করোনার সংক্রমণ বিস্তারের আগেই বিশ্বব্যাপী একটি অর্থনৈতিক মন্দার আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। প্রতিবেশী ভারতও মন্দার মধ্যে রয়েছে। বাংলাদেশে অর্থবছরের অর্ধেকে এসে রপ্তানি ও রাজস্ব আয় কমছিল, শিল্পের যন্ত্র ও কাঁচামাল আমদানি এবং অভ্যন্তরীণ পণ্যবাজার সংকুচিত হচ্ছিল। এসব সূচক ছিল একটি সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা শুরুর আভাস। দুঃখজনকভাবে সত্য হচ্ছে, করোনাভাইরাস এসে বাংলাদেশের দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকটকে আরও তিক্ত করে তুলছে। কোভিড-১৯ তাৎক্ষণিকভাবে ঠিক কী কী সংকট তৈরি করে ফেলেছে এবং সরকার সংকট মোকাবিলার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া কীভাবে করবে, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ! সার্বিকভাবে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে কী কী সম্ভাব্য সংকট তৈরি হবে এবং তার সাপেক্ষে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে সরকার পরিচালনার ওপর তার প্রভাব উপলব্ধিও খুব গুরুত্বপূর্ণ। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আমরা অন্তত তিন ধরনের সংকট দেখতে পাচ্ছি: ক. সমাজের সংকট, খ. ব্যবসা, সেবা খাত ও উৎপাদনের সংকট এবং গ. সরকারের ব্যয় নির্বাহের সংকট।

সমাজের সংকট
প্রথমেই শুরু হয়েছে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার সংকট। এতে সরকারকে জরুরি স্বাস্থ্য বরাদ্দ বাড়াতে হবে। অন্যথায় স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার সংকট প্রলম্বিত হয়ে অনুৎপাদনশীলতার জন্ম হবে, যার আর্থিক দায় ব্যাপক। দ্বিতীয় সংকট হতে পারে খাদ্য ও মানবিক সংকট। যেহেতু সংক্রমণ বিস্তার রোধে প্রায় পূর্ণাঙ্গ ‘লকডাউন’ শুরু হয়েছে, তাই নিম্ন আয়ের মানুষ অর্থ ও সঞ্চয় সংকটে পড়বে। শুরুতেই সঞ্চয়হীন ভাসমান মানুষ, দিনমজুর, বৃদ্ধ-অনাথ-এতিম, রিকশা, ছোট কারখানা, নির্মাণশ্রমিক যাঁরা ‘দিন আনে দিন খান’, তাঁরা লকডাউনের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই আয় হীনতার কারণে খাদ্যের সংকটে পড়বেন।

শহরের ভাসমান প্রান্তিক অর্থনৈতিক শ্রেণি সামাজিক উৎস থেকে ধার-ঋণ নিতে অক্ষম বলে তাদের জন্য খাদ্যসংকট অবধারিত। গ্রামে ‘সমাজের’ উপস্থিতি এবং কৃষি ও ক্ষুদ্রশিল্পভিত্তিক ‘উৎপাদনব্যবস্থা’ রয়েছে বিধায় সেখানে খাদ্যসংকট কিছুটা দেরিতে আসবে। গ্রামে ভাসমানদের কর্মহীনতার তৃতীয় কিংবা চতুর্থ সপ্তাহ থেকে খাদ্যসংকট শুরু হতে পারে, তার আগে পর্যন্ত তাঁরা চেয়েচিন্তে চলতে পারবেন হয়তো।

পরেই আসবে কর্মহীন নিম্নবিত্ত, যাদের কিছুটা সঞ্চয় ছিল—এমন শ্রেণি। তার পরে আসবে বেতন বন্ধ হয়ে সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়া নিম্ন–মধ্যবিত্ত কিংবা মধ্যবিত্তও। এই সব কটি প্রান্তিক ধারার জন্য জরুরি খাদ্য সরবরাহ করার একটা দায় আছে সরকারের। ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার সাত কোটি মানুষের ছয় মাসের জরুরি খাদ্য সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে কেরালার সরকার কুড়ি হাজার কোটি রুপির করোনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, এসেছে বিদ্যুৎ বিলে ছাড়ের ঘোষণা। বাংলাদেশেও মাথাপিছু ন্যূনতম ‘ক্যালরি ধারণ’ ভিত্তিতে ভাসমান প্রান্তিক শ্রেণি, স্থায়ী বেকার, তাৎক্ষণিকভাবে কাজহীন, বেতন বন্ধ হয়ে পড়া, সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়া শ্রেণির জন্য খাদ্য সরবরাহের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। আর্থিক সংখ্যায় রূপান্তর করলে দেখা যায়, সরকারের জন্য তৈরি হয়েছে বড় এক আর্থিক বোঝা!

default-image

আমাদের মোট শ্রমশক্তি ৬ কোটি ৮ লাখ, যার মাত্র ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রাক্কলন করেছে অন্তত নয় লাখ লোক আনুষ্ঠানিক খাতে কাজহীন হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মে নিয়োজিত শ্রমশক্তির ৮৫ দশমিক ১ শতাংশ বা ৫ কোটি ১৭ লাখ ৩৪ হাজার। শ্রম অধিকার প্রায় বঞ্চিত বিশাল শ্রমশক্তির অধিকাংশই কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। কোভিড-১৯–এর আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গেছে ৮৭ দশমিক শিল্পকারখানা। দেশের ছয়টি শিল্প–অধ্যুষিত এলাকার সব খাত মিলিয়ে শিল্পকারখানা আছে ৭ হাজার ৪০৮টি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে ৬ হাজার ৪২৩টি বা ৮৭ শতাংশ শিল্পকারখানাই বন্ধ হয়ে গেছে। দারিদ্র্য ও অতি দারিদ্র্যের হার যথাক্রমে সাড়ে ২০ ও সাড়ে ১০ শতাংশ (চার কোটি)। তাই পারিবারিক আয়হীন স্থায়ী বেকার, অনানুষ্ঠানিক খাতের অর্ধেক মিলে অন্তত সাড়ে ৬ কোটি মানুষের জন্য এপ্রিলের প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই খাদ্য সরবরাহ লাগতে পারে। তিন মাস জরুরি খাদ্য সরবরাহ করতে লাগে অন্তত কুড়ি হাজার কোটি টাকা। সরকার এই মানবিক দায়িত্ব অস্বীকার করলে অপরাধের বিস্তার ঘটবে, নাগরিক অসন্তোষে দীর্ঘ মেয়াদে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়ে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগের সংকট তৈরি করবে। আর এটা দীর্ঘ মেয়াদে কুড়ি হাজার কোটির চেয়েও বেশি ক্ষতির কারণ হবে। ইতিহাসে তেলের মূল্যহ্রাসের সর্ববৃহৎ পতনে (ব্যারেলপ্রতি মাত্র ২০ ডলার) বিদ্যুৎ ও গ্যাস বিলে ছাড় দিয়ে মানুষের সঞ্চয়কাল কিছুটা প্রলম্বিত করা যায়। এভাবে বাসাভাড়ায় সাময়িক ছাড় দিলেও সঞ্চয় দীর্ঘায়িত হবে, এতে ক্ষুদ্রশিল্পেরও উপকার হবে, বাড়িওয়ালাদের প্রণোদনাও দিতে হতে পারে।

এই বিশাল খাদ্য সরবরাহ শুধুই ১০ টাকা চালের সীমিত প্রণোদনায় অসম্ভব। তা ছাড়া ক্যালরির দিক থেকে চাল-ডাল-গম-লবণ-ভোজ্য তেল ইত্যাদিতে জরুরি খাদ্য সরবরাহ বিস্তৃত করতে হবে। করোনার পরেই ‘ঘরে ফেরা’ কর্মসূচি শেষে অলস শ্রমের যে ঘনীভবন হবে, তার শ্রমবাজার গন্তব্য নিয়েও সরকারকে ভাবতে হবে।

ব্যবসা, সেবা খাত ও উৎপাদন সংকট
৬ মার্চ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রায় ২৫ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার বেশি মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ক্ষতি হতে পারে। অন্তত প্রতিবেদন অনুযায়ী করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হলে মোটাদাগে পাঁচটি খাতে করোনার প্রভাব বাংলাদেশে পড়তে পারে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে ব্যবসা-বাণিজ্য-সেবা খাতে, যা ৯ হাজার ৬৯০ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এ ছাড়া কৃষি খাতে ৫ হাজার ৩৫৫, পর্যটন হোটেল রেস্তোরাঁ ও এ-সংক্রান্ত সেবা খাতে প্রায় ৪ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা, উৎপাদন ও নির্মাণ খাতে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং পরিবহন খাতে ২ হাজার ৮০৫ কোটি টাকা সম্ভাব্য ক্ষতি হবে।

default-image

করোনা মহামারির প্রথম দিককার তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি বিধায় প্রতিবেদনটি বেশ রক্ষণশীল—কমিয়ে বলা। বাস্তবে ক্ষতির মাত্রা এর চেয়েও ভয়ংকর। ২৫ মার্চ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত তৈরি পোশাকশিল্পের ৯৩৬টি কারখানার ৮০০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন পোশাক পণ্যের অর্ডার বাতিল ও স্থগিত হয়েছে, যার মূল্য ২ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২১ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা)। এসব কারখানায় প্রায় ২০ লাখ শ্রমিক রয়েছেন। বিশ্বমন্দা এবং তৈরি পোশাকের প্রতিযোগী দেশগুলোর করোনার নিয়ন্ত্রণ সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে ওই সব অর্ডার কতটা ফিরে আসবে কিংবা আদৌ ফিরে আসবে কি না। ইতিমধ্যেই অধিকাংশ পোশাকশিল্প বন্ধ হয়ে গেছে। চীনে কাঁকড়া, কুঁচে ইত্যাদি রপ্তানি বন্ধ হয়েছে, যার ক্ষতি ৪০০ কোটি টাকার মতো। চামড়া ও চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানিতে নতুন ধস এসেছে, ইটিপি সংকটে এই খাতে আগেই ধস ছিল, যদিও এই খাতের ফ্যাক্টরি তৈরির খরচ বেশি। সংকুচিত হয়েছে ওষুধশিল্প, পাট সুতা হোম টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিকস, সামুদ্রিক মাছ, প্রসাধনীশিল্পও। পোলট্রিশিল্পে বিপর্যয় এসেছে, যশোরে হ্যাচারিতেই প্রতিদিন ২ লাখ বাচ্চা মরছে।

চরম বিপাকে সিরাজগঞ্জসহ দেশের দুগ্ধখামারিরা, বিপাকে আছে সবজি ও মৎস্য খাত। সমস্যায় পড়েছে দোকান মালিক, পত্রিকা-ছাপাশিল্প, রড–সিমেন্ট উৎপাদনকারী থেকে এভিয়েশন খাত। এই সবকিছুর ফলে বড় বিপর্যয়ে পড়তে যাচ্ছে বিমা খাত। শপিং কমপ্লেক্স, বিপণিবিতান ও বিলাসপণ্যসহ জরুরি খাদ্য ও ওষুধ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারের ভোগ্যপণ্যের বিকিকিনি একেবারেই বন্ধ, এতে করে ভ্যাট আহরণ বিশাল ধাক্কা খেয়েছে। নির্মাণশিল্প সরকারে দেশজ উৎপাদনের একটা বড় খাত, করোনার প্রভাবে এ শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত। এতে করে মেগা প্রকল্পসহ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো দীর্ঘায়িত হবে এবং ব্যয় বাড়বে। রেকর্ড পরিমাণ উচ্চ খরচ, উচ্চমাত্রার দুর্নীতি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে অদক্ষতাজনিত সমস্যাগুলো দীর্ঘায়িত হয়ে আর্থিক সংকট প্রকটতর করবে।

এদিকে কাঁচামাল আমদানি কমেছে, ডিসেম্বরে থেকে মধ্য ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৫ শতাংশ, তবে ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ আগেই কমেছিল। মার্চে আরও কমে ২৬ শতাংশের বেশি নিচে নেমেছে। রাজস্ব আয়ের অন্যতম বড় উৎস চট্টগ্রাম বন্দরে স্বাভাবিকভাবে ৪৫ হাজার টিইউএসের বেশি কনটেইনার (ধারণক্ষমতা ৪৯) পরিমাণ ব্যবহৃত হয়, এটা কমে সম্প্রতি ৩২ থেকে ৩৪ হাজার টিইউএসে নেমে এসেছে। এতে আমদানি শুল্ক কমে গেছে।

অর্থনীতির সবচেয়ে সুবিধাজনক খাত ছিল রেমিট্যান্স। সেখানেও মন্দা ভাব দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারিতে ৫ কোটি ডলার কমেছে, ফেব্রুয়ারিতে ১৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয় কমে গেছে। এটা মার্চ-এপ্রিল-মে মাসে অব্যাহত থাকবে, কেননা বাংলাদেশের রেমিট্যান্স উৎস দেশ মধ্যপ্রাচ্য ইউরোপ এবং আমেরিকায় কোভিড-১৯–এর বিস্তার ব্যাপকতর। যেহেতু ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা (৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা) দেওয়া আছে, তাই হয়তো এখানে নতুন প্রণোদনা সম্ভব নাও হতে পারে। পাশাপাশি সংকটে পড়েছেন দেশের বিশালসংখ্যক ফ্রিল্যান্সার এবং আমাদের সফটওয়্যার খাত।

সরকারের ব্যয় নির্বাহের সংকট
ট্রেজারি বন্ড, সঞ্চয়পত্র সুদ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ প্রদান বাজেটের অন্যতম বড় ব্যয়ের খাত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনাজনিত বৈশ্বিক মন্দার চাপ, চিকিৎসা ও খাদ্য সরবরাহের চাপ। এতে করে ভ্যাট, আয়কর, আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক, ব্যাংকিং শুল্ক সবকিছুই কমে যাবে। রেমিট্যান্স কমলেও আমদানি কমেছে বলে রিজার্ভ এখনই সংকটে পড়বে না। যেহেতু অনুন্নত বাজেটে সরকার পরিচালনার ব্যয়, বেতন ভাতা, সামাজিক সুরক্ষা ইত্যাদিতে কাটছাঁটের সুযোগ নেই, তাই উন্নয়ন বা এডিবি প্রকল্প সংকোচন করতে হবে। এতে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো থেকেও আয় কমে যাবে।

আবার ব্যবসা, সেবা খাত ও উৎপাদন সংকট মেটাতে আনুষ্ঠানিক এবং অন্তত কর্মসংস্থান ঠিক রাখতে অনানুষ্ঠানিক খাত মিলিয়ে সব কটি খাতকে মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে। পাশাপাশি শুধু তাৎক্ষণিকভাবে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকার মানবিক খাদ্য, চিকিৎসা ও শিল্প বরাদ্দ তৈরি করতে হবে। কথা হচ্ছে, এত অর্থ আসবে কোত্থেকে?

সরকার সারা বছরের প্রাক্কলিত ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফেলছে। অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। অনুমান হচ্ছে, মোট রাজস্ব ঘাটতি ১ বা সোয়া ১ লাখ কোটি হয়ে যাবে। প্রাথমিক বাজেটেই ঘাটতি ছিল প্রায় দেড় লাখ কোটি, বৈদেশিক ঋণ আসেনি প্রত্যাশামতো। এদিকে মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশ ছড়িয়ে যাওয়ার কারণে সুদ ব্যবস্থা অর্থাৎ মানি সাপ্লাই ও নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনা ব্যর্থ হতে যাচ্ছে। তৈরি হয়েছে করোনাসংক্রান্ত আরও প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার নতুন চাপ।

ফলে সোয়া পাঁচ লাখ কোটির বাজেট অঙ্কের হিসাবেই অর্ধেকের কাছাকাছি কমে যাচ্ছে, দুর্নীতি ও বাস্তবায়ন অদক্ষতায় যার ‘ভ্যালু’ আরও অনেক কম। সব মিলিয়ে এডিপি কাটছাঁট করে প্রণোদনার সংস্থান করতে হবে। তবে এডিপি কাটছাঁটে গেলে জবাবদিহিহীনতা দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক পকেটগুলো সরকার তৈরি করেছে, সেগুলোও খেপে উঠবে। সব মিলিয়ে দুঃখজনকভাবে সরকার একটা ভয়াবহ আর্থিক ও পরিচালনা সংকটে পড়ে যাচ্ছে।

এমতাবস্থায় সার্বিক অর্থনৈতিক মন্দা মোকাবিলায় বিচ্ছিন্নভাবে প্রভাবশালীদের বিশেষ প্রণোদনা না দিয়ে সমন্বিত ‘মন্দা পরিকল্পনা’ তৈরি করতে হবে। সরকারের রাজস্ব, ব্যয় নির্বাহ, বার্ষিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ কী হবে, তার প্রাক্কলন করা খুবই জরুরি। অর্থাৎ কোভিড-১৯ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার একটা সমন্বিত এবং পরস্পর সম্পর্কিত বোধগম্য রূপরেখা প্রণয়ন তৈরি এখনই শুরু হওয়া উচিত। অন্যথায় করোনার হাত ধরে আসা সংকট এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলবে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব: টেকসই উন্নয়নবিষয়ক লেখক। ২০২০ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ, ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ’।
faiz.taiyeb@gmail.com

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0