মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা

নতুন প্রজন্ম পরিবর্তন চায়

বিজ্ঞাপন
default-image

গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার (মিডল ইস্ট অ্যান্ড নর্থ আফ্রিকা, সংক্ষেপে ‘মেনা’) দেশগুলোতে এখন প্রশাসনিক থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক স্থবিরতা চলছে।

এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশের বাধা প্রধানত দুটি। একটি হলো অবকাঠামোর মালিকানার অস্পষ্টতা এবং আরেকটি হলো এ অঞ্চলের বাজারে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সহজে ঢোকা ও বের হওয়ার অক্ষমতা। আর রাজনৈতিক প্রতিবন্ধকতা হলো মেনাভুক্ত দেশগুলোতে কর্তৃত্ববাদী শাসন চলছে। এ গ্রহের সর্বশেষ অঞ্চল হলো মেনা, যেখানে এখনো নিরঙ্কুশ রাজতন্ত্র ও সামরিক শাসন জারি আছে, যা অর্থনৈতিক বিকাশের পথের প্রধান অন্তরায়।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বর্তমানে এ অঞ্চলের নতুন প্রজন্ম শিক্ষিত হয়ে উঠছে। তারা যা প্রত্যাশা করে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারের বিধিনিষেধের কারণে তা পূরণ হয় না। বাজার নিয়ন্ত্রণ করে সরকারি খাত। এ কারণে শ্রমবাজারও নিয়ন্ত্রণের ঘেরাটোপে থাকে। এতে চাকরিপ্রার্থী নতুন প্রজন্ম বিক্ষুব্ধ হয়ে থাকে। মেনা অঞ্চলের দেশগুলোতে বেসরকারি যেসব প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাচ্ছে, তারা দীর্ঘদিন থেকেই আর্থিক ‘রক্তশূন্যতায়’ ভুগছে। সরকারি–বেসরকারি খাতে চাকরি–বাকরির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের আধিক্য মেধাবীদের কর্মসংস্থান জোগাড় করাকে দুরূহ করে রেখেছে। এসব কারণে তরুণেরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছে এবং সুযোগ পেলেই তারা বিক্ষোভ করছে।

২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় সেই ধরনের জনবিস্ফোরণ শুরু হয়েছিল, যা এ অঞ্চলের প্রতিটি সরকারকে ভয়ানক ঝাঁকুনি দিয়েছিল। ওই সময় কয়েকটি দেশের সরকারের পতন ঘটলেও কিছু সরকার টিকে যায় এবং টিকে যাওয়ার পর তারা আরও অনেক বেশি নিবর্তনমূলক নীতি আঁকড়ে ধরে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মেনা অঞ্চলে এখন যে অবস্থা চলছে, তার সঙ্গে ১৯৮০-এর দশকের সোভিয়েত ব্লকের তুলনা করা যেতে পারে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে যে সাহসী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার চেয়ে আসছিলাম, সংস্কারবিরোধী অভিজাত শ্রেণি সেই চাওয়াকে সফলভাবে দাবিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু আরব বসন্তের কারণে যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ধস নেমেছিল, অভিজাত সম্প্রদায় তা আবার ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে।

সেই আমলে সোভিয়েত সরকার যেমন নিজেদের মৌলিক তথ্য–উপাত্ত প্রকাশ করত না, একইভাবে এসব দেশও অতি সাধারণ মৌলিক তথ্য কাউকেই জানায় না। সাধারণত এসব দেশে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাদের পছন্দের থিংকট্যাংক ও বিশ্লেষকদের হাতে তথ্য দেয়। সেই তথ্য নিয়ে তারা মিডিয়ায় আলোচনা করে থাকে।

এতে সরকারগুলো আসল সত্য লুকিয়ে রাখার সুযোগ পায়। পর্দার আড়ালে থেকে ক্ষমতাবানেরা সব নিয়ন্ত্রণ করেন এবং তাতে প্রধান প্রধান খাতে একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠা পেয়ে যেতে থাকেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এরপর ২০১৯ সালে নতুন প্রজন্মের বিক্ষোভ নতুন মাত্রা নিয়ে হাজির হয়। মেনা অঞ্চলের বিক্ষোভকারীরা মূলত সরকারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করছে। এ অঞ্চলে নির্বাচিত সরকারপ্রধানদের মধ্যেও যে কর্তৃত্ববাদী মনোভাব লক্ষ করা যায়, তা নতুন প্রজন্ম ভালো চোখে দেখছে না। এখানে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাধারণ জনগণের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব দূর করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও ভূমিকা রাখা দরকার। এ অঞ্চলের বাজারে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যের পথ সুগম করতে পারলে বহু সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করা যেত। এতে আঞ্চলিক শ্রমবাজার বিস্তৃত হতো, বেসরকারি খাত বিকশিত হলে সরকারের কর্তৃত্ববাদী মনোভঙ্গির পরিবর্তন হতো এবং গণতন্ত্রের বিকাশ হতো।

এ মুহূর্তে অগণতান্ত্রিক চিন্তাধারার বিস্তারই মেনা অঞ্চলের প্রধান সমস্যা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখানকার জনগণের মূল চাওয়া।

ইংরেজি থেকে অনূদিত। স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
রাবাহ আরেজকি: বিশ্বব্যাংকের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলবিষয়ক মুখ্য অর্থনীতিবিদ

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন