বিজ্ঞাপন

এক পাড়ায় প্রায় ২০ বছর শৈশব-কৈশোর কাটিয়ে যখন আমরা নিজেদের বাড়িতে যাচ্ছিলাম, তখন কান্না চাপতে পারিনি। মনে হচ্ছিল নতুন জায়গায় গিয়ে কী করে থাকব? আশ্চর্যের বিষয়, কিছুদিন পর পুরোনো পাড়াতে গিয়ে বুকের গভীরের ওই কান্না আর অনুভব করিনি, তবে ফেলা আসা স্মৃতিগুলো ভিড় করছিল মনে। আজও করে। যেদিন আমাদের সেই পুরোনো বিল্ডিং ভেঙে ফেলা হচ্ছিল, হাজার ঝামেলা সত্ত্বেও গিয়ে ছবি তুলে এনেছিলাম। স্মৃতিতাড়িত হয়ে। বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, এমন কেন হলো? বাবা বলেছিলেন, ‘তুমি তো তোমার পরিবারের প্রিয় মানুষগুলোকে সঙ্গে করে নতুন বাড়িতে এসেছ। তাই তো, আমরা যে পরিবারের মানুষগুলোকে ঘিরেই থাকতে ভালোবাসি। পরিবার তো ইট-বালু-সিমেন্ট নয়।’

আর এবার নিয়ে তিনটি ঈদ এই ঢাকা শহরে থেকেও মা-বাবার কাছে যেতে পারছি না। তাঁদের বয়স ৮০, ৮১ বছর। দূর থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। শুধু চাই তাঁরা সুস্থ থাকুন, বনস্পতির ছায়া মেলে ধরুন দীর্ঘকাল। না-ই হলো পায়ে হাত দিয়ে সালাম, না-ই হলো মাথায় আশীর্বাদের স্পর্শ। দূরে থেকেও তো কাছে থাকা যায়। বিধিনিষেধ মেনে যদি তাঁদের ঝুঁকিমুক্ত রাখা যায়, তবে তা-ই হোক।

ঝুঁকিমুক্ত কথাটা আমরা বলি বটে, মানি কজন? মানুষের জীবন রক্ষার চাইতে আর কিই-বা বড় হতে পারে? বেঁচে থাকলে তবে তো পরিবারের সঙ্গে থাকা হবে। ঈদের সময় বাড়ি ফেরা মানুষের চাপে লঞ্চ ডুবে যায়, জাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে পদদলিত হয় গরিব মানুষ। এ ধরনের খবর ছাপতে ছাপতে এবং পড়তে পড়তে আমাদের ইন্দ্রিয় ভোঁতা হয়ে গেছে। আর এবার করোনাকালে বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বাড়ি ছুটে চলা মানুষের দুর্ভোগ তো দেখাই গেল। যার যায় সে-ই জানে কী যায়? ফেরি থেকে নামার সময় ভিড়ের চাপ সহ্য করে যাঁরা বাড়ি পৌঁছেছেন, তাঁরা তো বেঁচেই গেলেন। আর যে পাঁচজন পদদলিত হয়ে মারা গেলেন, তাঁদের পরিবার জানে কোন ঈদ তারা কাটাবে?

* সুমনা শারমীন: ফিচার সম্পাদক, প্রথম আলো

মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন