বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, গত শনিবার রাত ১০টা থেকে ২টা পর্যন্ত কেন্দ্রের আবাসিক ভবনে ভাঙচুর চালায় শিশুরা। এ সময় তারা কেন্দ্রের অন্তত ১০০টি বৈদ্যুতিক বাল্ব, ২টি টেলিভিশন, ৫০টির মতো পানির কল, প্রধান দুই কলাপসিবল ফটক, পানির পাইপ, শোয়ার খাট ও প্লেট-গ্লাস ভাঙচুর করে। সিঁড়িঘরের দরজা ভেঙে ছাদে ওঠে তারা। তিন শিশু পালিয়েও যায়। শহর থেকে অতিরিক্ত অন্তত ৫০ জন পুলিশ পাঠানো হয়। রাত সাড়ে ১২টার দিকে যশোরের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাজির হন। এরপর শিশুদের কয়েকটি দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে তারা শান্ত হয়।

এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এ দেশে তদন্ত কমিটি করে কি কোনো লাভ হয়? ২০২০ সালে কেন্দ্রটিতে তিন বন্দী কিশোরের হত্যার ঘটনায়ও গঠিত একাধিক তদন্ত কমিটির কোনো সুপারিশ আমলে নেওয়া হয়নি। প্রথম আলোর প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, দেশের তিন বিভাগের শিশু অপরাধীদের কেন্দ্রটিতে রাখা হয়। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত শিশুদের দেখভালে আছে অর্ধেক জনবল। খেলার মাঠসংকট, নেই ইনডোর গেম ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কোনো ব্যবস্থা। বয়স ও অপরাধ বিবেচনা করেও শিশুদের রাখা হয় না। এতে অল্পবয়সী ও ছোট অপরাধের শিশুরা আরও অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। বয়স ১৮ বছর পার হলেও কারাগারে পাঠানোয় আছে গড়িমসি ও দীর্ঘসূত্রতা। মাদকের বিস্তার ও অল্প বয়সীদের যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়া। সমস্যার শেষ নেই। এর মধ্যে করোনা পরিস্থিতিতে শিশুদের ওপর আরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত কেন্দ্রটিতে আদৌ কি কোনো শিশুর উন্নয়ন সম্ভব? এ যেন শিশুদের আরও অপরাধী বানানোরই কেন্দ্র। দিনের পর দিন এমন অবহেলা ও অব্যবস্থাপনা কেন চলে আসছে শিশুকেন্দ্রটিতে। আমরা আশা করব, আবার কোনো গুরুতর ঘটনা ঘটার আগে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রটির পরিবেশ উন্নয়নে বিশেষ নজর দেবে।

মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন