নতুন মজুরিকাঠামো বাস্তবায়নে এই গড়িমসির ব্যাপারে বিজিএমইএর কোনো পদক্ষেপ নেই। অথচ মজুরি বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় ক্ষতি দেখিয়ে সংগঠনটি পোশাকমালিকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিয়েছে, আরও কিছু সুবিধা প্রক্রিয়াধীন। এমন অবস্থায় নতুন মজুরিকাঠামোর শতভাগ বাস্তবায়নে কারখানার মালিকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা বিজিএমইএর নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু এই দায়িত্ব সংগঠনটি পালন করছে না। সরকারের তরফ থেকেও এই ক্ষেত্রে কোনো তদারকি নেই। সরকার যদি ভেবে থাকে, নজরদারি ছাড়াই শতভাগ পোশাকমালিক নতুন মজুরিকাঠামো অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করবেন, তবে সেটা যে বিরাট এক ভুল, তা প্রমাণিত। জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সভাপতি, যিনি পোশাকশ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি বোর্ডে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি ছিলেন, তিনি যথার্থই বলেছেন যে সরকার ও বিজিএমইএর তদারকি ছাড়া নতুন মজুরিকাঠামোর বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

এখানে বিজিএমইএর সক্রিয়তা যে অত্যন্ত জরুরি, তা সংগঠনটির নেতাদের উপলব্ধি করা উচিত। কারণ, পোশাকমালিকদের জন্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা আদায়ে তৎপরতার সঙ্গে সঙ্গে তাদের নৈতিক বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি হয় শ্রমিকদের স্বার্থ, বিশেষত তাদের কাছে প্রতিশ্রুত প্রাপ্তিগুলো নিশ্চিত করার। তৈরি পোশাকশিল্পের স্বার্থ মানে তো কেবল মালিকদের স্বার্থ নয়, শ্রমিকদের স্বার্থও। শুধু নৈতিক বাধ্যবাধকতা নয়, নতুন মজুরিকাঠামো বাস্তবায়নের আইনি দিকও রয়েছে। পোশাকমালিকেরা এটি বাস্তবায়নে বাধ্য আইনিভাবেই; কিন্তু তাঁরা সেটা না করলে তার প্রতিকার চাইতে শ্রমিকেরা ব্যক্তিগতভাবে আদালতের শরণাপন্ন হবেন, এমন বাস্তবতা দুঃখজনকভাবে অনুপস্থিত। এ ক্ষেত্রে বিজিএমইএ মালিকদের ওপর চাপ দিয়ে সেটা করতে পারে এবং তা করাই তাদের দায়িত্ব।

পোশাকমালিকদের উপলব্ধি করা উচিত যে শ্রমিকদের প্রতি ন্যায্য আচরণের বিকল্প নেই। নতুন মজুরিকাঠামো অনুযায়ী মজুরি পাওয়া তাঁদের ন্যায্য অধিকার। যেসব মালিক এখনো নতুন মজুরিকাঠামো অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করেননি, তাঁদের উচিত বকেয়াসহ তা পরিশোধ করা। আর সিপিডি যেমন বলেছে, সরকার, পোশাকমালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করে নতুন মজুরিকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন তদারকির দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন
মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন