বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কিন্তু যুদ্ধ খুব কম ক্ষেত্রেই ভাগ্যের ওপর নির্ভরশীল। রাশিয়া যদি প্রতিবেশী দেশে আক্রমণ চালায়, তবে তাদের চড়া মূল্য দিতে হবে। ইউক্রেনের সামরিক সামর্থ্য রাশিয়ার তুলনায় তেমন কিছু নয়, কিন্তু ২০১৪ সালের তুলনায় এখন তারা অনেক শক্তিশালী। সে সময়ে রাশিয়া ক্রিমিয়াকে অধিভুক্ত করে নিয়েছিল এবং রাশিয়া সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সহায়তায় পূর্ব দনবাসে আগ্রাসন চালিয়েছিল। রাশিয়া যদি এখন ফের আগ্রাসন চালায়, তবে ইউক্রেনের অধিবাসীদের সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হবে এবং বড় ধরনের জনপ্রতিরোধের মুখোমুখি হতে হবে। তাতে রাশিয়ার শুধু বড় ক্ষয়ক্ষতিই হবে না, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে মারাত্মক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে।

সংঘাত এড়ানোর যৌক্তিক পথ হচ্ছে কূটনীতি। সম্প্রতি মস্কো ইউরোপের নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনার জন্য তাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আলোচ্যসূচি প্রকাশ করেছে। রাশিয়ার আলোচ্যসূচিতে অনেকগুলো বিষয় নতুন। এরপরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি। ওয়াশিংটন এর মধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা আগামী বছরের শুরুতেই ক্রেমলিনের সঙ্গে আলোচনায় বসবে। প্রস্তুতি হিসেবে পশ্চিমা জোটকে রাশিয়াকে যুগপৎ ভয় ও লোভ দেখানোর একটা কূটনৈতিক পথ আগে থেকেই ভেবে রাখতে হবে।

ন্যাটোর প্রভাবশালী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে, ইউক্রেনে সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি তাদের বিবেচনায় নেই। এ বাস্তবতা কূটনৈতিক সমাধানের দরজা খুলে দিয়েছে। সব সদস্যের সম্মতিক্রমে বাইডেন পুতিনকে আশ্বস্ত করতে পারেন যে ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করার বিষয়টি তাঁরা ভাবছেন না। ন্যাটোর সদস্যদেশগুলো রাশিয়াকে আশ্বস্ত করতে পারে, তারা ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের পরিমাণ সীমিত করে ফেলবে।

পশ্চিমারা এখন বলতে পারে যে ইউক্রেনকে তারা এখন ন্যাটোর সঙ্গে যুক্ত করবে না কিংবা দেশটিকে পশ্চিমাদের সবচেয়ে অস্ত্রভান্ডারে পরিণত করবে না। যদিও প্রতিবেশীর ওপর রাশিয়ার যে আগ্রাসন কিংবা জবরদস্তি, সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু এটা বুঝতে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা নয় যে রাশিয়ারও উদ্বেগের কারণ আছে। সেটা হচ্ছে ইউক্রেন যদি ন্যাটোর সদস্য হয়ে যায়। একটি পরাশক্তি কখনোই সহ্য করবে না অন্য পরাশক্তি তাদের ঘরের কাছে দম্ভ করুক।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ন্যাটোর সদস্যদেশগুলো ইউক্রেনকে সদস্যপদ না দেওয়ার রাশিয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা ঠিক কাজটিই করেছেন। কেননা, ন্যাটোর মূলনীতির মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সার্বভৌম যেকোনো দেশের যেকোনো ভূরাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ইউক্রেনের সদস্যপদ ন্যাটোর জন্য তুরুপের তাস হতে পারে না। এখানে শুধু রাশিয়াকে প্ররোচিত করার বিষয় নেই, ন্যাটো জোটকেও নিজেদের লাগাম টেনে ধরার বিষয়ও রয়েছে। কেননা রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ২ হাজার ৪১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমানা রয়েছে।

ন্যাটোর প্রভাবশালী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে, ইউক্রেনে সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি তাদের বিবেচনায় নেই। এ বাস্তবতা কূটনৈতিক সমাধানের দরজা খুলে দিয়েছে। সব সদস্যের সম্মতিক্রমে বাইডেন পুতিনকে আশ্বস্ত করতে পারেন যে ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্য করার বিষয়টি তাঁরা ভাবছেন না। ন্যাটোর সদস্যদেশগুলো রাশিয়াকে আশ্বস্ত করতে পারে, তারা ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহের পরিমাণ সীমিত করে ফেলবে।

মিনস্ক চুক্তি বাস্তবায়নের প্রচেষ্টাও যুক্তরাষ্ট্রকে নিতে হবে। দনবাসে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর ওই চুক্তিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার একটা রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখানে রাশিয়া সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদীরা এখন যে এলাকার নিয়ন্ত্রণ করছে, সে এলাকা স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার কথা ছিল ইউক্রেনের। এর বিনিময়ে রাশিয়া ছায়া যুদ্ধ বন্ধ করবে এবং ইউক্রেন দনবাসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাবে।

সর্বশেষ, ন্যাটো জোটকে রাশিয়ার এ আলোচনা প্রস্তাবকে ইউরোপের সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার একটা সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত। পশ্চিমাদের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কের ফাটল যত বড় হচ্ছে, ততই দেশটি চীনের ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়ছে। কিন্তু রাশিয়া চীনের কনিষ্ঠ সঙ্গী, চীনের ক্রমবর্ধমান শক্তি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার কাছে দেশটি অস্বস্তি বোধ করছে। এটা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের রাশিয়াকে ইউরোপের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটা সুযোগ। ক্রেমলিনকে অবশ্যই বোঝা উচিত যে পশ্চিমাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নয়নের এটা একটা সুযোগ। এ সুযোগ গ্রহণ করার জন্য ইউক্রেনের সঙ্গে আগ্রাসী ভূমিকা তাদের বন্ধ করতে হবে। তবে একই সঙ্গে ন্যাটোকে তাদের কূটনৈতিক পরিকল্পনায় রাখতে হবে, যদি রাশিয়ার সৈন্যরা ইউক্রেনে প্রবেশ করে, তবে তারা কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে প্রস্তুত।

ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট

চার্লস এ কাপচেন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ের অধ্যাপক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন