সারা দেশে নারী-শিশু ধর্ষণের ঘটনা প্রতিদিনের খবর। যত দিন যাচ্ছে ততই যেন নির্যাতন, হত্যা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাহাড়ে-সমতলে, ঘরে-পথে, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কল-কারখানায় থেকে শুরু করে ঘরে-বাইরে যেকোনো জায়গায় দিনে কিংবা রাতে নারীরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। এক অদৃশ্য শক্তি যেন রাষ্ট্রকে চেপে ধরে আছে, নারী নিপীড়কদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা যায় না।

শিক্ষাখাত থেকে শুরু করে চিকিৎসাখাত সর্বক্ষেত্রে দুর্নীতিতে দেশ ভরে গেছে। যার উদাহরণ হিসাবে আমরা বলতে পারি রিজেন্ট সাহেদদের ‘কারবার’, স্বাস্থ্য খাতের কেনাকাটায় ‘মিঠু চক্রের’ বিপুল দুর্নীতি, যুবলীগের ক্যাসিনো সম্রাট-খালেদের তেলেসমাতি, নরসিংদীর পাপিয়া-কাণ্ড, ফরিদপুরের দুই ভাইয়ের দিনকে রাত রাতকে দিন করার ক্ষমতাবাজির বিষয়সহ বালিশ-কাণ্ড, নারিকেল গাছ-কাণ্ড, কয়লা-কাণ্ড, লোহার রডের পরিবর্তে বাঁশ-কাণ্ডসহ নানা বিষয়ে বিভিন্ন অনিয়ম আর দুর্নীতির বিষয় দেখতে দেখতে দেশের জনগণ আজ দুর্নীতিকে স্বাভাবিক হিসাবে মেনেই নিয়েছে।

কারাগারে লেখক মুশতাকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে মানুষের কথা বলার অধিকার নেই। তার মানে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন মানুষের গলায় বেঁধে দিয়ে মানুষের বাক্‌স্বাধীনতাকে হরণ করা হচ্ছে। শুধু তাই নয় গণতন্ত্র নিয়েও জনগণের ভেতর প্রশ্ন ওঠেছে। মানুষ ভোটকেন্দ্র যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। আর অন্য দিকে ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিআইজিডি) এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) একটি যৌথ জরিপে জানানো হয়েছিল, দেশে করোনাকালে ৩ কোটি ২৪ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে। সেই সাথে করোনাকালেও নতুন কোটিপতি বেড়েছে ১৭ হাজারের বেশি।

স্বাধীনতা ৫০ বছর এসে বাংলাদেশ যখন ধনী গরিবের বৈষম্য হয় পিরামিড আকারে, তখন স্বাভাবিকভাবেই অতীতের লড়াই সংগ্রাম স্মৃতিচারণ করতে হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনসংগ্রাম বিশ্লেষণ করে শিক্ষা নিতে হয়। দেশ ও মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে তিনি ৪৬৭৫ দিন কারাগারে ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতাই ছিল জাতি হিসেবে আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। কিন্তু আজ সেই স্বাধীনতা কোথায়? নারী শিশু নির্যাতন কবে বন্ধ হবে। রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক শিক্ষানীতি কবে বন্ধ হবে। কৃষক তার কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য কবে পাবে। শ্রমিক তার ন্যায্য মজুরি কবে পাবে। মানুষ তার কথা বলার অধিকার ও ভোটাধিকার কবে ফিরে পাবে।

সারা বিশ্ব যেখানে গতিশীল সেখানে রাজধানী ঢাকায় মানুষের গতি ক্রমেই থেমে যাচ্ছে অসহনীয় যানজটের কারণে। বাংলাদেশ আজ বিশ্বে শীর্ষ দূষিত বায়ুর দেশ হিসেবে নাম লিখিয়েছে। অন্য দিকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে মানুষ এখন আর নিরাপত্তা বোধ করছেন না। জীবিকার জন্য সাধারণ মানুষ দিনান্ত পরিশ্রম করেও সংসারের চাকা সচল রাখতে ব্যর্থ হচ্ছেন। পুঁজিবাদী উন্নয়নের ফলে সামাজিক দুর্দশায় তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে রাষ্ট্রীয় মূলনীতিগুলো। দেশে বাড়ছে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা। বিলাসী ও অহেতুক উন্নয়নের নিচে চাপা পড়ছে স্বাধীনতার চেতনা। এর থেকে জনগণের প্রকৃত মুক্তি চায়।

রাশেদুজ্জামান রাশেদ সংবাদকর্মী

মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন