default-image

করোনার প্রথম ঢেউ শেষে দেশে এখন দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। অনেক দিন বন্ধ থাকার পর দোকানপাট আর শপিং মল আবার খুলে দেওয়া হয়েছে। গার্মেন্টস আর কলকারখানা তো আগে থেকেই খোলা। রেস্তোরাঁগুলোও দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা, যদিও তা শুধু টেকওয়ে ও অনলাইনেই সীমাবদ্ধ।

গণপরিবহন আর রেলওয়েও শিগগির খুলে দেওয়া হবে বলে শুনছি। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে যাঁরা শক্তিশালী কিংবা সরকারি মহলে যাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে, ক্ষমতাবলে তাঁরাই শুধু স্ব স্ব ক্ষেত্রের প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার ব্যবস্থা করেছেন।

আর বরাবরের মতো এবারও ব্যর্থ পর্যটনশিল্প। সরকারের কাছে পর্যটনশিল্প যে কোনো অগ্রাধিকারমূলক শিল্পই নয়, আরও একবার তা স্পষ্ট হলো। অথচ সেমিনার-সিম্পোজিয়ামে পর্যটনশিল্প নিয়ে কতই না গুণগান। সরকারের পর্যটন শিল্পসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্লিপ্ততা এবং অসহায়ত্বও এ ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।

অথচ দেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধিত পর্যটন, বিনোদন, খাদ্য ও আবাসন অ্যাসোসিয়েশনের সংখ্যা দশেরও অধিক। সরকারি মহলে যোগাযোগের অভাবে কিংবা সঠিক লবিং সক্ষমতা না থাকায় পর্যটনশিল্প যে তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই রয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনার এক কানাকড়িও পায়নি পর্যটনশিল্প সংশ্লিষ্টরা। পাবেই-বা কী করে, পর্যটন তো এখনো শিল্পের মর্যাদাই পায়নি। অথচ নব্বই দশক থেকেই শুনে আসছি, আমাদের দেশে পর্যটন হচ্ছে স্বীকৃত শিল্প এবং অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য খাত।

এমনকি এসএমই-তে যেসব সেক্টর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সেখানেও পর্যটন জায়গা পায়নি নেই। কাঁকড়া কিংবা কুঁচে মাছ রপ্তানি করলেও প্রণোদনা পাওয়া যায়, অথচ হোটেল-রিসর্ট কিংবা ট্যুরঅপারেটর অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে কোনো প্রণোদনা নেই, স্বীকৃতিও নেই।

এখনো সরকারি উচ্চ মহলের ধারণা, আমাদের বিনাশুল্কে কিংবা ছাড়ে পর্যটন যানবাহন আনার সুযোগ দিলে আমরা অপব্যবহার করব, স্ত্রী-পুত্র-কন্যা নিয়ে ঘুরে বেড়াব।

পর্যটন স্থানগুলো বন্ধ আছে। বন্ধ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবাসন, খাদ্য আর পর্যটন প্রতিষ্ঠানগুলোর অফিস। চলছে কর্মী ছাঁটাই। অনেকেই শুধু বেঁচে থাকার প্রয়োজনে বিকল্প কাজ খুঁজছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আর অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সামনে এখন একটাই পথ। পর্যটন, আবাসন, বিনোদন আর খাদ্যসংশ্লিষ্ট সরকার নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান আর অ্যাসোসিয়েশনগুলোর এক সুরে কথা বলা। সরকারের কাছে ন্যায্য দাবিগুলো তুলে ধরা, হোক তা সরকার ঘোষিত প্রণোদনা কিংবা স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যটন স্থানগুলো খুলে দেওয়ার দাবি।

না হলে পর্যটনশিল্পে যে ৪০ লাখ মানুষ জড়িত আছে, আমাদের ওপর তাঁদের অভিসম্পাত বর্ষিত হবে। পবিত্র এই রমজানে সবার শুভবুদ্ধির উদয় হোক। বেঁচে যাক বিপন্ন পর্যটনশিল্প, বেঁচে থাকুক ৪০ লাখ মানুষ আর তাঁদের পরিবার।


তৌফিক রহমান সেক্রেটারি জেনারেল, পাটা বাংলাদেশ কেন্দ্র

বিজ্ঞাপন
কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন