৮ মে ২০১৯, প্রথম আলোর আয়োজনে ও ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেশনের (এফএও) মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন ‘মিটিং দ্য আন্ডার–নিউট্রিশন চ্যালেঞ্জ’ কম৴সূচির সহযোগিতায় ‘পুষ্টিসমৃদ্ধ বিশ্ব: তরুণসমাজের সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে প্রকাশিত হলো।

আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম 

প্রবাদ আছে, আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। দুধে-ভাতে সুখে থাকব ইত্যাদি। কিন্তু এর গুরুত্বটা আমরা হয়তো উপলব্ধি করি না। এ কারণে আমাদের জনসংখ্যার একটা বিশাল অংশ এখনো পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। এর অন্যতম নিয়ামক সচেতনতার অভাব।

পুষ্টি সচেতনতা সৃষ্টি ও সবাই যেন পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করে সে জন্য এ ক্ষেত্রে তরুণদের সম্পৃক্ততা দরকার। মোবাইল, ইন্টারনেটের মাধ্যমে তরুণদের পুষ্টি বিষয়ে ধারণা দেওয়া যেতে পারে। এ বিষয়ে তরুণ ও যুবসমাজকে উজ্জীবিত করা প্রয়োজন। আজকের আলোচনায় এসব বিষয় আসবে। এখন আলোচনা করবেন বদরুল আরেফিন।

default-image

বদরুল আরেফিন 
পুষ্টি অলিম্পিয়াড গত ২৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজকের অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। সরকার এ বছর তৃতীয়বারের মতো পুষ্টি সপ্তাহ উদ্‌যাপন করে এবং পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আরও কয়েকটি কর্মসূচি পালন করে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণসমাজকে সম্পৃক্ত করা।

এই উদ্দেশ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অার্থিক সহায়তায় দেশের ১৬টি জেলায় পুষ্টিবিষয়ক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এটা উন্নয়নশীল বিশ্বে একটি বৃহত্তম উদ্যোগ।

পুষ্টির তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য এবারের আয়োজনে গণমাধ্যম ছিল আমাদের অন্যতম অংশীদার। পুষ্টির লক্ষ্যের সফল বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনেক।

এই সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণসমাজ ও পুষ্টিকর খাবার নিয়ে প্রতিশ্রুতি আছে। এবার এগুলোর দিকে সরকার মনোযোগ দেবে। নতুন খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তানীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। দ্রুত জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তানীতি বাস্তবায়ন করা হবে। এই নীতির প্রাথমিক লক্ষ্য হবে এসডিজির (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা) লক্ষ্য পূরণ। এর মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা উন্নত দেশে পরিণত হব।

নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে না রেখে একে জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।এ জন্য কায৴কর নীতিমালা ও বিনিয়োগ পরিকল্পনা দরকার। এই বিনিয়োগ পরিকল্পনায় সরকারি–বেসরকারি সবার অংশীদারত্ব থাকবে।

একটি পুষ্টি সংবেদনশীল বাজেট দরকার। এটা অনুসরণ করা হবে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়। পাঠ্যপুস্তকের মলাটের ভেতরের পাতায় আমরা বিভিন্ন পুষ্টি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করব। এ জন্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

default-image

মো. শাহ নেওয়াজ
সরকার জাতীয় পুষ্টি নীতিমালার কম৴পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। আমাদের জাতীয় পুষ্টি পরিকল্পনায় বলা আছে, পুষ্টি খাতের সঠিক বাস্তবায়ন ঘটলে দেশের মানুষের কর্মক্ষমতা বাড়বে। কাজ করার আগ্রহ বাড়বে। দেশের বার্ষিক আয় ৭০ হাজার কোটি টাকা বেশি হবে।

শিশুদের নিজ হাতে খাওয়ার অভ্যাস করাতে হবে। আমাদের তরুণদের জন্য বাজার তৈরি আছে কি না তা দেখতে হবে। আমরা বর্তমানে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি, এবার পুষ্টির ব্যবস্থা করতে হবে। দেশে ওরস্যালাইন তৈরির পদ্ধতি গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয়েছিল, তা কেউ ভুলবে না। ঠিক তেমনিভাবে আবার পুষ্টির জন্য দেশব্যাপী প্রচার-প্রচারণা দরকার।

default-image

ললিতা ভট্টাচার্য
আমরা জানি, বাংলাদেশে ১০-১৯ বছর বয়সী কিশোর–কিশোরীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ। এটা মোট জনসংখ্যার এক–পঞ্চমাংশ। তাদের জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্যের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।

এ সময় কিশোরীদের ভালো যত্ন নিতে পারলে ভবিষ্যতে তাদের মাতৃত্বের জন্য অনেক উপকার হবে এবং তাদের অনাগত সন্তানেরা স্বাস্থ্যবান হবে। বাংলাদেশে তরুণীদের জন্য দুটি খারাপ দিক হলো অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস ও বাল্যবিবাহ।

নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডসহ নানা কম৴সূচির মাধ্যমে আমরা পুষ্টির বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন সংগঠনের সহায়তায় তরুণেরা নিউট্রিশন ক্লাবে যুক্ত হচ্ছে। তাঁরা এখান থেকে পুষ্টির বিষয়ে বিভিন্ন নতুন তথ্য জানতে পারছে। আমরা চাই, তারা যেন এসব তথ্য মানুষের কাছে নিয়ে যায়।

আদশ খাদ্যের বিভিন্ন সামঞ্জস্যপূর্ণ নমুনা আছে। এখান থেকে শিশুরা তাদের প্রয়োজনীয় খাদ্য খেতে পারবে। এতে এক থালা খাবারের অর্ধেক হবে ভাত এবং বাকি অর্ধেক হবে পুষ্টিসমৃদ্ধ অন্যান্য খাবার। অল্প খরচেও পুষ্টিকর খাবার পাওয়া সম্ভব।

চানাচুর, ভাজাপোড়া খাদ্যসহ নানা ধরনের অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করছে শিশুরা। এর কারণ হচ্ছে রং এবং স্বাদের আকর্ষণ। পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারগুলোকে এমনভাবে সাজাতে হবে যেন তরুণেরা এতে আকৃষ্ট হন এবং তঁারা তঁাদের অভিভাবকদেরও বোঝাতে সক্ষম হন।

তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। তাঁদের কাছে পুষ্টি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্যই অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশের অনেক কিশোর–কিশোরী পুষ্টিহীনতায় ভোগে। এটা থেকে মুক্তির জন্য ইয়ুথ ক্লাবগুলো অনেক ভূমিকা রাখতে পারে।

কিছুদিন আগে সম্পন্ন হওয়া পুষ্টি অলিম্পিয়াডের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল তরুণদের মধ্যে পুষ্টি সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া। তাঁদের কাছে এ বার্তাটা এমনভাবে পৌঁছে দিতে হবে যেন তাঁরা সহজেই অনুধাবন করতে পারেন।

দেশের ১৫ শতাংশ তরুণ ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করেন না। সবার কাছে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। তরুণেরা এই বার্তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করতে পারেন। তা ছাড়া আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কেন শিশুরা স্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছে না।

  ইদানীং অনেক বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন অস্বাস্থ্যকর খাবারের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

 দুধ গ্রহণের পরিমাণ বাংলাদেশে অনেক কম। তরুণেরা কেন পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খেতে চান না, এ বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য সবাইকে অনুরোধ করুন।

default-image

জেরিন তাসনিম 
আমাদের কলেজে প্রতি মাসে নিউট্রিশন ক্যাম্পেইন করি। এখানে বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষের বয়স, উচ্চতা, ওজন হিসাব করা হয়। তাদের রক্তচাপ মেপে খাদ্য গ্রহণের একটি সাধারণ দিকনির্দেশনা দিই। কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিত আর কোন ধরনের খাবার খাওয়া উচিত নয় আমরা এ বিষয়ে কথা বলি।

আমরা নার্সারি শ্রেণির শিশুদের মধ্যে পুষ্টির বার্তা ছড়িয়ে দিতে কাজ করছি। বিভিন্ন খেলা, অ্যানিমেশন, কার্টুন চরিত্রের মাধ্যমে তাদের কাছে পুষ্টির মূল কথাগুলো জানিয়েছি। এ কারণে অনেক শিশুর অভিভাবকেরা ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন। এমনকি শিশুরা তাদের মায়েদের পুষ্টিকর খাবার নিয়ে সহায়তা করেন। তিন–চার বছরের শিশুদের মধ্যে এই অভ্যাসটি গড়ে তুলতে পারলে বড় হওয়ার পরও এটা থেকে যাবে।

আমাদের মূল সমস্যা হচ্ছে আমরা ছোটবেলায় চিপস, চকলেট যা বায়না করি, আমাদের অভিভাবকেরা তা দিয়ে দেন। ফলে আমাদের অভ্যাস খারাপ হয়ে যায়।

আমাদের ক্যাম্পেইনের ৪০ শতাংশ মানুষ পরবর্তীকালে যোগাযোগ করেছেন আমাদের সঙ্গে। তাঁরা আমাদের দিকনির্দেশনা মেনে উপকৃত হয়েছেন। তঁারা আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন আমরা যেন প্রতি মাসেই ক্যাম্পেইনটা করি।

তরুণ–তরুণেরা প্রায়ই সকালের খাবার খান না। ফলে তাঁদের গ্যাস্ট্রিক, পেটে ব্যথা, ওজন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।

default-image

রুহুল আমিন
‘এক কাপ দুধ অথবা একটি এনার্জি ড্রিংকসের মধ্যে কোনটি ভালো এমন প্রশ্নের জবাবে একজন ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ছাত্র হিসেবে আমি দুধটাই বেছে নেব। কিন্তু অনেক হয়তো এনার্জি ড্রিংকসটাই নেবেন। তরুণদের মধ্যে দুধ খাওয়া নিয়ে অনীহা আছে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহে ২০১৬ সালে ‘এনগেজিং ইয়ুথ ইন নিউট্রিশন’ এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে একটি নিউট্রিশন ক্লাব প্রতিষ্ঠা করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার পাশাপাশি প্রত্যন্ত অঞ্চলেও আমরা কাজ করছি। এই ক্লাবের মাধ্যমে ময়মনসিংহের অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তাদের শেখানো হচ্ছে ‘স্মার্ট কুকিং’ পদ্ধতি।

উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আমরা লালশাক কাটার সময় এর থেকে লাল পানি বের করে দিচ্ছি আবার রান্নার সময়ও লাল পানিটা বের করে দিচ্ছি। এতে আমরা লালশাকের পুষ্টিগুণটা পাচ্ছি না। স্মার্ট কুকিংয়ের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছি।

আমরা পুষ্টি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি বিদ্যালয়কে বেছে নিয়েছি। বিদ্যালয়ের একটি শিশুকে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করতে পারলে পুরো পরিবারের কাজে আসবে।

শিশুদের আমরা বুঝিয়েছি চকলেটের চেয়ে শাকসবজি অনেক উপকারী। তা ছাড়া অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের পর থেকে শিশুদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। অন্য ক্লাবগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করে ওদের পুষ্টি নিয়ে কাজ করার আগ্রহ বেড়েছে।

আমাদের ক্লাবের দায়িত্বে থাকা মেঘনা নামের একটি মেয়ে অলিম্পিয়াডে সেরা সদস্য হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও ‘হিডেন হাঙ্গার’ থেকেই যাচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষাথী৴রা বাইরের হোটেলগুলোতে খান, এতে তাঁদের অনেক সমস্যা হয়। আমরা স্মার্ট কুকিংয়ের একটি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার চিন্তা করছি, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে স্থানীয় এলাকাবাসীও সুবিধা পাবেন।

default-image

মাইশা আহসান 
সকালের খাবার না খেয়ে আমরা যদি সরাসরি দুপুরের খাবার খাই তাহলে সারা রাত না খেয়ে থাকার ফলে আমাদের দেহের যে ক্ষতি হয়, তা পূরণ হবে না। সকালে একটি ফল খেলেও অনেক কাজে দেবে।

সকালে নাশতা না করার কারণে ওজন বেড়ে যাওয়া সম্পর্কে তরুণদের কোনো ধারণা নেই।সকালের খাবারের ফলে সবচেয়ে বেশি শক্তি সঞ্চয় হয়। এটা তরুণেরা অনেকেই জানেন না।বাইরের দেশগুলোতে রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালা, ফলের রস বিক্রেতারা সব সময় গ্লাভস ব্যবহার করেন। যখন তাঁরা টাকা নেন তখন গ্লাভস খুলে টাকা নেন। কিন্তু আমাদের দেশে এমনটি দেখা যায় না।

আমাদের স্কুলের নিউট্রিশন ক্লাব রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালা, ফলের রস বিক্রেতাদের মধ্যে এই সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করেছে। বিক্রেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছে, পরিষ্কারভাবে খাবার বিক্রি করলে বিক্রি বাড়বে। সেই সঙ্গে সবাই ভালো থাকব।

আমাদের ক্লাব শিশুদের সবুজ শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। যেমন আমরা অভিভাবকদের বলি, তাঁরা যেন শিশুদের খেলার মাধ্যমে এগুলো খেতে উৎসাহিত করেন।

অনেক শিশুরা আঁকাআঁকি পছন্দ করে। আমরা তাদের এভাবে বোঝাতে পারি যে তারা যদি ডিমটা খায় তাহলে তাদের ডিমের খোসাটার ওপর নকশা আঁকতে দেওয়া হবে। আমরা শিশুদের এভাবেও বোঝাতে পারি যদি তুমি লালশাক খাও তাহলে তোমাকে লালশাকের একটি পাতা দেব। তুমি এটা দিয়ে রং করতে পারবে। এভাবে শিশুদের আরও বেশি উৎসাহী করতে পারি।

গ্রামীণ এলাকায় গর্ভবতী মায়েদের সেবার জন্য মোবাইল হাসপাতালের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এই হাসপাতালগুলো প্রতি মাসে কিংবা দুই মাসে একবার করে গিয়ে গর্ভবতী মায়েদের পরীক্ষা করে আসবে।

কিশোর-কিশোরীদের পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন করার জন্য আমাদের ক্লাবের পক্ষ থেকে আমরা কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। এর মাধ্যমে তরুণদের কাছে পুষ্টির বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা করেছি।

default-image

জিল্লিয়ান এল ওয়াইদ
আমার আলোচনা মূলত খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টি তথ্য সম্পর্কে। এখানে তরুণদের কীভাবে আরও বেশি অংশগ্রহণ করানো যায় এবং এখানে কী কী ঘাটতি আছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার।

নিউট্রিশন জরিপে ১৯৬৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের পুষ্টি তথ্য রয়েছে। আমরা পাকিস্তান আমল থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু কিছু বিষয় যেমন কিশোর-কিশোরী, নারী এসব বিষয়ে আগের তথ্য খুব কমই পাওয়া যায়। অর্থনীতির বিভিন্ন অংশগুলো যেমন ফসল উৎপাদন, মৎস্য উৎপাদন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কীভাবে জাতীয় পুষ্টিকে প্রভাবিত করেছে তার তথ্য আছে। এসব তথ্য আরও বেশি করে কাজে লাগানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশে পুষ্টিতথ্য নিয়ে কাজ হয়েছে খুব কম। পুষ্টিতথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য এখানে তেমন কোনো কর্মপরিকল্পনা নেই।আমরা জানি না এ ব্যাপারে কী করব। এখানে সরকারের পক্ষ থেকে খাবার সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই।

পুষ্টির ব্যাপারে নীতিনিধ৴ারকদের কী জানা দরকার, কীভাবে তাঁরা এটা জানবেন, তাঁদের কাজ কেমন হবে—এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। সরকারি, বেসরকারি বহু প্রতিষ্ঠান পুষ্টি নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করছে, তাদের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় অংশটার প্রতি জোর দিতে হবে। আমি বলছি না দেশের কোনো একটা জেলায় গিয়ে কাজ শুরু করে দিতে। যেখানে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে তাড়াতাড়ি কাজ করতে হবে। বিভিন্ন এলাকার খাদ্যাভ্যাস অনুযায়ী পুষ্টি কার্যক্রম হাতে নিতে হবে।

সুশীলসমাজ, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী ও সব শ্রেণির জনগণকে নিয়ে পুষ্টির জন্য কাজ করতে হবে। তাদের একে অপরের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।

কোনো বিশ্লেষণকে নীতিতে পরিণত করা সহজ বিষয় নয়। আমি বাংলাদেশে ১০ বছর যাবৎ কাজ করে এটা খুব ভালোভাবেই দেখেছি।

বাংলাদেশে বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছি বেশি আয় মানেই বেশি পুষ্টি নয়। বিভিন্ন রকমের খাদ্য হতে পারে কিন্তু সব সময় পুষ্টিকর খাদ্য নয়। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ একেক বয়সে একেক ধরনের সহায়তার প্রয়োজন হয়।

পুষ্টির বিষয়ে তরুণদের নেতৃত্ব দিতে হবে। তরুণদের জ্ঞানই ভবিষ্যতের জ্ঞান।

তরুণ বয়সে গড়ে ওঠা অভ্যাস সারা জীবন থাকে। তাই অল্প বয়স থেকেই শিশুদের পুষ্টিকর খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তরুণেরা যদি এখন থেকেই পুষ্টি সম্পর্কে সচেতন হন তাহলে তাঁদের জীবন আরও বেশি সুন্দর হবে। তাই তরুণদের পুষ্টি কম৴সূচির কেন্দ্রবিন্দুতে রাখা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

default-image

শেখ শাহেদ রহমান
সূচনা কর্মসূচির আওতায় আমরা বাংলাদেশের দুটি জেলা সিলেট ও মৌলভীবাজারের ১৫৭টি ইউনিয়নে কাজ শুরু করেছি। গত দুই বছরে এ এলাকাগুলোতে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। ১ লাখ কিশোরী এই কম৴সূচির আওতায় এসেছে। ভবিষ্যতে এর আওতা আরও বাড়াব আমরা।

আমরা সচেতনভাবেই দুটি কারণে কিশোরীদের নিয়ে কাজ করি। প্রথমত, জাতি গঠনে কিশোরীদের ভূমিকা অনেক বেশি থাকে। আমাদের দেশ তারুণ্যনির্ভর। আমরা এখন জনসংখ্যা সুযোগের সুবিধায় আছি। এটাকে কাজে লাগাতে হবে।

এ সময় তরুণদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিতে হবে যেন তাঁদের জীবনে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। আমরা তাঁদের জীবন দক্ষতা ও নিউট্রিশনের ওপর প্রশিক্ষণ দিই। যেন তাঁরা জীবন ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও বেশি স্বাধীন হতে পারেন। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি তরুণীই ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় মা। মা হওয়ার সিদ্ধান্তে একটি তরুণী যত বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন, তাতেই সূচনা কম৴সূচির সার্থকতা।

পুষ্টি মানেই খাদ্য নয়। জীবনাচরণও পুষ্টির অন্তর্ভুক্ত। তরুণীদের মধ্যে এই বোধটা আনতে পারলে আরও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আমি কী খাবার খাব তা আমি নিজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি কি না সেটা নিশ্চিত করতে হবে। স্বাস্থ্যসমৃদ্ধ জাতি গড়তে হলে আমাদের জাতীয় জীবনাচরণের দিকেও নজর দিতে হবে। ‘ফুড কনজিউমার বিহেভিয়ার’ অনুযায়ী ভোক্তাদের চাহিদা কীভাবে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সেটা আমাদের দেখতে হবে।

এখনো আমাদের দেশে শহর ও গ্রামের মধ্যে খাদ্যবৈষম্য আছে। খাদ্য ও পুষ্টিসংক্রান্ত বেশির ভাগ কাজই ঢাকা ও তার আশপাশের এলাকাতেই সীমাবদ্ধ। এটাকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে।

গ্রামীণ এলাকায় পুষ্টি ক্লাবের কার্যক্রম আরও ছড়িয়ে দিতে হবে, যেন তাঁরা পুষ্টি সম্পর্কে আরও সচেতন হতে পারেন।

 পুষ্টির জন্য বাজেট তেমনভাবে আসেনি। আসছে বাজেটে পুষ্টির জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ আসবে? এখানে বরাদ্দ না এলে হবে না।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) সামনে রেখে পুষ্টির জন্য বাজেটেও খেয়াল রাখতে হবে। সরকারের প্রতি তরুণদের পক্ষ থেকে বাজেটে পুষ্টির জন্য বরাদ্দ বেশি রাখার জন্য আবেদন জানাই।

default-image

নাওকি মিনামিগুচি 
আমি তিন বছর ধরে নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডে বিচারক হিসেবে থাকছি। আমি সেখানের সবকিছু ভালোভাবে দেখেছি। নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডের নীতিনিধ৴ারণী অংশগুলোর উদ্দেশ্য ছিল পুষ্টি নিয়ে তরুণদের অভিমত জানা। বাংলাদেশের উন্নয়নে তরুণদের ভাবনা বিবেচনায় আনতে হবে।

খাদ্যনিরাপত্তার জন্য জাতীয় নীতি হালনাগাদ করা দরকার। সরকার এ বছর খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা সম্পর্কে নীতিনির্ধারণ করবে। নীতিগুলো বিশেষজ্ঞদের নিয়ে করা হয়। এখানে তরুণদের অংশগ্রহণ থাকতে হবে। ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশে নীতিনির্ধারণে তরুণদের সম্পৃক্ততা খুবই কম। এ ক্ষেত্রে তরুণদের সম্পৃক্ত করলে বাংলাদেশের জন্য এটা হবে যুগান্তকারী ঘটনা।

আমরা নীতিনির্ধারণের জন্য আলোচনা অনুষ্ঠান করেছিলাম, সেখানে অন্যান্য প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছিলেন। আমি সেখানে দেখেছি তাঁরা কীভাবে এই নীতিনির্ধারণ আলোচনার অংশ হয়ে কাজ করে আনন্দ পেয়েছেন। এমনকি তাঁরা আমাদের সারা দেশে নিউট্রিশন ক্লাবের কার্যক্রম আরও বাড়ানোর জন্য অনুরোধ করেছেন। তাঁরা আরও আলোচনা অনুষ্ঠান করার জন্য অনুরোধ করেছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, গৃহস্থালির কাজে নারীরা বেশি পারদর্শী। এতে সময়েরও অপচয় হয় অনেক কম। লিঙ্গবৈষম্য কমানোর জন্য পুরুষের উচিত নারীদের কাজের গুরুত্ব দেওয়া। আমি মনে করি বাংলাদেশের নারীদের সুযোগ দেওয়া হলে তাঁরা আরও ভালো করবেন।

 এখানকার বিদ্যালয়ের শিশুরা নিজেদের উন্নতি করছে এবং এদের ভবিষ্যৎ সামনে আরও ভালো। পুষ্টি অলিম্পিয়াডে দেখা যায় ৬০ শতাংশের বেশি তরুণেরা খাদ্যনীতি সম্পর্কে সচেতন। এই নীতিগুলো পুষ্টিকর খাদ্যের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি করবে বলে মনে করি।

default-image

মো. শহীদ উদ্দিন আকবর
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী মানুষ মোট জনসংখ্যার ৪২ শতাংশ। তার মানে প্রায় ৭ কোটি মানুষের বয়স ৫ থেকে ২৪ বছর। তাদের অবদানকে পুষ্টির ক্ষেত্রে কীভাবে আরও বেশি ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে। তাদের গুরুত্ব দিতে হবে।

আমাদের লম্বা সময়ের একটা অভিজ্ঞতা হচ্ছে, প্রকল্প আসে প্রকল্প যায়। এর প্রভাবটা সত্যিকার অথে৴ চলমান থাকে না। ২০১৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিউট্রিশন ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে ২৪টি ক্লাব আছে সারা দেশে। ঢাকার বাইরে এদের কায৴ক্রম বেশি।

প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করেই ওই প্রতিষ্ঠানে ক্লাব করি যেন পরে প্রকল্প শেষ হয়ে গেলেও ক্লাবের কার্যক্রম চলতে পারে। সুতরাং প্রকল্প শেষ হয়ে গেলেও ক্লাবগুলো চলমান থাকবে।  শিশুরা পাঠ্যপুস্তকে খাদ্য পিরামিডের কথা মুখস্থ বলে দিতে পারে। কিন্তু নিজেদের খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে এটা মেনে চলে না। অনেক স্মার্ট কুকিং–ব্যবস্থা আছে। এগুলোকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।

পুষ্টি বিভাগ থেকে পাস করা ৬৫ শতাংশ শিক্ষাথী৴ চাকরি পাচ্ছেন না। তাঁদের কীভাবে এখানে আনা যায়, সেটা ভাবতে হবে। দেশের পুষ্টি খাতের সঙ্গে তাঁদের আরও বেশি সম্পৃক্ত হতে হবে। তরুণদের পুষ্টি খাতে উদ্যোক্তা হয়ে আসার আহ্বান জানাই ।

স্কুলগুলোতে শিক্ষাথী৴দের জন্য পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যক্রম নেই বললেই চলে। আমাদের ক্লাবগুলোর কার্যক্রমকে স্কুলগুলোতে সহশিক্ষা কার্যক্রম হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষাথী৴রা আরও বেশি আগ্রহী হচ্ছে।

পুষ্টিসমৃদ্ধ দেশ গড়ার পদক্ষেপে প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে রাখতে হবে। সারা দেশে নিউট্রিশন ক্লাবের সংখ্যা বাড়ানো প্রয়োজন। এটা যেন একটা সমন্বিত কাজ হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সব পক্ষকেই এখানে যুক্ত করা দরকার। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সবারই অবদান থাকতে হবে এখানে।

default-image

নাসের ফরিদ 
তরুণদের অনেক উৎসাহ আছে। তাঁরা কাজ করতে চান। পুষ্টির ক্ষেত্রে আমরা তরুণদের সম্পৃক্ততার কথা বলছি। কিন্তু তরুণেরা কেন এ খাতে যুক্ত হবেন? ব্যক্তির জন্য, সমাজের জন্য নাকি দেশের জন্য? আমাদের দেশে যাঁদের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়, সব ক্ষেত্রে তাঁদের কথা শোনা হয় না।

আমি মনে করি, তরুণেরা তাঁদের জীবিকার জন্য চিন্তা করবেন। বত৴মান সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহারের মাধ্যমে ৪ কোটি তরুণকে আকৃষ্ট করেছে। তাঁদের জীবিকার ব্যবস্থা করার কথা বলেছে। ২০২১ সালের মধ্যে তরুণদের জীবিকা উন্নয়নে সরকারের আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা আশা করতেই পারি।

তরুণদের জীবিকা উন্নয়নের ব্যাপারটা কীভাবে ঘটবে? এটা কি সরকার বলে দিলে তরুণেরা ঝাঁপিয়ে পড়বেন, নাকি তরুণদের আশা–আকাঙ্ক্ষা শুনে সরকার নীতিনির্ধারণ করবে যেন তরুণেরা সম্পৃক্ত হতে আগ্রহী হয়।

তরুণদের বলতে হবে তারা কীভাবে এটা চায়। এটা নিয়ে কাজ করতে সরকার বাধ্য, কারণ তাদের ইশতেহারেই এই প্রতিশ্রুতি আছে। তরুণ উদ্যোক্তা বের হয়ে আসুক। উদ্যোক্তা তৈরিতে আমরা কী করেছি? সরকার কী করেছে? তারা কীভাবে এখানে আসতে চান তার জন্য আমরা কি কোনো পথরেখা তৈরি করেছি? আমরা কি তাদের কথা শুনছি? উদ্যোক্তা তৈরি না হলে এটা নীতিনির্ধারণের ব্যর্থতা হবে।

গত নিউট্রিশন অলিম্পিয়াডে রচনা প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলাম। রচনাগুলোতে দেখেছি, তরুণেরা প্রযুক্তির মাধ্যমে উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার চিন্তা করেন। আর যাঁরা নীতি নির্ধারণ করেন অর্থাৎ বয়স্করা, খাতা-পেনসিলে চিন্তা করেন। তাহলে তাঁরা কীভাবে তরুণদের চিন্তার প্রতিফলন ঘটাবেন?

আমাদের পাঠ্যতালিকায় পুষ্টির বিষয়টি আনতে হবে। লাইব্রেরিগুলোতে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত উপকরণ নেই। নেতা শুধু রাজনীতিতেই নয়, সবকিছুতেই লাগবে। দেশের সব জায়গাতে সঠিক নেতৃত্ব দরকার।

দেশে পুষ্টির সাবি৴ক উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা কে দেবে? সরকার দেবে। প্রতিবছর সরকার কৃষি বাজেটের সময় কৃষকদের কথা শোনে। আমি তো মনে করি, তাঁদের কথার অধে৴ক শুনলেও অনেক কাজ হবে।

তেমনিভাবে তরুণদের জন্য নীতি নির্ধারণ করতে হলে তাঁদের কথা শুনতে হবে। এ জন্য তরুণদের নেতৃত্ব দিতে হবে।

সফল উদ্যোক্তা হতে হলে তরুণদের আরও বেশি কম৴ক্ষম ও আধুনিক চিন্তার অধিকারী হতে হবে।

আব্দুল কাইয়ুম

শারীরিক বৃদ্ধির জন্য পুষ্টির প্রয়োজন খুব বেশি। শুধু পেট ভরে ভাত খেলেই হবে না। পেট ভরে ভাত খেলে অর্থাৎ বেশি শক৴রা খেলে হয়তো অনেক বেশি কাজ করতে পারবে, কিন্তু পুষ্টি না নিতে পারলে শারীরিক বৃদ্ধি ঘটবে না।

আমাদের ছেলেমেয়েদের অনেকে কম উচ্চতাসম্পন্ন হচ্ছে। এর মূল কারণ সচেতনতার অভাব। এই উদ্দেশ্যে সরকার অনেক পরিকল্পনা নিয়েছে; মন্ত্রণালয় অধিদপ্তর সবাই পুষ্টির বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।

ভবিষ্যতে পুষ্টি খাতে বাংলাদেশের আরও বেশি অগ্রগতি হবে বলে আশা করি।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

যাঁরা অংশ নিলেন

বদরুল আরেফিন: মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব), ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (এফপিএমইউ), খাদ্য মন্ত্রণালয়।

মো. শাহ নেওয়াজ: মহাপরিচালক, বাংলাদেশ জাতীয় পুষ্টি কাউন্সিল (বিএনএনসি)।

ললিতা ভট্টাচার্য: সিনিয়র পুষ্টিবিদ, মিটিং দ্য আন্ডার নিউট্রেশন চ্যালেঞ্জ (এফএও)।

নাওকি মিনামিগুচি: চিফ টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর, মিটিং দ্য আন্ডার নিউট্রেশন চ্যালেঞ্জ, (এফএও)।

নাসের ফরিদ: সুশাসন উপদেষ্টা, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা।

মো. শহীদ উদ্দিন আকবর: চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিআইআইডি ফাউন্ডেশন।

শেখ শাহেদ রহমান: টিম লিডার, সূচনা কর্মসূচি, সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশ।

জিল্লিয়ান এল ওয়াইদ: টেকনিক্যাল ডিরেক্টর, ন্যাশনাল ইনফরমেশন প্ল্যাটফর্ম ফর নিউট্রিশন, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল।

রুহুল আমিন: সভাপতি, নিউট্রিশন ক্লাব, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ।

জেরিন তাসনিম: সাধারণ সম্পাদক, নিউট্রিশন ক্লাব, কলেজ অব হোম ইকোনমিকস।

মাইশা আহসান: সভাপতি, নিউট্রিশন ক্লাব, ম্যাপেল লিফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।

সঞ্চালক

আব্দুল কাইয়ুম: সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন