বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
সামরিক বাহিনীর মতো হার্ড পাওয়ার সব সময় সরকারের সঙ্গে অভিন্ন শক্তি হিসেবে থাকে। কিন্তু বহু সফট পাওয়ার বা অন্তঃস্থ শক্তি আছে, যা সরকারি কাঠামো থেকে বিযুক্ত এবং তা অন্যদের আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখে। হলিউডের সিনেমায় এবং জনপ্রিয় মার্কিন সংগীতে যেভাবে নারীর স্বনির্ভরতা অথবা সংখ্যালঘুর ক্ষমতায়নকে উৎসাহ দেওয়া হয়, তা বিশ্বের অন্যদের আকৃষ্ট করে।

আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সফট পাওয়ারের ওপর বড় বড় আঘাত এসেছে। সেসব আঘাতের জখম দ্রুত সারিয়ে তোলার ক্ষমতাও আছে তার। এমন নজির আমরা দেখেছি। ১৯৬০–এর দশকে আমেরিকার বর্ণবাদের রেশ ধরে বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা হয়েছিল এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিরোধিতা নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষের মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি ভবনগুলোতে বোমা বিস্ফোরিত হয়েছিল। কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বিক্ষোভকারী অনেক ছাত্রকে গুলি করে মেরে ফেলেছিলেন ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা। আমরা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এবং দুজন কেনেডিকে গুপ্তহত্যার শিকার হতে দেখেছি। জর্জ ওয়ালেশের মতো জনতুষ্টিবাদী নেতাকে ঘৃণার আগুন ছড়াতে দেখেছি। কিন্তু কয়েক দফা রাজনৈতিক সংস্কারের মধ্য দিয়ে এক দশকের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সেই ক্ষত সারিয়ে তুলতে সক্ষম হয়।

সামরিক বাহিনীর মতো হার্ড পাওয়ার সব সময় সরকারের সঙ্গে অভিন্ন শক্তি হিসেবে থাকে। কিন্তু বহু সফট পাওয়ার বা অন্তঃস্থ শক্তি আছে, যা সরকারি কাঠামো থেকে বিযুক্ত এবং তা অন্যদের আকর্ষণ করার ক্ষমতা রাখে। হলিউডের সিনেমায় এবং জনপ্রিয় মার্কিন সংগীতে যেভাবে নারীর স্বনির্ভরতা অথবা সংখ্যালঘুর ক্ষমতায়নকে উৎসাহ দেওয়া হয়, তা বিশ্বের অন্যদের আকৃষ্ট করে। একইভাবে আমেরিকার মুক্ত গণমাধ্যম, দাতব্য ফাউন্ডেশনগুলোর সমাজসেবামূলক কাজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুসন্ধানী তদন্তের স্বাধীনতাও বহির্বিশ্বের সবাইকে উজ্জীবিত করে।

আমেরিকার বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, ফাউন্ডেশন প্রতিবাদ সমাবেশ এমনকি চার্চগুলো দেশটির সফট পাওয়ার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রেখে থাকে। মনে রাখতে হবে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সফট পাওয়ার বাড়াতে পারে, কিন্তু ক্যাপিটল ভবনে যা হয়েছিল, তা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের ধারণা থেকে অনেক দূরের জিনিস। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প রাজনৈতিক মেরুকরণের পথ বেছে নিয়েছিলেন। এর জন্য তিনি বাইডেন শিবিরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের তথ্য ছাড়াই ভোট চুরির অভিযোগ এনেছিলেন। এখনো ট্রাম্প সেই অবস্থান থেকে সরে আসেননি। নৈরাশ্যবাদী অনেকেই এটা ভেবে উদ্বিগ্ন যে ট্রাম্পের সেই বিভাজনের রাজনীতি আবার ফিরে আসতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সফট পাওয়ারের ক্ষতি আবার সারাই করার মতো সম্পদ তার হাতে রয়েছে। দেশটিতে এখনো গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে, স্বাধীন বিচার বিভাগ আছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের স্বাধীনতা আছে। এই সম্পদ দিয়েই দেশটির সফট পাওয়ার আবার জাগরিত করা সম্ভব হবে। যখন সরকারের কোনো ভুল নীতি সেই সফট পাওয়ারকে দুর্বল করতে শুরু করে, তখন এই তিন সম্পদ সেই ত্রুটিকে সারিয়ে তোলে।

আমি আমার সেই ইউরোপিয়ান বন্ধুকে বলেছি, নতুন নতুন প্রজন্ম আসে এবং মূল্যবোধও পরিবর্তিত হয়। কিন্তু আশা বাঁচিয়ে রাখে সবচেয়ে নবীন প্রজন্ম। সেই নতুন প্রজন্মই আমেরিকার সবচেয়ে বড় সফট পাওয়ার বা ভেতরের শক্তি।

ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট

জোসেফ এস নাই হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ডু মোরালস ম্যাটার বইয়ের লেখক

মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন