default-image

আগামীকাল ২৫ বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মজয়ন্তী। শান্তিনিকেতন আর জোড়াসাঁকোয় কবিগুরুর স্মৃতি খুঁজে ফেরা নিয়ে এই লেখা
প্রেমিকের বাড়ি যেতে চাই।
সে কী! কেন? আর যেতে চাইলেই হলো নাকি? কেউ যেতে দেবে? সাহস কত বড়! মেয়ে নাকি প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়ি যাবে!
কীভাবে বোঝাই, দেখা তো আর হবে না! শুধু বাড়িটাই দেখতে যাব।
দেখা হবে না কেন?
হবে কী করে? প্রেমিক যে অভিমানে আগেই চলে গেছে দূরে, দূরে, দূরে, অনেক দূরে! তাকে এখন পাই কেবল মনে মনে! অবশেষে যাওয়ার সুযোগ পেলাম। যখন যাচ্ছি, তখন সারা রাস্তা নিজের মনে ভাবতে ভাবতে গিয়েছি,‘তিনি আমার প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ, আত্মার শান্তি।’ পৌঁছে যখন প্রথম ঢুকলাম, ঢুকেই দেখি লেখা, ‘তিনি আমার প্রাণের আরাম, মনের আনন্দ, আত্মার শান্তি’। ছাতিমতলা, শান্তিনিকেতন। পা দিতেই যেন ভেতর ঠেলে কান্না আসতে লাগল! শুধু মনে হচ্ছিল, কেন আমি এত পরে জন্ম নিলাম? কেন তাঁকে চোখের দেখাটুকু দেখতে পারলাম না? প্রিয় রবিবাবু, রবিঠাকুর, গুরুদেব, ভানু দাদা, তুমি কোথায়?

default-image

একে একে দেখলাম ছাতিমতলা, বকুলবীথি, আম্রকুঞ্জ, শালবীথি, নতুন বাড়ি, দেহলি, সিংহ সদন, পূর্ব তোরণ, পশ্চিম তোরণ, গৌর প্রাঙ্গণ, উপাসনালয়, ঘণ্টাতলা। দেখলাম জাদুঘর। কবিগুরুর ব্যবহার করা জিনিসপাতি। ইচ্ছা করে ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখি, কিন্তু উপায় নেই! সব তো কাচের বাক্সে বন্দী। আছে শেষযাত্রার একটা বিশাল বড় ছবি। দেখে কেন যে চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ল, জানি না! কত কত মানুষ তখন আশপাশে, তাদের মধ্যে আড়াল হয়ে চোখের পানি লুকাই। জাদুঘর দেখে বের হয়ে বাড়ি দেখার জন্য গেলাম। একটা না, দুইটা না, পাঁচটা বাড়ি! সবগুলোই দেখলাম এক এক করে আর নামগুলোও কী দারুণ—উদয়ন, কোণার্ক, শ্যামলী, পুনশ্চ, উদীচী। বাড়িগুলোর যেসব ঘরে উনি থাকতেন, সেগুলোর ভেতরে ঢোকা যাবে না, কাছে দাঁড়িয়ে দেখা যাবে। ভীষণ ইচ্ছা করছিল, একটা কোনো খাটে গিয়ে পা গুটিয়ে বসে পড়ি। আর গিয়ে বসলেই হয়তো রবিঠাকুর এসে হাজির হবেন সামনে। চোখ নাচিয়ে মুচকি হেসে বলবেন, ‘সময় পাওয়া গেল তাহলে আসার জন্য?’ এমন হবে না, জানি। কিন্তু ওই তিনিই তো বলে গেছেন, না? ‘কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা, মনে মনে...’ এত্ত নজরদারির মধ্যে আছে বাড়িগুলো, দূর থেকে দেখা ছাড়া আর কোনো গতি নেই! একদম শেষ বাড়ি, উদীচীতে ঢুকে যে জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরটা দেখা যায়, সেই জানালা দিয়ে হাত বাড়িয়ে সেখানে রাখা চেয়ারের হাতলটা চট করে একটু ছুঁয়ে দিলাম, পাহারাদারের চোখ ফাঁকি দিয়ে। আহ! মনে হলো যেন তাঁকেই একটু ছুঁতে পারলাম। এই চেয়ারে তিনি বসতেন, হাত রাখতেন। আজকে আমি একটু হাত রাখলাম। কী যে শান্তি!

default-image

হেঁটে হেঁটে ঘুরে ঘুরে দেখলাম আমার রবিঠাকুরের শান্তিনিকেতন। যেখানে ক্লাস হয়, ছাত্রছাত্রীরা এসে বসে, সেখানেও খানিকক্ষণ বসে থাকলাম। প্রচণ্ড আফসোস হলো, কেন আমাকে এখানে পড়তে পাঠানো হয়নি! এই পথ, এই গাছপালা, এই ঝরাপাতা, এই আলো-ছায়া, এই ধুলা হাওয়া—এই সবকিছুর মধ্যেই তিনি ছিলেন। তিনি আছেন। নিজের অজান্তেই বলছিলাম বারবার, মনে মনে—
এই লভিনু সঙ্গ তব, সুন্দর হে সুন্দর!
পুণ্য হল অঙ্গ মম, ধন্য হল অন্তর
সুন্দর হে সুন্দর।।
আমার এখনো মনে আছে, প্রথম যেদিন গীতবিতানে পড়লাম ‘এই লভিনু সঙ্গ তব’, ঝরঝর করে পানি পড়েছিল দুই চোখ দিয়ে। এত অদ্ভুত সুন্দর করে কীভাবে লিখতে পারে কেউ? তিনি কি আমার মতো, আর দশজনের মতোই রক্তমাংসের মানুষ? নাকি মানুষের ঊর্ধ্বে অন্য কিছু? তখন তো আর জানি না—একদিন তাঁরই জন্য তাঁর এই লেখা আমার মনের মধ্যে গুনগুন করে বাজবে!
অনেককেই বলতে শুনি, শান্তিনিকেতনে দেখার মতো কী আছে? সকালে গিয়ে বিকেলে চলে এলেই হয়। ওখানে থাকার তো কিছু নেই! আর আমি দুই দিন থেকে যখন চলে আসার সময় হলো, তখন মনে হচ্ছিল যেন আত্মাটা বের হয়ে যাচ্ছে! কী যেন ফেলে চলে যাচ্ছি! কান্না পাচ্ছিল খুব, কেন আমাকে ফিরতে হবে? কেন আমি এখানে থেকে যেতে পারি না? আসলে রবিঠাকুরকে গভীরভাবে অনুভব না করলে, ভালোবাসতে না পারলে শান্তিনিকেতন ভালো না লাগাটা অস্বাভাবিক নয়। আমি তো তাদের রীতিমতো হিংসা করি, যাদের বাড়ি শান্তিনিকেতন। ওদের কী কপাল! তবে আমার কপালও কিছুটা ভালো ছিল, তাই এক বুধবার সকালে আমি থাকতে পেরেছিলাম ওখানে। শান্তিনিকেতনে সাপ্তাহিক ছুটির দিন হয়েছে এবং উপাসনার জন্য বুধবার নির্দিষ্ট। ভোরে ঘুম ভেঙে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা লাইন ধরে উপাসনা গৃহে আসছে, সবাইকে আসার জন্য আহ্বান করে ঘণ্টাতলায় কিছুক্ষণ পরপর ঘণ্টা বাজছে। সঙ্গে হালকা বাতাস, আর পাখির আওয়াজ। কী যে একটা অন্য রকম পরিবেশ, একটা অসাধারণ অনুভূতি, সেটা বলে বোঝানোর মতো না! উপাসনা শুরু হতেই মোবাইলের রেকর্ডারটা অন করে দিলাম আমি। আর কখনো, কোনো দিন আবার এখানে আসা হয় কি না হয়, তাই যতটা সম্ভব নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথের লেখা থেকে পাঠ হচ্ছে। পড়া হলো ‘বিজয়া-সম্মিলন’ থেকে, ‘মনে রাখিতে হইবে, আজ স্বদেশের স্বদেশীয়তা আমাদের কাছে যে প্রত্যক্ষ হইয়া উঠিয়াছে ইহা রাজার কোনো প্রসাদ বা অপ্রসাদে নির্ভর করে না; কোনো আইন পাস হউক বা না হউক, বিলাতের লোক আমাদের করুণোক্তিতে কর্ণপাত করুক বা না করুক, আমার স্বদেশ আমার চিরন্তন স্বদেশ, আমার পিতৃ পিতামহের স্বদেশ, আমার সন্তানসন্ততির স্বদেশ, আমার প্রাণদাতা শক্তিদাতা সম্পদদাতা স্বদেশ, কোনো মিথ্যা আশ্বাসে ভুলিব না, কাহারো মুখের কথায় ইহাকে বিকাইতে পারিব না, একবার যে হস্তে ইহার স্পর্শ উপলব্ধি করিয়াছি সে হস্তকে ভিক্ষাপাত্র বহনে আর নিযুক্ত করিব না, সে হস্ত মাতৃসেবার জন্য সম্পূর্ণভাবে উত্সর্গ করিলাম।’ শুনে যেন গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। আজ থেকে ১১১ বছর আগে লিখেছিলেন রবিঠাকুর, সেই ১৯০৫ সালে। অথচ মনে হলো যেন এখনকার জন্যই লেখা, বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে উপযোগী এবং খুবই দরকারি।

উপাসনা শেষে সেদিনই ফিরব। মন খুব খারাপ। ক্ষণে ক্ষণে চোখ ভরে যাচ্ছে পানিতে। এলোমেলো হেঁটে বেড়ালাম ঘণ্টা খানেক। ফিরতে তো হবেই! কত কত পাতা পড়ে আছে মাটিতে। কুড়িয়ে নিলাম বেশ কয়েকটা। শান্তিনিকেতনের গাছের পাতা। আমার কাছে থাকবে ওগুলো, শান্তিনিকেতনের স্মৃতি। তখনই মনে মনে ঠিক করলাম, জানি না পারব কি না, প্রতিবছর একবার করে শান্তিনিকেতন আসব। কাজের চাপে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে গেলে নিজেকে নতুনভাবে তাজা করার জন্য এর চেয়ে শান্তিময় জায়গা আর কোথায় আছে?

default-image

জোড়াসাঁকোর পথে
কলকাতা ফিরে জোড়াসাঁকো গেলাম। আগেও একবার গিয়েছি, গত বছর। আবারও গেলাম। কলকাতা গিয়ে জোড়াসাঁকোতে ঢুঁ না দিয়ে ফিরে আসার কথা কি ভাবা যায়? খাবার ঘরের পাশের ঘরে একটা কাচের আলমারিতে ওনার গায়ের জামা রাখা আছে। তালাবদ্ধ আলমারি। মাথায় হঠাৎ একটা দুষ্টু বুদ্ধি এল। আমি যদি কোনোভাবে আলমারিটা ভেঙে ফেলি, তাহলে কী হবে? আমাকে ধরে নিয়ে যাবে, জরিমানা করবে, শাস্তি দেবে, আটকে রাখবে বা আরও বেশি কিছু। কিন্তু একবার যদি আমি ভাঙতে পারি, তাহলে আমি রবিবাবুর জামাগুলো একটু ধরতে পারব, একটু নাকে লাগিয়ে শুঁকে নিতে পারব। এই পাওয়ার কাছে তো কোনো শাস্তিই বড় হতে পারে না, কোনোমতেই না। কিন্তু দুষ্টু বুদ্ধিকে মাথার মধ্যেই রাখলাম, বাইরে আসতে দিলাম না। যে ঘরে তিনি মারা গেছেন, সেই ঘরে ঢুকেই হাউমাউ করে কান্না আসে আমার। আগের বারও হয়েছিল, এবারও তাই। আবারও মুখ নিচু করে, চোখ লুকিয়ে কান্না গিলে ফেলা! অদ্ভুত! একজন কবি, তাঁকে কখনো চোখে দেখিনি, শুধু তাঁর লেখা পড়েই তাঁকে ভালোবেসেছি। সেই ঘরটাতে দাঁড়িয়ে, যেখানে ঘটেছে বিশ্বকবির জীবনাবসান, কেন বুকের ভেতর এমন হাহাকার করা কষ্ট হয়? বারবার? সেই ঘরের দেয়ালে কবিগুরুর হাতে লেখা ফ্রেমে বাঁধাই করে রাখা আছে—
‘যাবার দিনে এই কথাটি বলে যেন যাই—
যা দেখেছি যা পেয়েছি তুলনা তার নাই।’
মনে হয় শুধু লেখা না, যেন তিনি নিজের মুখে বলছেন কথাগুলো! মনে পড়ল, কবিগুরু মারা যাওয়ার পর আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম একটি কবিতা রচনার মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথকে তাঁর অন্তরের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন, ‘রবিহারা’। লিখেছেন—
‘এত ভালোবাসিতে যে তুমি এ ভারতে ও বাংলায়
কোন অভিমানে তাঁদের আঁধারে ফেলে
           রেখে গেল হায়!’
যা-ই দেখি, ছবিতে বেঁধে নিতে ইচ্ছা করে। কিন্তু সেই অনুমতি নেই। একবার মনে হলো, যাঁরা এখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন, তাঁদের চাকরিটাই শ্রেষ্ঠ চাকরি। ওঁরা সারা দিন আমার ভানু দাদার কাছে কাছে থাকেন। যখন যে ঘরে খুশি, যেতে পারেন। ওঁদের আটকানোর কেউ নেই। কী আনন্দ ওঁদের জীবনে! ইশ! আমি যদি এই চাকরিটা পেতাম!

জোড়াসাঁকো থেকে বের হয়ে আসার সময় একবার পেছন ফিরে তাকালাম। জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ী এখন রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। সামনেই রবিবাবুর যে ভাস্কর্য, মনে হলো যেন জিজ্ঞেস করল আমাকে, ‘কী? বিশেষ কিছু বলার ছিল নাকি?’ মনে মনে বললাম, ‘না গো, শুধু বলতে এলাম ভালোবাসি।’

গুরুদেবকে ঠিক কোন সময় থেকে এমন ভালোবাসি, বলতে পারব না। কখনো মেজাজ গরম, গীতবিতানটা একটু দেখে নিই বা একটু অবসর, গীতবিতানে একবার চোখ বোলাই। আর এখন অনলাইন হওয়াতে তো আরও বেশি সুবিধা। যখন যেখানে খুশি, গীতবিতান হাতের মুঠোয়। অনেক সময় এমনও হয়, প্রিয় কাউকে কোনো উপহার দিতে চাইলে সঙ্গে হয়তো কিছু লিখেও দিতে ইচ্ছা করে। তখন গীতবিতান ঘাঁটি, আর মনে মনে ভানু দাদাকে বলতে থাকি, ‘দাও না গো, একটা বিশেষ কিছু লিখে। খুব দরকার। তুমি তো জানোই আমার মনের কথা সব। আমার মন বুঝে, আমার মনের মতো করে একটা লেখা দাও না, প্লিজ।’ শুনে তিনি হাসেন। বড় বড় দাড়ি-গোঁফের আড়ালে হাসিটা খুব ভালো দেখা যায় না, কিন্তু বোঝা যায় যে মুখে হাসি। এবং আজব ব্যাপার যে ঘাঁটতে ঘাঁটতে পেয়েও যাই ঠিক। হেন বিষয় নেই, যা নিয়ে তিনি লেখেননি। রোজদিন ভানু দাদাকে অন্তত একবার করে হলেও বলি, ‘তোমার একজীবনে তুমি যত লিখে গেছো, আমার সারা জীবনেও সেই সবটা পড়ে শেষ করা সম্ভব না।’

কলকাতা ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের ভেতরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা ছবি দেখে একেবারে আটকে গেলাম। তাঁর আকর্ষণ অনিবার্য। কী যে সৌম্যদর্শন দেখাচ্ছে তাঁকে ওখানে। তিনি এমনিতেই সুদর্শন, কিন্তু সেই ছবিটাতে যেন বাড়াবাড়ি রকমের সুন্দর লাগছে! ইচ্ছা হলো, চুপ করে ছবিটা খুলে নিয়ে ব্যাগে ভরে ফেলি। কিন্তু অত মানুষের ভিড়ে সেটা তো আর সম্ভব না। তাকিয়ে তাকিয়ে কেবল ভাবলাম, মানুষ ঠিকই বলে, স্রষ্টা যাকে দেন, তাকে একদম সবটুকু ঢেলে দেন। এই ভদ্রলোক সে কথার একটা জলজ্যান্ত উদাহরণ। আর সে কারণেই তো দুনিয়াজুড়ে কত কোটি কোটি নারী তাঁকে আকুল হয়ে ভালোবাসেন! তাই শেষ করি ভালোবাসা নিয়ে ওনার বলা কথা ধার করেই, ‘আমরা যাকে ভালোবাসি, অন্য লোকের কাছে সে একটি দৃশ্যমান আকারবিশিষ্ট মানুষমাত্র; কিন্তু আমার কাছে সে একটি অপরূপ ভাবের জ্যোতিতে দীপ্যমান, আমার কাছে সে অসীম অনন্ত।’ প্রিয় রবিবাবু, আমার রবিঠাকুর, আমার কাছেও তুমি অসীম, অনন্ত তোমার জন্মদিনে অসীম শুভেচ্ছা, অনিঃশেষ ভালোবাসা। বিধাতা তোমাকে ভালো রাখুন, শান্তিতে রাখুন।

লেখক: চাকরিজীবী

বিজ্ঞাপন
নিবন্ধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন