বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমরা তরুণেরা এ প্রচারে যুক্ত হয়েছিলাম কারণ, আমরা এমন দেশগুলো থেকে গিয়েছি, যে দেশগুলো সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে, যদি আমাদের বিশ্বনেতারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গুরুত্ব না দেন। যদিও আমরা একবারে অনুমতি পাইনি জাহাজ নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার, তবু পিছু হটার সিদ্ধান্ত না নিয়ে এগিয়ে যাই। কপ ভেন্যু পর্যন্ত যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় কিছুটা আগে জাহাজ থেকে নেমে জনতা ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে আমাদের দাবিগুলো তুলে ধরি। যাতে আমাদের কণ্ঠ বিশ্বনেতাদের কাছে পৌঁছায়।

আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আতঙ্কিত; কিন্তু বিশ্বনেতারা এখনো আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দর-কষাকষি করছেন। কপ ২৬ সম্মেলনে তা–ই ঘটেছে। গ্লোবাল সাউথের দেশগুলো জলবায়ু সমস্যাকে প্রাধান্য না দিয়ে জীবাশ্ম জ্বালানিকে প্রাধান্য দিয়েছে। কিন্তু আমরা জানি, ভবিষ্যৎ রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে আমাদের সরে আসতে হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো বারবার বিশ্বমঞ্চে তাদের অবস্থান তুলে ধরলেও উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের তথাকথিত উন্নয়নের জন্য শেষ মুহূর্তেও যখন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা ও কমিয়ে আনা নিয়ে বিতর্ক করে, তখন আমাদের হতাশ হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

গত ৫ নভেম্বর আমরা ৩০ হাজার তরুণ একসঙ্গে গ্লাসগোর রাস্তায় নেমেছিলাম। আমরা চাই, আগামী জলবায়ু সম্মেলনগুলোতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা সামনে থাকুক।
‘জীবাশ্ম জ্বালানি বিস্তাররোধ চুক্তি’র একজন ক্যাম্পেইনার হিসেবে ‘গ্লাসগো ক্লাইমেট প্যাক্ট’–এ জীবাশ্ম জ্বালানির বিষয় উল্লেখ থাকা নিয়ে শুরু থেকে দ্বিধা আমার মোটেও কাম্য ছিল না। জীবাশ্ম জ্বালানিকে সমর্থন করার মাধ্যমে আমরা কখনো জলবায়ু বিষয়ে সুবিচার পাব না—জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আইপিসির (জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তরাষ্ট্রীয় প্যানেল) প্রতিবেদন থেকে এটি আমরা এরই মধ্যে জেনেছি। জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো বারবার বিশ্বমঞ্চে তাদের অবস্থান তুলে ধরলেও উন্নয়নশীল দেশগুলো তাদের তথাকথিত উন্নয়নের জন্য শেষ মুহূর্তেও যখন জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসা ও কমিয়ে আনা নিয়ে বিতর্ক করে, তখন আমাদের হতাশ হওয়া ছাড়া উপায় থাকে না।

তবে কপ ২৬ শুধু হতাশার কথা শুনিয়েছে এমন নয়, নাগরিক সমাজ থেকে শুরু করে গ্লাসগোয় যাওয়া বেশির ভাগ মানুষ একসঙ্গে পরিবেশ বাঁচাতে বদ্ধপরিকর। এটা আমাদের জন্য ভালো সংবাদই বটে। বাংলাদেশ ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের প্রধান হিসেবে পরিবেশমন্ত্রী আমাদের আশ্বাস দেন, তরুণদের দাবিগুলো আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও তিনি বিশ্বদরবারে তুলে ধরবেন। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টির বেশি দেশ বন নিধন বন্ধ করতে সম্মত হওয়া, মিথেন নিঃসরণ ৩০ শতাংশ কমানো ও ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে আলোচনাকে কপ ২৬–এর ভালো দিক হিসেবে তুলে ধরা যায়। তবে তরুণদের সঙ্গে বিশ্বনেতারা বিশ্বাসঘাতকতা করে আসছেন, তাই এসব ফাঁকা বুলিতে আমরা আস্থাশীল নই। আমরা প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চাই।

বাংলাদেশের একজন তরুণ হিসেবে আমাদের আশপাশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি শঙ্কিত। তাই আমি ‘পিপল সামিট’সহ যত জায়গায় কথা বলার সুযোগ পেয়েছি, সেখানে একটি কথাই বারবার উঠে এসেছে, গ্লোবাল নর্থের দেশগুলোর কারণে আমাদের দেশের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার জন্য আমরা ক্ষতিপূরণ চাই। সাহায্য ও ঋণ নয়, আমরা ক্ষতিপূরণের দাবিদার।

কপ ২৬ শেষ হলেও এর আলাপ-আলোচনা আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাই আমরা দমে যাচ্ছি না। দূষণকারীদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান সব সময় অটল থাকবে।

ফারজানা ফারুক পরিবেশকর্মী

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন