অ্যাসাঞ্জকে তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের দুই শিশুসন্তানের সঙ্গে থাকার জন্য জামিন দেওয়া উচিত ছিল। তাঁকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে তাঁকে ইলেকট্রনিকভাবে ট্যাগ এবং পর্যবেক্ষণাধীন করার ওপরও জোর দিতে পারত। তাঁকে বিচার করার জন্য গুপ্তচরবৃত্তি আইনের ব্যবহারকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখা উচিত।

এই নথিগুলো প্রকাশিত হওয়ার জের ধরে অসংখ্য প্রাণহানি হয়েছে—এমনটা দাবি করা হলেও মার্কিন কর্তৃপক্ষ আফগানিস্তান এবং ইরাকের হাজার হাজার আমেরিকান সোর্সের (আমেরিকার তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করা লোক) মধ্যে একজনও খুঁজে পায়নি, যিনি উইকিলিকসের নথি প্রকাশের কারণে মারা গেছেন বলে দেখানো যেতে পারে।

অসামান্য প্রতিভা ও অনমনীয় চরিত্রের জন্য পরিচিত অ্যাসাঞ্জ ইতিমধ্যে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ২০১৯ সাল পর্যন্ত লন্ডন পুলিশ লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাস থেকে তাঁর বের হওয়ার জন্য সাত বছর অপেক্ষা করেছিল। এরপর থেকে তিনি কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত না হয়েও উচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থাসম্পন্ন বেলমার্শ কারাগারে তিন বছর কাটিয়েছেন।

অ্যাসাঞ্জকে তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের দুই শিশুসন্তানের সঙ্গে থাকার জন্য জামিন দেওয়া উচিত ছিল। তাঁকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখার জন্য কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে তাঁকে ইলেকট্রনিকভাবে ট্যাগ এবং পর্যবেক্ষণাধীন করার ওপরও জোর দিতে পারত। তাঁকে বিচার করার জন্য গুপ্তচরবৃত্তি আইনের ব্যবহারকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখা উচিত। অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে পেশ করা অভিযোগপত্র ২০১৯ সালে প্রকাশ পাওয়ার পর নাইট ফার্স্ট অ্যামেন্ডমেন্ট ইনস্টিটিউটের ক্যারি ডিসেল লিখেছিলেন, ‘গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া, কৌশলে তা বের করে আনা এবং প্রকাশ করা জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই ভালো এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকেরা প্রতিনিয়ত এটিই করে থাকেন।’

প্যাটেল যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ বিনয়ের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করতে পারতেন। সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটি রাজনৈতিক বিচার বিভাগ থাকা দেশের কাছে হস্তান্তর করার বিষয়ে ব্রিটেনের সতর্ক হওয়া উচিত। এর আগে প্যাটেলের পূর্বসূরি থেরেসা মে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইট হ্যাক করা গ্যারি ম্যাককিননের প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

যুক্তরাজ্য এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারত, অ্যাসাঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা কারাগারে দীর্ঘ নির্জন কারাবাসের অগ্রহণযোগ্য উচ্চ ঝুঁকির মুখোমুখি। তার বদলে অ্যাসাঞ্জকে প্রত্যর্পণ করার নথিতে সই করে প্যাটেল গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত হেনেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি সেই জনসাধারণের বৃহত্তর স্বার্থে আঘাত করেছেন, যাঁদের জানার অধিকার আছে যে তাঁদের নামে তাঁদের সরকার কী কী করছে। তবে এখনো সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়নি। অ্যাসাঞ্জ এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মূলত অভিযোগগুলো আনাই উচিত হয়নি। যেহেতু তিনি গোপন নথিগুলো উইকিলিকসে প্রকাশ করেছেন কিন্তু সেগুলো ফাঁস করেননি, সেহেতু বারাক ওবামার তৎকালীন প্রশাসন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনতে অনিচ্ছুক ছিল। ওবামার আইন কর্মকর্তারা সঠিকভাবে বুঝতে পেরেছিলেন, এটি জনস্বার্থকেন্দ্রিক সাংবাদিকতাকে হুমকির মুখে ফেলবে। পরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন, যারা গণমাধ্যমকে ‘জনগণের শত্রু’ বলে মনে করত, তারাই এ পদক্ষেপ নিয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার সময় একেবারে পার হয়ে যায়নি। চলতি বছর বিশ্ব গণমাধ্যমের স্বাধীনতা দিবসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ‘গণমাধ্যমের মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নিশ্চিত করা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ অ্যাসাঞ্জকে তাঁর স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিলেই বাইডেনের কথাগুলো অর্থবহ হবে।

ইংরেজি থেকে অনূদিত

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন