বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনেকের আশঙ্কা, অন্তর্বর্তী সরকার তালেবানের মধ্যকার ফারাকগুলো বাড়িয়ে দেবে। মধ্যপন্থীরা প্রথম তালেবান যুগের কঠোর ঐতিহ্য থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে কট্টরপন্থীরা সংস্কারে যেতে রাজি নয়। দুইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন তীব্র হবে। যুদ্ধকালে তালেবান একটা শিলীভূত শক্তি হিসেবে ছিল। সে কারণে সামরিক কৌশল ও অন্য নীতির ক্ষেত্রে তাদের মধ্যকার পার্থক্যগুলো প্রচ্ছন্ন ছিল। নিজেদের মতপার্থক্যের প্রভাব প্রতিরোধযুদ্ধে পড়েনি। যুদ্ধ শেষে এখন পার্থক্য স্পষ্ট হচ্ছে।

মাঠের কমান্ডারদের মধ্যে বেশির ভাগই দৃষ্টিভঙ্গিতে কট্টর। তাঁদের মধ্যে একটা অংশ ২০০১ সালের তালেবান সরকার পতনের পর যুক্ত হয়েছেন। বয়সে তখন ছিলেন তাঁরা কিশোর। নতুন প্রজন্মের কমান্ডাররা পুরোনোদের মৃত্যুর পর কিংবা নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার পর তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। আমেরিকার সঙ্গে যাঁরা শান্তি চুক্তি এগিয়ে নিয়েছিলেন, তাঁদের বেশির ভাগই বয়স্ক। তাঁদের অনেকেই জেলে ছিলেন কিংবা ছাড়া পাওয়ার পর বিদেশে ছিলেন। তাঁরা তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গিতে অনেক বেশি নমনীয়তা দেখিয়েছেন।

তথাকথিত ইসলামিক আমিরাতের সামনে এখন আর কোনো সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ নেই। কিন্তু এ দাবি প্রতারণামূলক হতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে আগের মতো বর্বর পন্থায় তালেবান আর আফগানিস্তান শাসন করতে পারবে না।

কিন্তু কেউ আশা করে না, একটা রক্ষণশীল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন ইসলামিক আমিরাতের ব্যানারে এসে, তাদের পুরোনো ধ্যানধারণা পুরোপুরি রূপান্তর করে ফেলতে পারবে। এখন প্রধান ইস্যু হচ্ছে তালেবান নেতৃত্ব বহুত্ববাদকে কতটা গ্রহণ করতে পারবে? নারীর প্রতি তালেবানের যে প্রতিক্রিয়াশীল দৃষ্টিভঙ্গি, সেখান থেকে তারা কতটা বেরিয়ে আসতে পারবে? তালেবান শাসনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নির্ভর করছে সেটার ওপরেই। নতুন সরকারের জন্য এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা জরুরি।

আপাতদৃষ্টিতে পানশির উপত্যকার পতনের পর তালেবান এখন আফগানিস্তানের পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করছে। তথাকথিত ইসলামিক আমিরাতের সামনে এখন আর কোনো সংঘবদ্ধ প্রতিরোধ নেই। কিন্তু এ দাবি প্রতারণামূলক হতে পারে। বাস্তবতা হচ্ছে আগের মতো বর্বর পন্থায় তালেবান আর আফগানিস্তান শাসন করতে পারবে না। ১৯৯০-এর দশকের আফগানিস্তান এটা নয়। বহুত্ববাদী রাজনৈতিক পরিবেশের অঙ্গীকার থেকে সরে আসাটা আফগানিস্তানের নতুন শিক্ষিত প্রজন্ম মেনে নেবে না। তারা তাদের নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত আফগান দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তালেবানের নিশ্চয়তার বাণী তাঁদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। অস্বস্তিটা এখানে বাস্তবসম্মত।

আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক নারীদের যে বিক্ষোভ, সেটা তাঁদের অধিকার সংকুচিতচেষ্টার বিরুদ্ধে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া নারীর সংখ্যা খুব বেশি নয়। কিন্তু তাঁদের এই প্রতিবাদের অর্থ হচ্ছে অধিকার খর্ব হলে জনগণ আবার লড়াইয়ের মাঠে নামতে প্রস্তুত। আফগানিস্তানে আবার বিতর্কিত আইনগুলো চালু হবে, সেই ভয়েই শিক্ষিত লোকজন সেখান থেকে চলে গেছেন। প্রতিবাদে যেকোনো দমনপীড়ন, অসন্তোষের আগুন জ্বালিয়ে দেবেন। রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং মানবাধিকার ইস্যুর ওপর দ্বিতীয় তালেবান সরকারের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। তারা যদি এখন আরও বেশি রক্ষণশীল অবস্থানে চলে যায়, তবে সেটা হবে ধ্বংসাত্মক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে তারা সমস্যাগুলোর সমাধান করতে পারবে না। ৯০ শতাংশ আফগান দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। তালেবানকে বুঝতে হবে, প্রতিক্রিয়াশীল শাসনে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবন করা যায় না। তাদের কার্যকর প্রশাসন চালাতে গেলে শিক্ষিত, প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি দরকার।

আফগানিস্তান আবার পথের বাঁকে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা আবার চালু হলে তাদের রসাতলে নিয়ে যাবে।

ডন থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

জাহিদ হুসাইননো-উইন ওয়ার-দ্য প্যারাডক্স অব ইউএস-পাকিস্তান রিলেশনস ইন আফগানিস্তানস শ্যাডো বইয়ের লেখক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন