতে যে ৪৫ জন বাংলাদেশি মারা গেল, তাদের ৪০ জনই আমাদের গ্রামের।’

কুমির হেসে বলল, ‘সত্যিই, তোমরা খাল কেটে আসল কুমিরটাকেই নিতে পেরেছ।’
আমাদের গ্রামে কুমির নাই, এই দুঃখ আমাদের আর রইল না।

গল্প থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন