বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

৩.

বাংলাদেশে ছাপচিত্র বিষয়ে মাহমুদুল হকের অবদান ছিল অসামান্য। বলা চলে, এ দেশে ইন্টেগ্লিও পদ্ধতিতে মেজোটিন্ট মাধ্যমকে শিল্পীদের জন্য ব্যবহারিক করে তুলেছিলেন তিনিই। ঢাকা চারুকলার ছাপচিত্র বিভাগটিকেও যথাযথভাবে গড়ে তোলার পেছনে তাঁর অবদান আমাদের বিশেষভাবে স্বীকার করতে হবে।
মাহমুদুল হক নিজেও কাজের ক্ষেত্রে সম্ভবত ছাপচিত্রকেই বেশি অগ্রাধিকার দিতেন। তাঁর মেজোটিন্টে করা সাদাকালো রঙে ছাপচিত্রের কাজগুলোকে তাঁর পেইন্টিং থেকে এগিয়ে রাখা যাবে। পাশাপাশি বিমূর্ততার প্রতি তাঁর আকর্ষণকে তিনি যেমন পেইন্টিংয়ের ক্ষেত্রে অপরিহার্য করে তুলেছিলেন, ছাপচিত্রের ক্ষেত্রেও তা–ই। আর এ বিমূর্ততাই তাঁর ছাপচিত্রের বিশেষ দিক হিসেবে প্রতিবিম্বিত হয়েছিল।

বাংলাদেশে ছাপচিত্র বিষয়ে মাহমুদুল হকের অবদান ছিল অসামান্য। বলা চলে, এ দেশে ইন্টেগ্লিও পদ্ধতিতে মেজোটিন্ট মাধ্যমকে শিল্পীদের জন্য ব্যবহারিক করে তুলেছিলেন তিনিই। ঢাকা চারুকলার ছাপচিত্র বিভাগটিকেও যথাযথভাবে গড়ে তোলার পেছনে তাঁর অবদান আমাদের বিশেষভাবে স্বীকার করতে হবে

৪.

ব্যক্তিগতভাবে আমি বিমূর্ত ধারার শিল্পী বা ‘অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্টিস্ট’দের সঙ্গে খুব বেশি যোগাযোগ ঘটাতে সক্ষম হই না। এক অর্থে বলা যায়, আমি বিমূর্ত ধারার শিল্পীদের ভালো বুঝতে পারি না। কিন্তু বিমূর্ত পথ দিয়ে জীবন ও জগৎকে দেখার প্রচেষ্টাকে আমার কাছে সব সময় বিশেষ ঘটনা মনে হয়। যিনি তা করতে চান বা করেন, নিশ্চয়ই তাঁর মধ্যে জগতের অন্য কোনো ইঙ্গিত কাজ করে। মাহমুদুল হকের বিমূর্ত ধারার কাজগুলো নিয়েও এ রকম বলা যায়।

তাঁর ছবিতে যে বিমূর্ততা তিনি হাজির করতেন, সেটা খুবই নিপুণ ও অভিজ্ঞ ছিল। প্রকৃতির বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে তিনি তাঁর ছবির উপাদান সংগ্রহ করতেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর ‘দ্য রেইন সিরিজ’ ও ‘স্টোন সিরিজ’-এর কথা উল্লেখ করা যেতে পারে।

মাহমুদুল নিজের শিল্পচিন্তা ও কাজ নিয়ে তাঁর অবস্থান এভাবে ব্যক্ত করেছিলেন, ‘জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে আমি নানান বিষয নিয়ে কাজ করেছি, মূলত সময় আর চৈতন্যকে বোঝার অভিজ্ঞতাই আমার এই যাত্রার সঙ্গী। সার্বিকভাবে, বাস্তব জীবনের বিষয়গুলোই আমার ছবির “সাবজেক্ট ম্যাটার” হিসেবে বিবিধ ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বের হয়ে আসে। …যেই মাধ্যম ও টেকনিক ব্যবহার করি আমি, সেটার কারণে আমার ছবির ধরন ও বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হতে থাকে। কিন্তু ওই পরিবর্তনগুলো প্রবলভাবেই আমার বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন।’

default-image

মাহমুদুল হকের জীবনকাল

জন্ম ১৯৪৫ সালে বাগেরহাটে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত। তারপর তিনি জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক হিসেবে ২০০৪ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগে তিনি বুয়েটের আর্কিটেকচার বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ ছাড়া পাকিস্তানের ইনডাস ভ্যালি স্কুল অব আর্টে ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে এবং জাপানের সুকুবা বিশ্ববিদ্যাল ও আমেরিকার নেবরাস্কা বিশ্ববিদ্যালয়েও ভিজিটিং অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

২০১৯ সালে চারুশিল্প শিক্ষায় অবদানের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ এই শিল্পীকে ‘জয়নুল সম্মাননা ২০১৯’ প্রদান করে। এ বছরের ১১ জানুয়ারি তিনি মারা যান।

নিবন্ধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন