বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্বজুড়ে মানুষের মৃত্যুর চতুর্থ কারণ বায়ুদূষণ। মানুষের গড় আয়ু প্রায় তিন বছর কমে যাচ্ছে শুধু বায়ুদূষণের কারণে। দেশে প্রতিবছর ১ লাখ ২২ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে কেবল বায়ুদূষণের কারণে, যার মধ্যে শিশু মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি।
জাতীয় প্রতিষেধক ও সামাজিক চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান (নিপসম)-এর ২০২০ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যাওয়া শতকরা ৪৯ ভাগ শিশুই শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ছিল। ওই সময় রাজধানীর বাতাসে সাধারণত ধুলা ও দূষণ বেড়ে যায়। ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা সম্পর্কে জানা যায় আন্তর্জাতিক গবেষণা থেকে। গত কয়েক বছরে বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকার অবস্থান প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্মল বায়ু ও টেকসই উন্নয়ন প্রকল্পের বাতাসের মান পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, রাজধানীর বায়ু ২০১৪ সালে ১৬৫ দিন বিপজ্জনক ছিল। ২০১৫ সালে দূষণের মাত্রা বেড়ে দাঁড়ায় ১৭৮ দিনে। পর্যায়ক্রমে ২০১৬ সালে ১৯২ দিন, ২০১৭ সালে ২১২ দিন, ২০১৮ সালে ২৩৬ দিন, ২০১৯ সালে ২৮৩ দিন ঢাকার বায়ু দূষিত ছিল, যার ধারাবাহিকতায় ২০২০ ও ২০২১ সালে বায়ুদূষণের তালিকায় প্রথম বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।

বায়ুদূষণের কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘দেশের অভ্যন্তরে ইটভাটা, শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া, মেয়াদোত্তীর্ণ গাড়ির কালো ধোঁয়া, বস্তির প্রায় ৪০ লাখ চুলার আবর্জনা, কাঠ-কয়লা ও কেরোসিন দিয়ে রান্নার ধোঁয়া, ঢাকার বাইরে থেকে আসা হাজার হাজার ট্রাক ও দূরপাল্লার যানবাহনের ধুলা ও ধোঁয়া এবং রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণকাজের ধুলার পাশাপাশি আন্তসীমান্ত বায়ুদূষণের জন্য এখানকার বায়ু দূষিত হয়ে থাকে।’

অপরিকল্পিতভাবে অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, মানা হচ্ছে না কোনো নিয়ম। খোলা জায়গায় রাখা হচ্ছে ধুলাবালু, সিমেন্ট। এর ফলে সেখান থেকেও প্রচুর পরিমাণে ধুলাবালু বাতাসে মিশছে। প্রশাসনের নজরদারির অভাবও যে বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ঢাকার বায়ুদূষণ রোধে হাইকোর্ট একাধিকবার হতাশা প্রকাশ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে তলব করেছিলেন।

বায়ুদূষণ রোধে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলেও কোনো সুফল মেলেনি। বায়ুদূষণ কেবল একটি সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক সমস্যা, যার প্রভাব পড়ছে সমগ্র বিশ্বের ওপর। বায়ুদূষণের ফলে বায়ুমণ্ডলের ওজোনস্তর পাতলা হয়ে যায়, পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়—যা বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে যার ফলস্বরূপ বিভিন্ন দেশে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ দাবানল, অসময়ে বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। কেবল সচেতনতাই এই ভয়াবহ সংকটের গতিকে হ্রাস করতে পারে। তাই নিজেদের অবস্থান থেকে সবাইকে বায়ুদূষণ রোধে এগিয়ে আসতে হবে।

নুসরাত জাহান
শিক্ষার্থী, ইসলামিক স্টাডিজ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন