সম্পদ ব্যয়ের সর্বশ্রেষ্ঠ খাত পিতা–মাতা। পিতা–মাতা ও ছেলে–মেয়ে ছাড়া অন্য সব আত্মীয়স্বজনকেই ফিতরা ও জাকাত প্রদান করা যায়। আত্মীয়দের মধ্যে ভাইবোনের হক সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি শ্বশুর–শাশুড়ি ও বৈবাহিক সূত্রে আত্মীয় যাঁরা, তাঁদেরও অগ্রাধিকার রয়েছে। রমজানে, ঈদে, কোরবানিতে ও নানান উপলক্ষে তঁাদের হাদিয়া দেওয়া সুন্নত। সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা দয়াদাক্ষিণ্য ও করুণা গ্রহণে কুণ্ঠাবোধ করেন। তাই তাঁদের হাদিয়া বা উপহার উপঢৌকন হিসেবে দেওয়াই সমীচীন। এটাই দানের শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি। জাকাত–ফিতরাও উল্লেখ না করেই দিতে হয়; যাতে গ্রহীতা বিব্রত না হন।

আত্মীয়স্বজন ও প্রিয়জনদের সঙ্গে মনোমালিন্য বা মান–অভিমান হতে পারে। কিন্তু এটা দীর্ঘদিন ধরে রাখা যাবে না। কোনো মুমিন মুসলমানের সঙ্গে তিন দিনের অধিক রাগ করে কথাবার্তা বন্ধ রাখা বৈধ নয়। যদি কারও সঙ্গে কোনো লেনদেন বা দেনা–পাওনা থাকে, তা শরিয়তসম্মতভাবে ও আইনি উপায়ে আদায়ের চেষ্টা করুন। স্বাভাবিক সম্পর্ক বহাল রাখুন; প্রতিশোধ নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। দুনিয়াতে না পেলে আখিরাতে অবশ্যই পাবেন; থাক না পরকালের জন্য কিছু বাড়তি সঞ্চয়। বিশ্বাসী মুমিন মুসলমানের কোনো কিছুই বৃথা নয়।

সামর্থ্যমতো হাদিয়া বা উপহার দিন। হাদিয়া বা উপহার পেলে সাগ্রহে গ্রহণ করুন, তা যতই সামান্য হোক না কেন। উপহারদাতাকে উপহার দিয়ে সম্মানিত করুন। হাদিয়া উপহার দেওয়া ও নেওয়া উভয়ই সুন্নত আমল।

উপহারের ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জিনিস বাছাই করি। যেমন কখনো মিষ্টি, কখনো ফল ফলাদি, কখনো চকলেট, বিস্কুট, চিপস ইত্যাদি এবং কখনো কাপড়চোপড়, কখনো শাড়ি–চুড়ি, কখনো তেল–সাবান, কখনো কসমেটিকস ইত্যাদি। এই করোনাকালে আমরা উপহারসামগ্রীর সঙ্গে মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার ও হ্যান্ডওয়াশ যুক্ত করতে পারি।

বেশি বেশি দান–খয়রাত করুন। কখনো প্রকাশ্যে, কখনো গোপনে যখন যেমনটি প্রযোজ্য। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেন, ‘যদি তোমরা দান প্রকাশ্যে করো, তবে তা উত্তম; আর যদি তা গোপন করো এবং অভাবীদের দাও, তবে তা তোমাদের জন্য শ্রেয়। এর মাধ্যমে আল্লাহ তোমাদের মন্দগুলো মোচন করে দেবেন। তোমরা যা করো, আল্লাহ তা অবগত আছেন (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২৭১)।’ দান করে খোঁটা দিতে নেই। এতে দানের ফজিলত বিনষ্ট হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘সদ্ব্যবহার সুন্দর কথা ওই দান অপেক্ষা উত্তম, যার পেছনে আসে যন্ত্রণা। আল্লাহ তাআলা ঐশ্বর্যশালী ও পরম সহিষ্ণু। হে মুমিনগণ! তোমরা খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দানকে বাতিল কোরো না। তাদের মতো যারা তাদের সম্পদ ব্যয় করে লোকদেখানোর জন্য এবং তারা আল্লাহ ও পরকাল বিশ্বাস করে না (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২৬৩-২৬৪)।’ নবীজি (সা.) বলেন, ‘খোঁটাদানকারী বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না।’ (তিরমিজি)।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

[email protected]

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন