default-image

জো বাইডেন খুব ভালো করেই জানেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রথম কয়েক সপ্তাহ পার করা সাধারণত খুব সহজ ও আনন্দজনক হয়। এই সময়টাতে প্রেসিডেন্টরা একটু আয়েশি মেজাজে থাকেন। তবে করোনা মহামারির মধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থা যখন খুবই নাজুক এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকট যখন চূড়া ছুঁই ছুঁই করছে, তখন বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন এবং সে কারণেই তাঁকে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে অবধারিতভাবে সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

গদিতে বসার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে একজন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশে বিগত প্রশাসনের নীতির উল্টো পথে গিয়ে একসঙ্গে অনেক কাজ সারতে পারেন। এ সময় তাঁর কাজে কংগ্রেস কোনো রকম হস্তক্ষেপ করে না। প্রেসিডেন্টকে তাঁর কাজ সম্পাদনে কংগ্রেস নীতিগতভাবে সহযোগিতা করবে—এ বার্তা দেওয়ার জন্যই এমন রেওয়াজ রয়েছে। বাইডেন এখন তাঁর সেই একক ক্ষমতা ব্যবহারে কোন বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবেন, সেটিই সবাই দেখতে চাইছে।

বিজ্ঞাপন

একজন নতুন প্রেসিডেন্ট তাঁর মন্ত্রিসভায় কাকে কাকে নেবেন, সে বিষয়ে তিনি একেবারে স্বাধীন থাকেন। বাইডেন যখন তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টা ও মন্ত্রী পদে যাঁদের নিয়োগ করার ঘোষণা দিলেন, তখন অনেক বিশ্লেষক কিছুটা উদ্বিগ্ন হয়েছেন। তাঁরা ভেবেছেন, নতুন ধরনের সমস্যা মোকাবিলায় পুরোনো লোকদের তিনি বেছে নিয়েছেন। অর্থাৎ বাইডেন সাফল্যের চাবিকাঠি হিসেবে অভিজ্ঞতাকেই বাজি হিসেবে ধরেছেন।

বাইডেনের মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে অতি বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে, যাঁদের মন্ত্রিসভার সদস্য করা হয়েছে, তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিভাগের জন্য লাগসই লোক কি না, সে বিষয়ে ততটা জোর দেওয়া হয়নি যতটা ‘অমুক সদস্য অমুক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম’—এটি সামনে মেলে ধরার ক্ষেত্রে দেওয়া হয়েছে। যাহোক, বাইডেন মাত্রই কেবিনেট গঠন করেছেন। এই ডামাডোল কেটে গেলে তখন বোঝা যাবে বাইডেনের সিদ্ধান্ত ভুল ছিল, নাকি ঠিক ছিল।

বাইডেন অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে ফেডারেল কোর্ট জজ মেরিক গারল্যান্ডকে নিয়োগ দিয়েছেন। এ নিয়োগকে রিপাবলিকান সিনেট নেতা মিচ ম্যাককনেলের কাছে প্রেসিডেন্টের ‘একান্ত ইচ্ছা’ মনে হতে পারে। এর কারণ ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি (ওবামা) যখন গারল্যান্ডকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ করতে চেয়েছিলেন, সে সময় সেই নিয়োগের শুনানি করতেও দিতে চাননি ম্যাককনেল। তবে যাঁরা গারল্যান্ডকে চেনেন, তাঁরা বুঝতে পারছেন ট্রাম্প বিচার বিভাগে যে ঝামেলা পাকিয়ে গেছেন, তা ঠিক করার জন্য গারল্যান্ডের নিয়োগটি সবচেয়ে লাগসই হয়েছে।

একইভাবে একসময় বাইডেন যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখনকার চিফ অব স্টাফ রন ক্লেইনকে এখন বাইডেন প্রেসিডেন্ট হয়ে তাঁর চিফ অব স্টাফ বানিয়েছেন। এ পর্যন্ত যাঁরা হোয়াইট হাউসে গেছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে অভিজ্ঞ প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশকে বলা যেতে পারে। তাঁর বাবা প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি নিজে দুই মেয়াদে টেক্সাসের গভর্নর ছিলেন এবং পরে দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তাঁকে নাইন–ইলেভেন হামলা এবং তারপর ইরাক যুদ্ধের মতো দুনিয়াকাঁপানো ঝড়কে সামাল দিতে হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

জিমি কার্টার এবং বিল ক্লিনটন দুজনই প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে গভর্নর ছিলেন। তাঁদের ওয়াশিংটনের অভিজ্ঞতা কম ছিল। কিন্তু তাঁরা দ্রুত সবকিছু সামলে নিয়েছিলেন। তবে সবচেয়ে চমক দেখিয়েছেন ওবামা। তিনি মাত্র তিন বছরের সিনেটরের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রেসিডেন্ট হন। ওবামা যখন প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন তাঁর সবচেয়ে বড় সাহায্যকারী ও ভরসাস্থল ছিলেন তাঁর তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে ৪০ বছর বাইডেন সিনেটর ছিলেন। মার্কিন প্রশাসনের কার্যক্রমের সঙ্গে সুদীর্ঘ সময় ধরে তিনি নিজেকে জড়িয়ে ছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই তিনি তাঁর মন্ত্রিসভা সাজাচ্ছেন। নবীনের তেজ আর প্রবীণের অভিজ্ঞতার মিশ্রণে আমেরিকাকে ফের নেতৃত্বে আনতে চাইছেন তিনি।

ইংরেজি থেকে অনূদিত। স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট

এলিজাবেথ ড্রু: ওয়াশিংটনভিত্তিক সাংবাদিক ও লেখক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন