খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়িতে কয়েক দিন ধরে আদিবাসী ও বাঙালিদের মধ্যে যে সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, তা উদ্বেগজনক বললেও কম বলা হয়। একদিকে শান্তি বৈঠক, অন্যদিকে হামলা অব্যাহত থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
১৫ ফেব্রুয়ারি একজন আদিবাসী গৃহবধূর লাশ উদ্ধার নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত হলে স্থানীয় প্রশাসন কার্যত কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়েছে। আদিবাসীদের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ছিল লোক দেখানো। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধবিহারে কেন হামলার ঘটনা ঘটবে?
পার্বত্য তিন জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মোতায়েন রয়েছে। তার পরও কীভাবে পাহাড়ি ও বাঙালিদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে? প্রশাসন যদি ‘সর্প হয়ে দংশন করো ওঝা হয়ে ঝাড়ো’ নীতিতে চলে, তাহলে কখনোই পাহাড়ে শান্তি আসবে না।
কমলছড়ির সংঘাত-সংঘর্ষের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ফলে এখনো সেখানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ অবস্থা থেকে বেরোতে চাইলে দরকার অপরাধীদের পাকড়াও করে দ্রুততার সঙ্গে বিচারে সোপর্দ করা।
আরেকটি বিষয়, পাহাড়ে বাঙালি অভিবাসীদের জন্য যেসব গুচ্ছগ্রাম হয়েছে, সেগুলো করা হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে। কোথাও আদিবাসীদের উচ্ছেদ করে কিংবা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়, এমন ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেটাই পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর আপত্তির প্রধান কারণ।
সর্বোপরি মনে রাখতে হবে, পাহাড়ে সমস্যার মূলে যে ভূমিবিরোধ, তার সমাধানে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ভূমি কমিশনের নামে বছরের পর বছর সমস্যাটি জিইয়ে রাখার সুযোগ নেই। ভূমিবিরোধ নিষ্পত্তি হলে সেখানে আদিবাসী-বাঙালির বিরোধও অনেকাংশে কমে যাবে এবং দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক ফিরে আসবে।
কমলছড়িতে সংঘটিত সংঘর্ষ ও হামলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দেওয়ার মাধ্যমেই সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0