বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তালেবানের এবারের ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারতের বড় ব্যবসায়িক অংশীদার। ১৯৯৬-২০০১ তালেবান আমলকে স্বীকৃতি দেওয়া তিনটির মধ্যে দুটি দেশ তারা। দ্বিতীয় আফগান শাসনের ক্ষেত্রে তারা ‘অপেক্ষা’-এর নীতি নিয়েছে।

দোহায় তালেবানের রাজনৈতিক কার্যালয় করার মাধ্যমে কাতার প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়। অচলাবস্থা নিরসন করে শান্তি আলোচনা এবং আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহারের চুক্তি চূড়ান্ত করতে ভূমিকা পালন করে দেশটি। তুরস্ক ও ইরানের তালেবানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। আফগানিস্তানের নতুন সরকার গঠন অনুষ্ঠানে ছয়টি দেশের মধ্যে তাদেরও থাকার কথা ছিল।

কাতারের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক মাঝামাঝি পর্যায়ের। কিন্তু রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে ইরান ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কটা চাপের মধ্যে পড়েছে। বিশেষ করে আমেরিকার চাপে ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর থেকেই এটা হয়েছে। এদিকে প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে ভরতের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ইসরায়েল। কিন্তু তালেবান মুখপত্র নিশ্চিত করেছে, তাদের সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে কখনোই কোনো জোট গঠন করবে না।

এ ধরনের কূটনৈতিক পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের জন্য একটা শূন্যতা তৈরি করছে। সে ক্ষেত্রে ওই অঞ্চলে ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থ খর্ব করছে। চীন, ইরান, তুরস্কের জন্য একটা সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় আফগানিস্তান নিয়ে ভারতের নীতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলবে।

এ পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির সামনে দুটি পথ খোলা আছে। তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারকে হয় স্বীকৃতি দিতে হবে, না হয় তালবান যে চরমপন্থী একটা গোষ্ঠী, এ ধরনের অবস্থান বজায় রাখতে হবে। প্রথমটার ক্ষেত্রে ইসরায়েল ও আব্রাহাম চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতি হতে পারে। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে তুরস্ক, ইরান, কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাতারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও চাপে পড়বে।

ভারত এখন পর্যন্ত তালেবানের সঙ্গে একটা দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল আফগানিস্তান থেকে নিজ দেশের জনগণের নিরাপদ প্রত্যাহার নিশ্চিতের জন্য তারা দোহায় তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছিল। আফগানিস্তানে ভারতবিরোধী তৎপরতা নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন। এ উদ্বেগ নিয়ে তারা সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতারসহ উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে এরই মধ্যে আলাপ করেছে।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ নয়াদিল্লি সফর করেছেন। নিরাপত্তা ও আফগান পরিস্থিতি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বিস্তারিত আলাপ করেছেন তিনি। আফগানিস্তানের উন্নয়ন নিয়ে উপসাগরীয় অংশীদারেরা যৌথ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্য দুই অঞ্চলের উন্নয়নে ভারতের বড় ভূমিকা পালনের সুযোগ আছে।

আশরাফ গনি সরকারের পতন ভারতের জন্য বিশাল এক ধাক্কা। সালমা বাঁধ, আইনসভার ভবনসহ আফগানিস্তানে ৫০০ প্রকল্পে ভারত বিনিয়োগ করেছে। দ্বিপক্ষীয় সহায়তার ক্ষেত্রে ভারত আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী।

নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতকে বাইরের শক্তির চাপে নতি স্বীকার না করে সব অংশীজনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে হবে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাবনা অপরিসীম। অন্য কোনো দেশের সঙ্গে নির্ভর না করে ভারতের উচিত এ অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে একটা সমন্বিত যোগাযোগ তৈরি করা। উপসাগরীয় অংশীদারদের সঙ্গে ভারত তার কূটনৈতিক সংকটগুলো মোকাবিলা করতে পারে। বাণিজ্যিক স্বার্থরক্ষায় তারা সরাসরি তালেবান সরকারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। আফগানিস্তান পুনর্গঠনে তারা অর্থনৈতিক সহায়তা অব্যাহত রাখতে পারে। তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা এরই মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে ফেলেছে।

তালেবানের জ্যেষ্ঠ নেতা শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাইয়ের আহ্বান ভারতকে ইতিবাচকভাবে নিতে হবে। তিনি বলেছেন, ভারতের সঙ্গে গনি সরকারের আমলের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক তাঁরা বজায় রাখতে চান।

এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

শফিক রহমান নয়াদিল্লিভিত্তিক গবেষক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন