গত ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে প্রথম আলোর ‘অন্য আলো’ পাতায় ‘বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ১৩ ঘণ্টা’ শিরোনামে একটি লেখা ছাপা হয়েছে। ভারতীয় কূটনীতিক শশাঙ্ক শেখর ব্যানার্জি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ১৯৭১-এর ৯ জানুয়ারি লন্ডন থেকে ঢাকায় এসেছিলেন। লন্ডন থেকে উজ্জ্বল দাশের সাক্ষাৎকারভিত্তিক এই লেখায় শশাঙ্ক শেখর ব্যানার্জি কিছু ভুল তথ্য দিয়েছেন।

লেখাটির পঞ্চম অনুচ্ছেদে আছে—‘৯ জানুয়ারি ১৯৭২, ভোর ছয়টা। লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে পৌঁছালেন বঙ্গবন্ধু। তাঁকে স্বাগত জানালেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ বিভাগের কর্মকর্তা ইয়ান সাদারল্যান্ড ও লন্ডনে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার আপা বি পন্থ। আমাকে দেখে আবেগাপ্লুত শেখ মুজিব বলেন, “ব্যানার্জি, এখানেও আছেন!”’

তারিখটি ৯ জানুয়ারি ১৯৭২ নয়, ৮ জানুয়ারি ১৯৭২। ইয়ান সাদারল্যান্ড ঠিকই ছিলেন সেদিন। কিন্তু ছিলেন না ভারতীয় হাইকমিশনার আপা বি পন্থ বা শশাঙ্ক ব্যানার্জি। তবে সাদারল্যান্ড ছাড়া অন্য যে তিনজন বাংলাদেশি সেদিন ভোরে বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের একজন আমি। অন্য দুজনের একজন, বাংলাদেশ মিশনের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান এম এম রেজাউল করিম, এখন আর বেঁচে নেই। তৃতীয় জন, মহিউদ্দিন জায়গীরদার, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত।

শশাঙ্ক ব্যানার্জি লেখার শেষ অনুচ্ছেদে আরেকটি ভুল করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু তাঁর গল ব্লাডার অপারেশন করতে সপরিবারে লন্ডনে যান।’ বছরটি ১৯৭৩ নয়, বছরটি ১৯৭২ এবং মাসটি ছিল আগস্ট।

 সেদিনের ঘটনাগুলো আমার স্পষ্ট মনে আছে, কারণ ভোর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত লন্ডনের ক্ল্যারিজেস হোটেলে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেছি; আমার জীবনের উত্তম দিনের একটি ছিল ১৯৭২-এর ৮ জানুয়ারি। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এত সব ঐতিহাসিক স্মৃতির একটিও, এই বয়সেও এতটুকু মলিন হয়নি।

ভারতীয় হাইকমিশনার আপা বি পন্থ বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন এই দিন বেলা ১১টার দিকে; পরদিন ভোরে লন্ডন থেকে নয়াদিল্লি হয়ে ১০ তারিখে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে এই ভারতীয় হাইকমিশনার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা  রেখেছিলেন।

শশাঙ্ক ব্যানার্জিকে ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় খুব ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছি এবং জেনেছি। আমরা তাঁর নাম দিয়েছিলাম ‘ড. হুসেন’।

বিশ্বাস করতে পারছি না, শশাঙ্ক ব্যানার্জি কী করে সেদিন ভোরে লন্ডন হিথ্রো বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জে হাইকমিশনার আপা বি পন্থ এবং তাঁর উপস্থিতির কথা উল্লেখ করলেন।

এটি তাঁর স্মৃতিভ্রম না তথ্যবিকৃতি?

মহিউদ্দিন আহমদ

সাবেক সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়,

উত্তরা, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন
মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন