'গরিব' বিদ্যালয়ের কৃতিত্ব

নামীদামি অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক ও অবকাঠামো নিয়েও লেখাপড়ার সাধারণ মান ধরে রাখতে পারছে না, তখন খুলনার ‘গরিব’ স্কুল নামের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি যে কৃতিত্ব দেখিয়েছে, তা সবার জন্য অনুসরণীয় বলে মনে করি। বিদ্যালয়টির ২০১৩ সালে জেলার মধ্যে সেরা স্কুলের মর্যাদা লাভ, প্রতিবছর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিলাভ এবং প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় শতভাগ পাসের রেকর্ড সৃষ্টি বিরল ঘটনা বলেই মনে করি। আমরা এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানাই।

প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী খুলনা শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত মুহাম্মদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক হাজারের বেশি ছলেমেয়ে পড়াশোনা করে। আর সেখানে শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন মাত্র পঁাচজন। শিক্ষার্থী বেশি থাকায় সাতজন শিক্ষককে এর আগে প্রেষণে আনা হলেও গত নভেম্বরে শিক্ষক সমন্বয় কমিটির সভায় তঁাদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ফলে দুই মাস ধরে পঁাচজন শিক্ষক দিয়ে হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে পড়ানোর মতো কঠিন কাজটি করতে হচ্ছে।

যেখানে অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা শতকের ঘরে পৌঁছাতে হিমশিম খায়, সেখানে এই বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিতেই দেড় থেকে দুই শ ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করে। এমনকি বিদ্যালয়টিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষককক্ষ, খেলার মাঠ ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারও নেই।

অবিলম্বে শিক্ষা প্রশাসনের উচিত হবে বিদ্যালয়টির অবকাঠামো সমস্যার সমাধান করা। সেই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। যেখানে সারা দেশে সরকারি-বেসরকারিনির্বিশেষে প্রাইভেট টিউশনির মহামারি লক্ষ করা যাচ্ছে, সেখানে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা শত সমস্যা কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করে যাচ্ছেন। আরও উৎসাহব্যঞ্জক ঘটনা হলো, শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা ভেবে এলাকার কজন শিক্ষানুরাগী এগিয়ে এসেছেন। তঁাদের এই মহৎ দৃষ্টান্ত প্রশংসনীয়। সরকারি ও বেসরকারিনির্বিশেষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা শিক্ষার উন্নয়নে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, মুহাম্মদনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ই তার প্রমাণ।

গরিব বিদ্যালয়টি যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত অনুসরণ করেছে, অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা সেগুলো অনুসরণ করলে শিক্ষার দুর্গতি অনেকটা কমবে আশা করি।