বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এটা ‘জিরো ক্লিক’ প্রযুক্তি। এর মানে হচ্ছে কোনো কিছু ক্লিক না করার পরও কারও ফোন সেট এই স্পাইওয়্যারে আক্রান্ত হতে পারে। সিটিজেন ল্যাব এমন এক প্রতিবেদন আমাদের সামনে হাজির করেছে, যেটা ভবিষ্যতের কোনো বিজ্ঞান কল্পগল্পের আজকের সংস্করণ। ১৭টি গণমাধ্যম, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও প্যারিসভিত্তিক এনজিও ফরবিডেন স্টোরি যৌথভাবে ‘পেগাসাস প্রকল্প’ নামের এই অনুসন্ধান চালায়। তারা বিশ্বজুড়ে ফাঁস হওয়া ৫০ হাজার নম্বরের খবর জানায়, যেগুলোতে পেগাসাসের মাধ্যমে হ্যাক হয়েছে কিংবা হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। বেশির ভাগ মুঠোফোন নম্বর সেসব দেশের, যেগুলো এনএসওর বিভিন্ন নজরদারি পণ্যের ক্রেতা। তালিকা থেকে এটা প্রতীয়মান হয় যে এটা পরিকল্পিত নজরদারি।

এনএসওর ওয়েবসাইটে স্পাইওয়্যার বেচাবিক্রির চুক্তি বিষয়ে একটা ‘মানবাধিকার নীতি’ রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোম্পানির পণ্য ব্যবহারের জন্য ক্রেতাদের অবশ্যই কিছু বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে। সন্ত্রাসবাদসহ গুরুতর অপরাধ অনুসন্ধান ও প্রতিরোধেই কেবল সেগুলো ব্যবহার করা যাবে। মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় এমন কোনো কাজে এর ব্যবহার করা যাবে না। অতিরিক্ত রক্ষাকবচ হিসেবে এসব স্পাইওয়্যার বিক্রিতে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামমাত্র অনুমোদনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ নিয়ে ইসরায়েলের নিজেদের বানানো একটা সংজ্ঞা আছে। তারা ফিলিস্তিনের সাধারণ নাগরিকদের ওপর বোমা মারে। এ থেকে বুঝতে অসুবিধা হয় না, মানবাধিকার সেখানে কীভাবে ধসে পড়েছে। জাতিবিদ্বেষী রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের একটা ‘অদ্বিতীয়’ অবস্থান রয়েছে। সহিংস দখলদারি ক্ষমতার কারণে প্রথাগত সমরাস্ত্র, একই সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তাসামগ্রী রপ্তানিতে তারা একটা বাড়তি সুবিধা পায়। এর সবকিছুর পরীক্ষা আবার ফিলিস্তিনিদের বাস্তব জীবনের ওপর করা হয়।

২০১৬ সাল থেকে নজরদারি কোম্পানির সংখ্যার দিক থেকে ইসরায়েল বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে। এনএসও ও পেগাসাস কেলেঙ্কারি থেকে এটা স্পষ্ট যে ব্যক্তিমালিকানাধীন নজরদারি শিল্প কতটা ফুলেফেঁপে উঠেছে। নিয়ন্ত্রণহীন এ শিল্প অনেক বেশি লাভজনক!

২০১৬ সাল থেকে নজরদারি কোম্পানির সংখ্যার দিক থেকে ইসরায়েল বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে এগিয়ে। এনএসও ও পেগাসাস কেলেঙ্কারি থেকে এটা স্পষ্ট যে ব্যক্তিমালিকানাধীন নজরদারি শিল্প কতটা ফুলেফেঁপে উঠেছে। নিয়ন্ত্রণহীন এ শিল্প অনেক বেশি লাভজনক! ২০১৯ সালে ফেসবুকের মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ কাকতালীয়ভাবে এনএসওর বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের অভিযোগে মামলা করে। সেই মামলার আইনি লড়াই চলছে। আইনি লড়াইয়ে অন্য টেক-জায়ান্ট মাইক্রোসফটও যুক্ত হয়েছে। এসব সংস্থার অনেকগুলোই ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও আন্দোলনকর্মীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। মাইক্রোসফট একসময় ইসরায়েলের এমন একটি মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ ফার্মে বিনিয়োগ করেছিল, যেটি পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর গোপনে নজরদারি করত। গত ৪ আগস্ট অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসে প্রকাশিত এক নিবন্ধ থেকে দেখা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের চাকরিজীবীদের পেনশন তহবিল থেকে বড় একটা বিনিয়োগ করা হয়েছে। সেই বিনিয়োগটা গেছে এনএসওর মালিকানাধীন একটি ইক্যুইটি ফার্মে।

বাহরাইন সম্পর্কে নতুন একটা প্রতিবেদনের ওপর সিটিজেন ল্যাব মন্তব্য করেছে, ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলার অজুহাতে বাহরাইন সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে।’ আবার ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং অতি ডানপন্থী নাফতালি বেনেট যে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হবেন, সেটা আর আশ্চর্যের কী? ২০২০ সালে তিনি করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য এনএসওকে তালিকাভুক্ত করেছিলেন।

ফিলিস্তিনিদের অধিকার বিনাশের মতো ঘটনা স্বাভাবিক বলে চালিয়ে দিতে ইসরায়েল নানামুখী প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে। এখন তারা গণহারে গোয়েন্দাগিরির বিষয়টাকেও স্বাভাবিক করে তুলছে। চিন্তার স্বাধীনতাকে অপরাধী করার বিষয়টা তারা স্বাভাবিক করে তোলার চেষ্টা করছে। এসব বাস্তবতা থেকে আমাদের দৃষ্টি সরালে চলবে না। এগুলোর কোনোটিই স্বাভাবিক কিছু নয়।


আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

বেলেন ফার্নান্দেজ জ্যাকবিন ম্যাগাজিনের প্রদায়ক সম্পাদক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন