দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন

ক্রেস্টের স্বর্ণ কেলেঙ্কারি

বিজ্ঞাপন

বিএসটিআইয়ের সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৬ এপ্রিল প্রথম আলোয় ‘ক্রেস্টের স্বর্ণের ১২ আনাই মিছে’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, সেই কমিটি গত বৃহস্পতিবার তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে৷ প্রতিবেদনের সার তথ্য হলো: স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে অবিস্মরণীয় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও সংগঠনকে দেওয়া সম্মাননা স্মারকের ক্রেস্টে সোনা-রুপা না দিয়ে সাত কোটি তিন লাখ ৪৬ হাজার ২৮০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে৷ অবিশ্বাস্য এই জালিয়াতি শুধু গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ নয়, জাতির জন্য বিরাট এক কলঙ্ক, যা সহজে মোচন হওয়ার নয়৷
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এ জন্য দায়ী করা হয়েছে ১৩ ব্যক্তি ও দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে৷ তাঁদের মধ্যে আছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ বি তাজুল ইসলাম, যিনি একজন সনদপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা৷ এখন তিনি নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে সচিব ও অন্য কর্মকর্তাদের ওপর সব দায় চাপাতে চাইছেন৷ কিন্তু তিনি কোনোভাবেই দায়িত্ব এড়াতে পারেন না৷ কারণ, সবকিছু দেখভাল করার প্রধান দায়িত্ব তাঁর ওপরই বর্তায়৷ ইন্দিরা গান্ধীর জন্য তৈরি করা ক্রেস্টে প্রথমে ১০ ক্যােরটের স্বর্ণ দেওয়া হয়েছিল, পরমাণু শক্তি কমিশনের পরীক্ষায় সেটা ধরা পড়লে এটা আগেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল যে প্রতিষ্ঠানটি অন্য ক্রেস্টগুলোতেও সোনা-রুপায় ফাঁকি দিতে পারে৷ এই প্রসঙ্গ তোলাও হয়েছিল, কিন্তু তখন কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি৷
উদ্যোগটির পরতে পরতে অনিয়ম ও জালিয়াতির তথ্য তদন্ত প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে৷ সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে৷ বিধিবিধান উপেক্ষা করে প্রতিমন্ত্রীর ভাগনেকে ক্রেস্ট সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে৷ অন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে দরপত্র ছাড়াই কীভাবে বাছাই করা হয়েছে, সে ব্যাপারেও কোনো স্বচ্ছতা নেই; এটা নিয়ে পরস্পরের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা চলছে৷ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সূত্রে এসব বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য ছাপা হয়েছে৷ সব মিলিয়ে যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা এক যারপরনাই কলঙ্কজনক৷ অপরাধ হিসেবে এর ফৌজদারি গুরুত্বের চেয়ে অনেক গুণ বেশি হলো এর নৈতিকতার দিকটি৷
কারণ, এটা শুধু রাষ্ট্রের সাত কোটি টাকা ক্ষতির বিষয় নয়, গোটা জাতির মানমর্যাদার বিষয়৷ মহান মুক্তিযুদ্ধে যেসব বিদেিশ সংগঠন ও নাগরিক আমাদের দিকে সহযোগিতা-সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের এই মহান উদ্যোগকে যাঁরা এমন ন্যক্কারজনকভাবে প্রতারণায় পর্যবসিত করে জাতির মাথা হেঁট করে দিয়েছেন, তঁাদের অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ আগ্রহে বিদেশি বন্ধুদের সম্মাননা প্রদানের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল৷ তিনি এ বিষয়ে কী নির্দেশনা দেন, তা দেখার জন্য জাতি অপেক্ষায় থাকবে৷

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন