বিজ্ঞাপন

গত ৫০ বছরে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নতির জন্য শেখ হাসিনা তাঁর প্রথম সরকারের আমলে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞরা কাজ করেন। কিন্তু দেশের বেসরকারি খাতের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মরত চিকিৎসক-নার্সদের গুণমান বিচারের দায়িত্ব বা নজরদারি করার অধিকারও দেওয়া হয়নি। মানসিক স্বাস্থ্যসেবা খাত শুধু বিশেষায়িত খাতই নয়, এর রয়েছে বাড়তি সংবেদনশীলতা। শুধু চিকিৎসক বা নার্স নন, এই খাতের প্রতিটি স্তরের (হাসপাতালের আয়া ও ঝাড়ুদার পর্যন্ত) কর্মীদেরই দরকার উত্তম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অব্যাহত প্রশিক্ষণ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিরাট ঘাটতি চলছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাইকিয়াট্রিক বিভাগের চেয়ারম্যান ঝুনু শামসুন্নাহার মঙ্গলবার আমাদের বলেছেন, দেশে মনোরোগ চিকিৎসক এবং মনোবিজ্ঞানীর উল্লেখযোগ্য সংকট আছে। সরকারি সমীক্ষা বলছে, ১৭ কোটি মানুষের দেশে মনস্তাত্ত্বিক সমস্যায় বয়স্কদের ১৬ ভাগ ও শিশু-কিশোরদের ১৮ ভাগ ভুগছে। অথচ এ বিষয়ে ডিগ্রিধারীর সংখ্যা অনধিক ৩০০। অন্যদিকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ইনস্টিটিউটে এক দশক অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সমীক্ষার ওই ফলের চেয়ে বাস্তবে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। নারীর সংখ্যাও উদ্বেগজনক। সুতরাং সার্বিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা খাতের উন্নয়নে নতুন করে চিন্তাভাবনার অবকাশ আছে।

এটা অনুমেয় যে মাইন্ড এইডের মতো ছাড়পত্র বা অননুমোদিত ক্লিনিকের সংখ্যা কম নয়। আবার যঁারা অনুমোদিত, তঁারা যে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ‘বৈধতা’ ম্যানেজ করেননি, তা-ও বলা যাবে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও তার মন্ত্রণালয়ের উচিত এই খাতের কার্যক্রম বিষয়ে দেশবাসীর সামনে একটি পরিচ্ছন্ন চিত্র তুলে ধরা দরকার। আনিসুল করিমের ওপর নিষ্ঠুরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সেখানে দক্ষ লোকবলের অভাব ছিল। আমরা আশা করব, আনিসুল করিমের ওপর নিষ্ঠুরতার ঘটনার সূত্র ধরে সংস্কারের একটি বাস্তবসম্মত কর্মসূচি এই রাষ্ট্র গ্রহণ করবে। এই ঘটনা যেন কেবলই পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার মৃত্যুর বিচারের আলোকে না দেখা হয়।

মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন