বিজ্ঞাপন

বাইডেনের ডেমোক্রেটিক পার্টির সরকার সে রকম সরাসরি দুর্বৃত্তায়নের পথ যে পরিহার করবে, তা নিশ্চিত করে বলা গেলেও বাণিজ্য ভারসাম্য ও বিনিয়োগসংক্রান্ত বিষয়গুলোতে খুব বেশি ছাড় পাওয়ার প্রত্যাশা জাপান করছে না। আর এ কারণেই সুগা চাইছেন, যত দ্রুত সম্ভব বাইডেনের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপ সেরে নিয়ে তুলনামূলক কম সময়ে ওয়াশিংটন সফরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। তবে এ জন্য তাঁকে বাইডেনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে।

জাপানে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতি নিয়ে অতীতে দুই দেশের মধ্যে বড় ধরনের কোনো মতপার্থক্য দেখা দেয়নি, যদিও জাপানে নাগরিক পর্যায়ে সেই সামরিক উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ বিরাজমান। সামরিক উপস্থিতির দোহাই দিয়ে মিত্রদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে নেওয়ার বিষয়টি বাইডেন প্রশাসনের অনুসৃত নীতিতে প্রাধান্য না পেলেও যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত চাইবে জাপানের মতো পূর্ব এশিয়ার মিত্রদেশগুলো যেন অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখায় আরও বেশি বলিষ্ঠ ও সম্প্রসারিত ভূমিকা পালন করে। ওবামা প্রশাসনের সময়ও ঠিক এ রকম চাপের মুখে ছিল জাপান। সে রকম কিছু করতে হলে জাপানকে যে চীনের সমালোচনার মুখে পড়তে হবে, জাপানি নেতৃত্ব সে বিষয়ে ভালোভাবে অবগত। ফলে চীনকে জড়িত রেখে কিছু করা যায় কি না, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন জাপানের নীতিনির্ধারকেরা।

অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে জাপানের চলমান বিবাদ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কোনোরকম রদবদল হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতারা। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে বিতর্কের নিষ্পত্তি যেন জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়ায় সেরে নেয়। অতি সম্প্রতি কিছুটা অগ্রগতি এ ক্ষেত্রে লক্ষ করা গেলেও অতীত ইতিহাসের ব্যাখ্যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব এখনো আছে।

তবে পূর্ব এশিয়াজুড়ে সবচেয়ে বড় যে বাধা বাইডেন প্রশাসনকে মোকাবিলা করতে হবে তা হচ্ছে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক। অর্থনৈতিক দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখন নানাভাবে চীনের ওপর নির্ভরশীল। অন্যদিকে সামরিক শক্তির দিক থেকেও চীন এখন আগের মতো পিছিয়ে নেই। ফলে ভয় দেখিয়ে চীনকে বাগে আনার মতো পরিস্থিতি এখন আর নেই, যে চেষ্টা ট্রাম্প প্রশাসন করে যাচ্ছিল। আন্তপ্রশান্ত মহাসাগর অংশীদার বা টিপিপির মতো নতুন কোনো বহুপক্ষীয় কাঠামোতে চীনকে যুক্ত করে সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া যায় কি না, জাপান সেটা এখন বিবেচনা করে দেখছে এবং ওয়াশিংটনকেও হয়তো টোকিও এ বিষয়ে প্রভাবিত করতে পারে। তবে তা করতে হলে তাইওয়ানসংক্রান্ত কঠোর অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছুটা হলেও সরে আসতে হবে, যা কিনা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শিল্প খাত দেখতে আগ্রহী হবে না। কেননা চীনা জুজুর ভয় দেখিয়ে বিশাল অঙ্কের যে সামরিক সরঞ্জাম তাইওয়ানের কাছে ট্রাম্প বিক্রি করতে শুরু করেছিলেন, মুনাফার সেই ভান্ডারে টান পড়ুক, সেটা তাদের কাম্য নয়।

(টোকিও, ৯ নভেম্বর ২০২০)

মনজুরুল হক: শিক্ষক ও সাংবাদিক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন