বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

করোনায় উচ্চ হারে সংক্রমণ হয়ে যাওয়ার পরপরই নতুন করে সংক্রমণ হার বাড়ে না। বর্তমানে সংক্রমণ হার কম হওয়ার মূল কারণ এটাই। দেশে করোনার সবশেষ ঢেউয়ের কারণ ছিল ডেলটা ধরন (ভারতে শনাক্ত)। নতুন কোনো ধরন এলে আবার হয়তো সংক্রমণ বাড়বে। তাই পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কাও আছে। পৃথিবীজুড়ে যদি করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না আসে, তাহলে দেশেও সংক্রমণ আবার বাড়তে পারে। অবশ্য নতুন ধরন না এলে সংক্রমণ বাড়ার ক্ষেত্রে সময় নেবে।

দেশের মধ্যেও মানুষ এখনো করোনায় সংক্রমিত হচ্ছে। যদিও হার কম। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে মানুষের চলাচল ও জনসমাগম যত বাড়বে, সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কাও তত থাকবে। তাই শিথিলতা, গা ছাড়া ভাব দেখানোর সুযোগ নেই।

করোনার রোগী শনাক্তে যদি আমরা আরও দক্ষ হতে পারতাম, সংক্রমণের প্রাথমিক উৎস নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম, তাহলে সংক্রমণ আরও আগে কমানো যেত। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ তৈরি করতে হতো। এই উদ্যোগ এখনো দুর্বল। শুধু প্রচার করলেই হয় না।

সংক্রমণ এখন কমে এসেছে। এ পরিস্থিতি ধরে রাখতে হলে রোগী শনাক্তকরণ ও তাঁদের ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জোর দিতে হবে। করোনার লক্ষণ দেখা দিলেই যেন মানুষ পরীক্ষা করতে যায়, তেমন অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। করোনায় আক্রান্ত হলে রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শের আওতায় এনে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মানুষকে উৎসাহী করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। প্রাপ্যতা সাপেক্ষে সবাইকে টিকা দিতে হবে। তখন সংক্রমণ বাড়লেও মৃত্যুঝুঁকি কমে আসবে।

টিকাদানে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। টিকার প্রাপ্যতা বড় সমস্যা। টিকা পড়ে আছে বা গাফিলতি হচ্ছে, বিষয়টা এমন নয়। টিকা দেওয়ার সক্ষমতা আমাদের অনেক বেশি। কিন্তু সেই পরিমাণ টিকা আমরা পাচ্ছি না। সম্ভাব্য সবাইকে টিকার আওতায় আনতে পারলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

উন্নত বিশ্ব টিকা ধরে রেখেছে। স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে উৎপাদন করতে দিচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে বৈশ্বিক উদ্যোগে মেধাস্বত্ব আইন শিথিল করা প্রয়োজন। স্বল্পোন্নত দেশেও অনেক টিকা উৎপাদন সম্ভব হবে। বিশ্বের ৮০ ভাগ মানুষ টিকা পাবে।

মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন