বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এখন পর্যন্ত উচ্চ আয়ের দেশগুলোর ৫০ শতাংশের বেশি মানুষ ভ্যাকসিনের পুরো কোর্স নিতে পেরেছে। অন্যদিকে, আফ্রিকায় এখনো পুরোপুরি ভ্যাকসিন নেওয়া লোকের সংখ্যা ৪ শতাংশের নিচে রয়ে গেছে। এ ছাড়া অন্য অঞ্চলের নিম্ন আয়ের দেশগুলো টিকার অভাবে ভয়াবহ বিপদের ঝুঁকিতে রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ২২ সেপ্টেম্বর (আজ) একটি ভ্যাকসিন সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন। এটি সম্ভাব্য কোভিড মোকাবিলা কার্যক্রমের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই বৈঠকে চীন, ভারত, রাশিয়া এবং ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ থাকছে। এর সঙ্গে জাতিসংঘের অংশগ্রহণ তো থাকছেই। একমাত্র জাতিসংঘের বিদ্যমান ব্যবস্থাই স্বল্প আয়ের দেশগুলোর সঙ্গে সফল যোগাযোগ রেখেছে এবং এই ব্যবস্থার মধ্য দিয়েই দরিদ্র দেশগুলোতে টিকা দেওয়া নিশ্চিত করা যেতে পারে।

যেখানে দরিদ্র দেশগুলোতে প্রাথমিক ডোজই এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, সেখানে ধনী দেশগুলোতে এখন তৃতীয় ডোজ টিকা দেওয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে, কিছু দেশের সরকার ক্রমাগত ভ্যাকসিন প্রযুক্তির ওপর মেধাস্বত্ব আরোপে জোর দিয়ে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিকভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

গরিব দেশগুলোতে ভ্যাকসিন পৌঁছানোর লক্ষ্য সামনে নিয়ে ২০২০ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘ কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্লোবাল অ্যাকসেস (কোভ্যাক্স) নামের একটি ব্যবস্থা চালু করে। এই দেশগুলো আশা করে কোভ্যাক্স তাদের সময়মতো ভ্যাকসিন পাওয়া নিশ্চিত করবে। কিন্তু সবার জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে কোভ্যাক্সের যে পরিমাণ অর্থ থাকা দরকার তা তার হাতে নেই, কারণ উচ্চ আয়ের দেশগুলো এই খাতে কোভ্যাক্সকে অর্থ ছাড় ক্রমশ কমিয়ে দিচ্ছে। তা ছাড়া ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশগুলোর সরকারসমূহ রপ্তানি কোটা আরোপ করেছে। এর ফলে কোভ্যাক্স ইতিমধ্যে ভ্যাকসিন কেনার চুক্তি করেও ফরমায়েশকৃত টিকা পাচ্ছে না। এই রপ্তানি কোটা জারি থাকায় টিকা কোম্পানির অংশীদাররা খুশি, কারণ এতে কোভ্যাক্সের কাছ থেকে তারা টিকার যে দাম পেত তার চেয়ে ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে অনেক বেশি দাম তারা পাচ্ছে।

এ কারণে আফ্রিকার কম আয়ের দেশগুলো বা অন্য গরিব দেশগুলো যে টিকা সংকটে ভুগছে তা এমনি এমনি কেটে যাবে না। পরিতাপের বিষয়, যেখানে দরিদ্র দেশগুলোতে প্রাথমিক ডোজই এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, সেখানে ধনী দেশগুলোতে এখন তৃতীয় ডোজ টিকা দেওয়া শুরু করেছে। অন্যদিকে, কিছু দেশের সরকার ক্রমাগত ভ্যাকসিন প্রযুক্তির ওপর মেধাস্বত্ব আরোপে জোর দিয়ে যাওয়ার কারণে বৈশ্বিকভাবে ভ্যাকসিন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। সরকারি অর্থায়নে ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল এবং ভ্যাকসিন গবেষণা হলেও এর বিপণন ও অন্যান্য ব্যবস্থা বেসরকারি খাতে চলে যাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ নাগাদ প্রত্যেকটি দেশের মোট জনসংখ্যার অন্তত ১০ শতাংশ, ২০২১ সালের শেষ নাগাদ ৪০ শতাংশ এবং ২০২২ সালের জুনের শেষ নাগাদ ৭০ শতাংশ লোককে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বর্তমানে যে মাত্রায় ভ্যাকসিনের বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে তা দিয়ে এই লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে না।

এই মহা সংকটের সময় ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশগুলোর সরকার কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন: বাইডেনের ভ্যাকসিন সম্মেলনে যখন বিভিন্ন দেশের সরকারের প্রতিনিধিরা মিলিত হবেন তখন তাঁরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য অর্জনের একটি পরিকল্পনাপত্র ঠিক করে দিতে পারেন। ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশগুলোর হাতে এ মুহূর্তে কী পরিমাণ টিকার ফরমায়েশ রয়েছে সে সংক্রান্ত সব তথ্য তারা প্রকাশ করে সবার জন্য টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতে ভূমিকা রাখতে পারে। কোন দেশ কী পরিমাণ টিকা নেওয়ার জন্য ফরমায়েশ দিয়েছে, সে তথ্য যদি তারা প্রকাশ করে তাহলে জাতিসংঘের পক্ষে কোন দেশে আগে কী পরিমাণ টিকা দেওয়া দরকার তা স্থির করা সহজ হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যে সময়সীমা ঠিক করেছে তা পূরণে জাতিসংঘকে দরিদ্র দেশগুলোর সরকারগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় ঠিক করতে হবে। টিকা উৎপাদনকারী দেশগুলোকে টিকার মেধাস্বত্ব যত দ্রুত সম্ভব তুলে দিতে হবে যাতে বিশ্বব্যাপী টিকা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। সর্বোপরি, সরকারগুলোকে জনগণকে এটি বোঝাতে হবে যে, শুধু টিকা দিয়ে করোনাভাইরাস ঠেকানো সম্ভব হবে না। মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য বিধি মানা জরুরি।

ইংরেজি থেকে অনূদিত স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট

জেফরি ডি স্যাক্স কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের টেকসই উন্নয়নকেন্দ্রের পরিচালক ও জাতিসংঘের সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট সলিউশন নেটওয়ার্কের সভাপতি।

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন