বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই বছর শেষ হওয়ার আগেই যদি বাইডেন প্রশাসন মার্কিন অর্থনীতিতে কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার যোগ করতে সক্ষম নতুন কোনো বিল কংগ্রেসে পাস করাতে পারে, তাহলে হয়তো বাইডেনের জনপ্রিয়তায় নতুন পয়েন্ট যোগ হতে পারে। তবে তারপরও ট্রাম্পিজম যেভাবে সংক্রমিত ও সংগঠিত হচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রের জন্য দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দেখা দিচ্ছে। ইতিমধ্যে রিপাবলিকান পার্টির নিয়ন্ত্রণে থাকা ১৪টি অঙ্গরাজ্য ট্রাম্পবাদে উজ্জীবিত হয়ে ২৪টি নতুন আইন পাস করে ফেলেছে। ওই সব আইন তাদের নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করার এবং ভোটের ফল উল্টে দেওয়ার সক্ষমতাকে জোরালো করেছে।

ট্রাম্প এখন পর্যন্ত গত নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। যদিও তিনি আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেননি, কিন্তু এখন তিনি যা বলছেন ও যা করছেন, তাকে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারকাজ বলা যেতে পারে। ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তিনি সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেখান থেকে শুরু হওয়ার রেওয়াজ আছে, সেই আইওয়ায় ওই দিন তিনি একটি সমাবেশে নেতৃত্ব দেবেন।

ট্রাম্পকে নিয়ে তিনটি বই লিখেছেন সাংবাদিক মাইকেল উলফ। ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা পাওয়া বই তিনটির এই লেখক গত জুলাই মাসে বলেছেন, ২০২৪ সালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হওয়া তাঁর বিবেচনায় একেবারে নিশ্চিত বিষয়। সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্পের খবরের ঘন ঘন উপস্থিতি তাঁর সেই বক্তব্যকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। তাঁর পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (পিএসি) চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৭ কোটি ২০ লাখ ডলার খরচ করেছে।

প্রশ্ন হলো, আগামী নির্বাচনে যদি ট্রাম্প দাঁড়ানই, তাহলে জনগণের কাছে তাঁর বার্তা কী হবে? তাঁর মন্ত্র কী হবে? আমার ব্যক্তিগত ধারণা, আগামী নির্বাচনের প্রচারণার মূল বিষয় হিসেবে তিনি তাঁর ‘ভোট জালিয়াতির’ ভুয়া অভিযোগটিকে দ্বিগুণ মাত্রায় জোরেশোরে বলতে থাকবেন। একই সঙ্গে তিনি তাঁর অনুসারীদের ‘মেক আমেরিকা অনেস্ট অ্যাগেইন’ স্লোগানে উদ্বুদ্ধ হয়ে ‘জালিয়াতির ফল’ উল্টে দিতে আহ্বান জানাবেন।

ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় পুঁজি, তিনি কূটনৈতিক ঘোরানো–প্যাঁচানো কথা না বলে সোজাসাপটা আক্রমণ করেন। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীরা তাঁর চরিত্রের এই বিশেষ দিককে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। তিনি সত্যিকারের জনতুষ্টিবাদী নেতা হিসেবে নিজেকে দাঁড় করাতে পেরেছেন।

ইতিমধ্যে একটি বিষয় সবার কাছে পরিষ্কার হয়েছে, ট্রাম্প একেবারে গোঁয়ারের মতো একের পর এক মিথ্যা ভাষণ দিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো তাঁকে ‘লাইয়ার ইন চিফ’ বা ‘মিথ্যাবাদীদের সরদার’ বলে আখ্যায়িত করেছে। এ কারণেই প্রশ্ন ওঠে, ট্রাম্প যখন এতই আক্রমণাত্মক ও মিথ্যাবাদী লোক, তাহলে কেন রিপাবলিকান পার্টি মনোনয়ন দিতে যাবে? এর পেছনে অনেকগুলো কারণ আছে। প্রথম কারণ, রিপাবলিকান শিবির জানে ট্রাম্পের সমর্থকদের প্রায় সবাই তাঁকে অন্ধের মতো ভক্তি করেন। এই ধরনের কোনো নেতা রিপাবলিকান শিবিরে নেই। অন্য দিকে আগামী ২০২৪ সালে জো বাইডেন যদি প্রার্থী হন, তিনি বার্ধক্যে আরও নুয়ে পড়বেন। সে তুলনায় ট্রাম্প অনেক শক্ত–সমর্থ থাকবেন। বাইডেন যদি না দাঁড়ান এবং তাঁর স্থলে যদি কমলা হ্যারিস দাঁড়ান, তাহলে তিনি ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা ও ব্যক্তিত্বের সামনে অনেকটাই গুরুত্ব হারাবেন।

ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় পুঁজি, তিনি কূটনৈতিক ঘোরানো–প্যাঁচানো কথা না বলে সোজাসাপটা আক্রমণ করেন। শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীরা তাঁর চরিত্রের এই বিশেষ দিককে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। তিনি সত্যিকারের জনতুষ্টিবাদী নেতা হিসেবে নিজেকে দাঁড় করাতে পেরেছেন। এই কারণে চার বছর ধরে একের পর এক বিপর্যয়কর কাণ্ডকারখানা করার পরও তাঁকে সাড়ে সাত কোটি ভোটার ভোট দিয়েছেন।

ট্রাম্প মূলত সেই সব শ্বেতাঙ্গ ভোটারের মন জয় করতে পেরেছেন, যাঁরা মনে করেন উদারপন্থী নেতারা অশ্বেতাঙ্গদের ছাড় দিতে দিতে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিয়েছেন। এই জায়গায় ট্রাম্প রাখঢাকহীনভাবে অভিজাত শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের পক্ষ নিয়েছেন। এ কারণে আগামী নির্বাচনে যদি তিনি দাঁড়ান, তাহলে তাঁর জিতে যাওয়ার বিপুল সম্ভাবনা আছে।

আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

মারওয়ান বিশারা আল–জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন