বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হাবিবা আর বদিউজ্জামান বাবুল যদি জানতেন, ছেলেকে বাঁচানোর আর কোনো পথ খোলা নেই, তাহলেও হয়তো আশা ছেড়ে দিয়ে মাহিবকে কোলে নিয়ে তাঁরা তার চিরবিদায়ের জন্য অপেক্ষা করতেন। কিন্তু ‘সমস্যা’ হলো, আশা এখনো আছে। সেই আশা বেশ জোরালো। মাহিবের ঠিক চিকিৎসা হলে সে আবার আব্বা!, আম্মু! বলে ছুটে এসে ঝাঁপিয়ে কোলে এসে পড়বে। এই আশা তাঁদের ঘুমাতে দিচ্ছে না।

মাহিবকে যে রোগ ধরেছে, সে রোগের নাম কনজেনিটাল বিলিয়ারি অ্যাট্রেসিয়া। এই রোগীর যকৃৎ অকার্যকর হতে থাকে। অকার্যকর যকৃৎ নিয়েই মাহিব জন্ম নিয়েছে। বাবুল-হাবিবা দম্পতির এর আগে একটি সন্তান ছিল। এই একই রোগে সে মাত্র এক মাস চার দিন বয়সে মারা গিয়েছিল।

default-image

পরের সন্তান মাহিবের ক্ষেত্রে রোগটি সময় দিয়েছে। ধীরে ধীরে ওর যকৃৎ অকেজো হয়ে যাচ্ছে। কিছুদিন পরপরই সে অসুস্থ হয়েছে। আর মা–বাবা জমিজমা বেচে চিকিৎসা করিয়েছেন। বাবুল ছেলের চিকিৎসায় দৌড়ঝাঁপ করতে গিয়ে পোশাক প্রতিষ্ঠানের চাকরি হারিয়েছেন। গত তিন বছরে বাবুল ও হাবিবা এই ছেলেকে সুস্থ করতে ভারতের কলকাতা ও ভেলোরে কয়েক দফা চিকিৎসা করিয়েছেন। এই চিকিৎসায় তাঁদের ঘরবাড়ি, জমিজমা সব বিক্রি হয়েছে। ঘরে এখন তাঁদের একটা খাট ছাড়া বলতে গেলে কোনো আসবাব নেই।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে মাহিব রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের পিআইসিইউতে ৫ দিন ছিল। সেখান থেকে শ্যামলী শিশু হাসপাতালের পিআইসিইউতে তাঁকে ভর্তি করা হয়। সেখানে ৬ দিন থাকার পর তাকে শিশু হাসপাতালের ৪১৬ নম্বর কেবিনে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, মাহিবের একটাই চিকিৎসা আছে। সেটি হলো, তার যকৃৎ প্রতিস্থাপন করতে হবে। সেটা করতে হবে যত দ্রুত সম্ভব।

চিকিৎসকেরা যকৃৎ প্রতিস্থাপনের জন্য দিল্লি অ্যাপোলো হাসপাতালের অনুপম শিবাল বরাবর রেফার করে দিয়েছেন। এই চিকিৎসা শুরুর জন্য ৪০ হাজার ডলার তাদের অ্যাকাউন্টে জমা দিতে হবে। এর বাইরে যাওয়া, থাকা-খাওয়া, অন্যান্য পরীক্ষা–নিরীক্ষার খরচ তো আছেই। কিন্তু বাবুল ও হাবিবার কাঁধে এখন চড়া সুদে বিভিন্ন সমিতি থেকে নেওয়া লাখ তিরিশেক টাকার দেনা ছাড়া আর কিছু নেই।

মা-বাবা হিসেবে তাঁরা অলৌকিক কিছু ঘটার আশায় আছেন। পৃথিবীতে যা কিছু অলৌকিক ঘটনা ঘটে, খোঁজ নিলে দেখা যায়, তার পেছনে পরম করুণাময় কোনো না কোনো কার্যকারণ রেখে যান। এই অসহায় পিতা বাবুলকে আমি ২০ বছর ধরে চিনি। সদাহাস্য বাবুল এখন দিশা হারিয়ে ‘বোবা’ হয়ে যাওয়া একজন বাবা। তাঁর সব কথা শুনে ও মাহিবকে দেখে আমিও এক অলৌকিক ঘটনার অপেক্ষা করা শুরু করেছি।

যে দেশে হাজার হাজার কোটিপতির বাস, যে দেশে সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় কোটি টাকা কয়েক দিনের মধ্যে গণচাঁদা তুলে জোগাড় করে ফেলা যায়, যে দেশে অসংখ্য-অগণিত মানুষ প্রতিদিন বিনোদনের পেছনে লাখ লাখ টাকা খরচ করে, সেই দেশে মাহিব ‘আব্বা, আমার ব্যথা লাগতেছে’ বলতে বলতে মরে যাবে, এটা কেমন কথা!

default-image

সিরিয়ায় বোমা হামলার পর তিন বছর বয়সী একটি শিশু মারা যাওয়ার আগে বলেছিল, ‘আমি আল্লাহকে সব বলে দেব!’ রাজধানীজোড়া এত এত ইমারত, এত এত জৌলুশ, এত এত টাকা ওড়াউড়ির মধ্যে মরতে মরতে মাহিবও যদি বলে, ‘তোমরা আমাকে চিকিৎসা দিলে না, আমি আল্লাহর কাছে সব বলে দেব!’

মাহিব এই পৃথিবীর সন্তান। তাঁর চিকিৎসার খরচ জোগানোর দায় ছিল তার মা–বাবার। তাঁরা সব হারিয়ে এখন যেহেতু সর্বস্বান্ত, সেহেতু সেই দায় আমাদের। এই দায় অস্বীকারের কোনো পথ নেই। কোনো হৃদয়হীন কোটিপতি এই দায় এড়াতে চাইলে এড়াতে পারেন, কিন্তু ধনী-গরিব যেকোনো হৃদয়বান মানুষ এর দায় এড়াতে পারেন না।

অনেক সময় একটি মসজিদ বা একটি মন্দির বা একটি হাসপাতাল বহু মানুষের চাঁদার টাকায় নির্মিত হয়। সেখানে চাঁদা দেওয়া কোনো ব্যক্তি যখন সেই মসজিদ বা মন্দির বা হাসপাতালের কাছে আসেন, তখন তিনি এক স্নিগ্ধ প্রশান্তি অনুভব করেন। তাঁর মনে হতে থাকে, তিনি যে ভবনের সামনে দাঁড়ানো, সেই ভবনের কোনো না কোনো ইট কিংবা কোনো না কোনো বালুকণায় তাঁর উপার্জিত অর্থ মিশে আছে। তিনি অনুভব করেন, এই ভবনে তাঁর ভাগ আছে।

হৃদয়বান মানুষের সামনে মাহিব এখন সেই মহান ইমারতের মতো। সবার ছোট ছোট দানে যদি মাহিবের চিকিৎসার বিপুল অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়, যদি সেই অর্থের চিকিৎসায় সে সেরে ওঠে, সে যদি ছবির সুস্থ মাহিবের মতো আবার ফিক করে একদিন হেসে ওঠে, সেই হাসির স্নিগ্ধ আলোর জ্যোতির মধ্যে দানকারী প্রত্যেক মানুষের ভাগ থাকবে।

এ ধরনের মহৎ কাজে সফলতা পাওয়ার জন্য ধনী মানুষের চেয়ে হৃদয়বান দাতার প্রয়োজন বেশি। ‘করুণার ধরন হলো আকাশ ভেঙে নামা বৃষ্টির মতো, তার স্পর্শে দাতা-গ্রহীতা দুজনই ধন্য হয়’—শেক্সপিয়ারের এই কথায় ভরসা করে মাহিবের বাবার মতো আমিও সেই ধন্য হওয়া মানুষের অপেক্ষায় আছি। কিছু অলৌকিক মানুষের অপেক্ষায় আছি। মানুষগুলোর দেখা না পাওয়া পর্যন্ত আমার গলায় দলা পাকিয়ে থাকা কষ্ট নামবে না।

* মাহিবের চিকিৎসায় সাহায্য পাঠানোর জন্য যোগাযোগ করতে পারেন।

০১৮৬৯৯৯৯৬৬৫ আরিফ (মাহিবের মামা, বিকাশ), ০১৭৫৩৫৩৮৯০৯ বিনা (মাহিবের মামী, বিকাশ) ০১৭৮৬৭৯৩৬৩০ রকি (মাহিবের মামা, বিকাশ), ০১৯১৪৩৫৩২৫৮ বাবুল (বিকাশ), ০১৭৭৬০১৫৪৪২ হাবিবা (বিকাশ)

অথবা
মোহাম্মদ বদিউজ্জামান (Mohammad Bodiuzzaman)
সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর: ০০১২২০০০৪৫৯৬৭
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক
মিরপুর শাখা

সারফুদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক
[email protected]

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন