default-image

করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ। রোজ মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। আমাদের প্রিয় প্রিয় মানুষগুলো চলে যাচ্ছেন। এই অবস্থায় আসুন, ঘরে থাকি, কঠোর লকডাউন কঠোরভাবে মানি। তাতে কোভিড রোগীর সংখ্যা কমবে। এখন কোনো হাসপাতালে জায়গা নেই, এত রোগীর চাপ হাসপাতালগুলো নিতে পারছে না, কোভিড রোগীর সংখ্যা কমলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে। আর কী করতে হবে?

হাসুন। হাসলে পরে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়ে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা আছে, প্যানডেমিকের সময় হাসতে হবে। তাহলে কৌতুক বলি।

বিল গেটস পদত্যাগ করেছেন। কারণ, তঁার কাছে এক বাঙালি ফেসবুকে ইনবক্স করেছে:

প্রিয় বিল গেটস, স্যার। আমার কতগুলো কোশ্চেন আছে।

১. আপনার কি–বোর্ডের অক্ষরগুলো ক্রমানুসারে সাজানো নয়। এলোমেলো করে সাজানো। আপনি কবে ঠিকঠাক একটা কি–বোর্ড বাজারে ছাড়বেন?

২. আপনার একটা অপশন আছে স্টার্ট। স্টপ অপশন নাই কেন?

৩. আমি এরই মধ্যে মাইক্রোসফট ওয়ার্ডস শিখে ফেলেছি। আপনি কবে থেকে মাইক্রোসফট সেন্টেন্স চালু করবেন।

৪. আপনার একটা রিসাইকেল বিন আছে। কিন্তু এটা পরিষ্কার করার জন্য কোনো লোক তো আসে না।

৫. আপনার নাম গেটস কেন। আপনি তো উইন্ডোজ বিক্রি করেন, গেট না।

এই চিঠি পেয়ে বিল গেটসের কী হলো?

তা বলার আগে হুমায়ূন আহমেদের সায়েন্স ফিকশনের একটা গল্প বলি। একটা রোবট খুব ঝামেলা করছে। সে সব মানুষ মেরে ফেলতে চায়। তখন তাকে বলা হলো, একটা সমস্যার সমাধান করো, একটা সাপ তার লেজ থেকে খাওয়া শুরু করল। লেজ খেতে খেতে সে মাথার দিকে আসছে। এখন কী হবে?

এই অঙ্ক কষতে গিয়ে রোবট হ্যাং হয়ে গেল। মানবসভ্যতা বেঁচে গেল।

বিজ্ঞাপন

এখন আর কোনো ভয়ংকর রোবট যদি আসে, তাকে একটা পাজল সমাধান করতে দিতে পারি আমরা।

আচ্ছা রোবট শোনো। একটা দেশ। সেই দেশে হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ কম। করোনা রোগী তো বটেই, অন্য রোগীর অপারেশনের আগে দেখে নিতে হচ্ছে, অক্সিজেন পাওয়া যাবে তো।

আবার সেই দেশের খবরে বলা হচ্ছে:

‌‌‘ইউনিসেফ ১০২ কোটি টাকার (১২ মিলিয়ন ডলারের) চিকিৎসাসামগ্রী কিনে এনেছিল। এগুলোর মধ্যে ১ হাজার ২০০টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটার আছে। এই যন্ত্র বাতাস থেকে অক্সিজেন পৃথক করে তা ব্যবহার উপযোগী করে তোলে। আছে বিপুল পরিমাণ পালস অক্সিমিটার, হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা, মাস্ক, পিপিইসহ আরও নানা সামগ্রী। গত ১০ মাস এসব সামগ্রী বিমানবন্দরে পড়ে আছে। অনেক সামগ্রী নষ্ট হয়েছে।’ (প্রথম আলো, ১৩ এপ্রিল ২০২১)

আচ্ছা রোবট এখন বলো, এটা কীভাবে সম্ভব?

এই প্রশ্নের উত্তর রোবট দিতে পারবে না। তার মাথার কম্পিউটারও হ্যাং করতে বাধ্য।

প্রথম আলোয় প্রকাশিত এই খবরেই বলা হয়েছে:

টাকা পড়ে আছে

এডিবির অর্থায়নে পরিচালিত প্রকল্পের আওতায় ১৭০টি আধুনিক আইসিইউ শয্যা, ১৭০টি ভেন্টিলেটর, ১০৭টি আরটি-সিপিআর যন্ত্র কেনার কথা ছিল। এর মধ্যে শুধু ২৫টি আরটি-পিসিআর যন্ত্র কেনা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত ৭৮ কোটি টাকাও খরচ হয়নি।

এই খবর নিয়ে মেড ইন বাংলাদেশ একটা রোবটকে প্রশ্ন করা হয়েছিল।

সে জবাব দিয়েছে:

আপনারা একটা বালিশ তুলতে লাখ টাকা বিল, একটা ভিডিও বানাতে কোটি টাকা বিল করা হলে হইচই করবেন আবার টাকা খরচ করতে না পারলে তখনো হইচই করবেন, তা তো হবে না। আমাদের বলেন, যেভাবে পারো টাকা খরচ করতে, আমরা পুরো টাকা হুন্ডি করে বিদেশে পাঠাব, আর বিল করব:

বাতাস থেকে অক্সিজেন ধরতে ১৬ কোটি মানুষের খরচ হয়েছে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। ব্যস। টাকা খরচও হলো। বাজেটও পড়ে থাকল না।

আরেকটা ভয়ংকর রোবটকে এই প্রশ্ন করা হয়েছিল—

আচ্ছা বলো তো, একটা লোককে এক কোটি টাকা দেওয়া হলো একটা জরুরি অ্যাম্বুলেন্স কেনার জন্য। সে ৬০ লাখ টাকা দিয়ে একটা ভালো গাড়ি কিনে অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে সাজাতে আরও ১০ লাখ টাকা ব্যয় করল। অ্যাম্বুলেন্স ভালো সার্ভিস দিচ্ছে। ৩০ লাখ টাকা সে মেরে দিল। আর একটা লোক এক কোটি টাকা নিয়ে বসে রইল। কারণ, সে জানে না এই টাকা কীভাবে খরচ করতে হয়, গাড়ি কীভাবে কিনতে হয়। এই দুই লোকের মধ্যে কাকে আমরা বেছে নেব?

ওই রোবটও হ্যাং করেছিল।

আমরা দুর্নীতিবাজ আমরা জানি। আমরা অদক্ষ আমরা জানি। আমরা একই সঙ্গে দুর্নীতিবাজ এবং অদক্ষ, এইটা নতুন জানছি। কেবল আল্লাহই আমাদের রক্ষা করতে পারবেন।

আজকে আমার গদ্যকার্টুন লেখার দিন। আপনারা যেন একটুখানি হাসতে পারেন, সেটাই আমার লক্ষ্য। একটা কৌতুক বলি।

এক চোর চুরি করা ছেড়ে কৃষিকাজ আরম্ভ করল।

সবাই বলল, বাহ্‌, তোমার স্বভাবের এত উন্নতি! কেমনে হলো?

চোর কাম চাষা বলল, শখে ছাড়ি নাই। বাধ্য হয়ে ছেড়েছি। আগে ২০ হাজার টাকা চুরি করতাম, গৃহস্থ থানায় জিডি করে বলত, ২০ হাজার টাকার মাল খোয়া গেছে। ঘুষ দিতাম ৫০ শতাংশ। ১০ হাজার আমার লাভ থাকত। এখন গৃহস্থ ২০ হাজার টাকার জিনিস চুরি গেলে জিডিতে লেখে ১ লাখ টাকা। ঘুষ তখন দিতে হয় ৫০ হাজার টাকা। ২০ হাজার টাকার জিনিস চুরি করে ৫০ হাজার দেব কেমনে? পোষায়, বলেন?

কেন বিমানবন্দর থেকে জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী তোলা হচ্ছে না, কিছুটা বুঝেছি বোধ হয়।

বিল গেটসকে যদি এই ধাঁধার জবাব দিতে বলা হয়, তিনি শুধু পদত্যাগ করবেন না, উদাস হয়ে লকডাউনের মধ্যেই রাস্তায় দাঁড়িয়ে ট্রাফিক কন্ট্রোল করবেন।

তবে লেখাটা শেষ করতে চাই প্রথম আলোর খবর থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে:

এ ব্যাপারে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ‘এটি দায়িত্বে অবহেলার চূড়ান্ত উদাহরণ। প্রথম কাজ হবে বিমানবন্দর থেকে এসব সামগ্রী উদ্ধার করে হাসপাতালে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া। দ্বিতীয় কাজ হবে এই অহেতুক বিলম্বের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা।’

আনিসুল হক প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও সাহিত্যিক

বিজ্ঞাপন
কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন