বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

চীনের এসব বাজে আচরণ ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মহামারির শুরুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস চীন সরকারের বলা কথাগুলো তোতাপাখির মতো আওড়ে যাচ্ছিলেন। মহামারি নিয়ন্ত্রণে চীনের পদক্ষেপকে প্রশংসা করছিলেন। চীনের দাবিগুলো পর্যালোচনা করার বদলে ডব্লিউএইচও তাদের হয়ে প্রচারযন্ত্রের কাজ শুরু করেছিল।

বৈশ্বিক স্বাস্থ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এ রকম সীমাহীন ব্যর্থতা সত্ত্বেও দ্বিতীয়বারের মতো ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক পদে মনোনয়ন পান তিনি। আবার করোনাভাইরাস ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে কি না—এমন ধারণা থেকে পশ্চিমারা চীনকে অনেকটাই বাঁচিয়ে দিয়েছে। ডব্লিউআইভির সঙ্গে যৌথভাবে পশ্চিমা অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাদুড়বাহিত করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছে। ডব্লিউআইভি প্রজেক্টে যুক্তরাষ্ট্র কেন অর্থায়ন করছে, সে সম্পর্কে তারা এখনো পরিষ্কার করে কিছু বলেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ থেকে বলা হয়েছিল, ডব্লিউআইভিকে দেওয়া মার্কিন তহবিল থেকে চীনের গোপন সামরিক প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে কি না, সেটা যাচাইয়ের অধিকার মার্কিনদের রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে, এমন একটি গবেষণাগারে অর্থায়ন করল যুক্তরাষ্ট্র?

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ল্যানসেট পত্রিকায় বেশ কয়েকজন ভাইরাসবিশারদের একটি চিঠি প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তাঁরা করোনার উৎপত্তি প্রাকৃতিকভাবে নয়, এমন ধারণা পোষণকারীদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। ল্যাব থেকে এ ভাইরাসের উৎপত্তি এমন যেকোনো ধারণাকেই তাঁরা অবৈজ্ঞানিক বলে মত দেন। চিঠিটি খসড়া করেন ইকোহেলথ অ্যালায়েন্সের (বাদুড়বাহিত করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান) প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ইকোহেলথ অ্যালায়েন্সের স্বার্থসংশ্লিষ্টতার বিষয়টা যখন সামনে এল, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। মার্কিন মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ল্যাব দুর্ঘটনা থেকে করোনা ছড়ানোর ধারণাকে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব বলে উড়িয়ে দেয়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার এ ধরনের পোস্ট সেন্সর করতে শুরু করে।

গত সেপ্টেম্বরে চীনের ল্যাবগুলো প্রাণঘাতী জীবাণু নিয়ে গবেষণা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে আরও নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঘোষণা দেয় চীন। তবে করোনাভাইরাস ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে কি না—এমন ধারণা আবার নাকচ করে দেওয়া হয়। এই মহামারিতে চীন মুনাফা করেছে, তাদের রপ্তানি বেড়েছে। এ সংকটকে চীন তাদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে ব্যবহার করেছে।

চীনের এসব বাজে আচরণ ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মহামারির শুরুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস চীন সরকারের বলা কথাগুলো তোতাপাখির মতো আওড়ে যাচ্ছিলেন। মহামারি নিয়ন্ত্রণে চীনের পদক্ষেপকে প্রশংসা করছিলেন। চীনের দাবিগুলো পর্যালোচনা করার বদলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের হয়ে প্রচারযন্ত্রের কাজ শুরু করেছিল।

বৈশ্বিক স্বাস্থ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এ রকম সীমাহীন ব্যর্থতা সত্ত্বেও ফ্রান্স ও জার্মানি গেব্রেয়াসুসকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক পদে মনোনয়ন দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রার্থী দেয়নি। আবার করোনাভাইরাস ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে কি না—এমন ধারণাগত তত্ত্ব (হাইপোথিসিস) থেকে পশ্চিমারা চীনকে অনেকটাই বাঁচিয়ে দিয়েছে। উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজির সঙ্গে যৌথভাবে পশ্চিমা অনেক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাদুড়বাহিত করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছে। ডব্লিউআইভি প্রজেক্টে যুক্তরাষ্ট্র কেন অর্থায়ন করছে, সে সম্পর্কে তারা এখনো পরিষ্কার করে কিছু বলেনি। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ থেকে বলা হয়েছিল, ডব্লিউআইভিকে দেওয়া মার্কিন তহবিল থেকে চীনের গোপন সামরিক প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে কি না, সেটা যাচাইয়ের অধিকার মার্কিনদের রয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা আছে এমন একটি গবেষণাগারে অর্থায়ন করল যুক্তরাষ্ট্র?

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ল্যানসেট পত্রিকায় বেশ কয়েকজন ভাইরাস-বিশারদের একটি চিঠি প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে তাঁরা করোনাভাইরাসের উৎপত্তি প্রাকৃতিকভাবে নয়, এমন ধারণা যাঁরা পোষণ করেন, তাঁদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন। ল্যাব থেকে এ ভাইরাসের উৎপত্তি এমন যেকোনো ধারণাকেই তাঁরা অবৈজ্ঞানিক বলে মত দেন। চিঠিটি খসড়া করেন ইকোহেলথ অ্যালায়েন্সের (বাদুড়বাহিত করোনাভাইরাসের গবেষণার বৈশ্বিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান) প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ইকোহেলথ অ্যালায়ান্সের স্বার্থসংশ্লিষ্টতার বিষয়টা যখন সামনে এল, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ল্যাব দুর্ঘটনা থেকে করোনা ছড়ানোর ধারণাত্মক তত্ত্বকে ভিত্তিহীন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বলে উড়িয়ে দেয়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টুইটার এ ধরনের পোস্ট সেন্সর করতে শুরু করে।

গত সেপ্টেম্বরে চীনের ল্যাবগুলো প্রাণঘাতী জীবাণু নিয়ে গবেষণা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে আরও নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ঘোষণা দেন সি চিন পিং। তবে করোনাভাইরাস ল্যাব থেকে ছড়িয়েছে কি না—এমন ধারণা আবার নাকচ করে দেন। এই মহামারিতে চীন মুনাফা করেছে, তাদের রপ্তানি বেড়েছে। এই সংকটকে চীন তাদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার কাজে ব্যবহার করেছে।

কিন্তু হিসাবটা এখন ঘুরে যাচ্ছে। তিন ভাগের এক ভাগ আমেরিকান এখন বিশ্বাস করেন, কোভিড-১৯ ভাইরাস উহানের ল্যাব থেকে উৎপত্তি হয়েছে। উপরন্তু চীনে নব্য-সাম্রাজ্যবাদী আকাঙ্ক্ষা এখন সবার কাছেই স্পষ্ট। অগ্রসর অর্থনীতির দেশগুলোতে চীনের গ্রহণযোগ্যতা কমছে। করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে তদন্ত বিশ্বনেতারা যদি তদন্ত চান, তবে এখনই তার উপযুক্ত সময়।

স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট; ইংরেজি থেকে অনূদিত

• ব্রহ্ম চেলানি নয়াদিল্লিভিত্তিক সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ বিষয়ের অধ্যাপক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন