বাংলাদেশের শিক্ষা-সম্পর্কিত কয়েকটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও পরীক্ষার নাম পরিবর্তন করা জরুরি। একক শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ‘প্রাথমিক ও গণশিক্ষা’ অংশ ২০০২ সালে বের হয়ে পৃথক মন্ত্রণালয়ের মর্যাদা লাভ করে। কিন্তু শুধু মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত অংশ এখনো নামের দিক থেকে পূর্ণ ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়’ই রয়ে গেছে। এর যৌক্তিক নাম হবে ‘মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয়’।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) শুরুতে এতে তিনটি শাখা ছিল—অর্থ, পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষাক্রম। প্রাথমিক শিক্ষাক্রমের জন্য ২০০৪ সালে পৃথক শাখা সৃষ্টি করা হয়। এতে এনসিটিবির শাখার সংখ্যা চারটিতে উন্নীত হয়। কিন্তু আজও শুধু মাধ্যমিক শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজে নিয়োজিত অংশ ‘শিক্ষাক্রম উইং’ নামে পরিচিত। প্রাথমিক শিক্ষাক্রম উইং সৃষ্টির দিন থেকে আর ‘পূর্ণ শিক্ষাক্রম উইং’-এর বাস্তব অস্তিত্ব নেই। এনসিটিবির অর্গানোগ্রামে পরিবর্তন আনতে হলে জাতীয় সংসদের অনুমোদন লাগে। তাহলে এনসিটিবির ভুল নাম ‘শিক্ষাক্রম উইং’-এর আগে ‘মাধ্যমিক’ বিশেষণ বসিয়ে শুদ্ধ করতে বাধা কোথায়?
পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ অঞ্চলে চারটি বিভাগের প্রতিটিতে মাধ্যমিক স্তরের দুটি পরীক্ষা পরিচালনার জন্য একটি করে বোর্ড গঠন করা হয়। আমাদের পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় বোর্ডগুলোর নাম ‘পরীক্ষা বোর্ড’ না দিয়ে দেওয়া হয় ‘শিক্ষা বোর্ড’। ইংরেজ আমলের রেশ ধরে পাকিস্তান আমলেও ১৯৬২ সাল পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার মধ্যবর্তী একটি ইন্টারমিডিয়েট স্তর ছিল। ১৯৬২-৬৩ সাল থেকে ইন্টারমিডিয়েট নামের তথাকথিত স্তরটি মাধ্যমিক শিক্ষার সর্বোচ্চ উপস্তর ‘উচ্চমাধ্যমিক’ হয়ে যায়; পরীক্ষার নামও হয় ‘উচ্চমাধ্যমিক’। সে কারণে বোর্ডগুলোর যৌক্তিক ইংরেজি নাম হওয়া দরকার ‘সেকেন্ডারি এক্সামিনেশন বোর্ড’ (সংক্ষেপে, এসইবি বা সেব); বাংলায় ‘মাধ্যমিক পরীক্ষা বোর্ড’।
অষ্টম শ্রেণি শেষে নবপ্রবর্তিত পাবলিক পরীক্ষাটি জুনিয়র/নিম্নমাধ্যমিক উপস্তরের জন্য গ্রহণ করা হয়। পরীক্ষাটি স্তরভিত্তিক, স্কুলভিত্তিক নয়। মাদ্রাসার জন্য পরীক্ষাটির নাম ‘জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট’ (জেডিসি) ও স্তরভিত্তিক, মাদ্রাসাভিত্তিক নয়। সুতরাং স্কুলের ক্ষেত্রেও ‘জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট’-এর পরিবর্তে যৌক্তিক নাম হবে ‘জুনিয়র সেকেন্ডারি সার্টিফিকেট’ (সংক্ষেপে, যথারীতি জেএসসি) পরীক্ষা।
লেখক: শিক্ষা গবেষক এবং ওএসডি, মাউশি অধিদপ্তর।

বিজ্ঞাপন
কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন