বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রোজা, নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত পালনে নারীদের জন্য বিশেষ কিছু বিধান রয়েছে। মায়েরা রোজা অবস্থায় সন্তানকে দুধ পান করালে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না এবং অজুও ভঙ্গ হয় না। নিজের সন্তান হোক বা অপরের সন্তান। এমনকি এমনিতে দুগ্ধ নিঃসরণ হলেও রোজার বা অজুর ক্ষতি হয় না। কাটাছেঁড়া বা ক্ষতস্থান থেকে রক্ত বা তরল বের হলে (তা যে পরিমাণই হোক না কেন) রোজার কোনোরূপ ক্ষতি হবে না, তবে অজু ভঙ্গ হবে। কারণ, রোজা শুধু পানাহার ও রতিক্রিয়া দ্বারাই বিনষ্ট হয়; অন্য কোনো কারণে নয়। উল্লেখ্য, রক্ত বের হওয়া বা তরল ক্ষরণ হওয়া অজু ভঙ্গের কারণ; রোজা ভঙ্গের কারণ নয়। তবে নারীদের রজঃস্রাব বা প্রসবোত্তর স্রাব হলে রোজা ভঙ্গ হবে। এই রোজা পরে কাজা আদায় করতে হবে; কাফফারা আদায় করতে হবে না। সন্তানসম্ভবা নারীকে যদি গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কায় বিজ্ঞ ও মুত্তাকি চিকিৎসক রোজা রাখতে বারণ করেন, তবে সে রোজা পরে কাজা আদায় করতে পারবেন। নারী রজঃস্রাব বা প্রসবোত্তর স্রাব চলাকালে রোজা পালন করতে পারবেন না, ওই রোজাগুলো পরে কাজা আদায় করতে হবে। (ফাতাওয়া মিসরিয়া)।

মাসিক পিরিয়ড বা রজঃস্রাব চলাকালীন রোজা রাখা যায় না, নামাজ পড়া যায় না এবং কোরআন তিলাওয়াত করা যায় না। এ ছাড়া অন্যান্য দোয়া কালাম, দরুদ ইস্তিগফার, হাদিস তফসির, তাসবিহ তাহলিল, জিকির আসকার, অজিফা ইত্যাদি আমল করা যাবে। ঋতুমতী রমণীর স্পর্শে কেউ অপবিত্র হয় না বা কারও অজু-গোসল প্রয়োজন হয় না।

যদি কোনো নারী বিশেষ ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তাঁর নিয়মিত মাসিক বন্ধ রেখে রোজা পালন করেন, তবে তাঁর রোজা আদায় হয়ে যাবে, যদি এতে তাঁর শারীরিক ও মানসিক কোনো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে। রোজা অবস্থায় মাসিক শুরু হলে ওই রোজাটি পরে কাজা আদায় করতে হবে, কিন্তু সেদিন পানাহার থেকে বিরত থাকবে। অনুরূপ রোজার মধ্যে মাসিক চলাকালীন দিনের বেলায় তা বন্ধ হলে সেদিনও পানাহার থেকে বিরত থাকবে, কিন্তু এটি রোজা হিসেবে গণ্য হবে না; পরে এই রোজাটিও কাজা আদায় করবে।

যদি কেউ রোজা অবস্থায় কোনো ছোট্ট শিশু বা অন্য কাউকে প্রয়োজনে খাবার চিবিয়ে বা দাঁত দিয়ে কেটে বা টুকরা করে দেন, এতে রোজা ভাঙবে না। যেসব নারী ও পুরুষ রান্নাবান্নার কাজ করেন, তাঁরা প্রয়োজনে রোজা অবস্থায়ও তরকারি বা খাবারের স্বাদ পরীক্ষা করতে বা লবণ চাখতে পারবেন। মুখে বা জিহ্বায় নিয়ে তারপর ফেলে দিতে হবে এবং তারপর থুতু ফেলে দিলেই মুখ পরিষ্কার হয়ে যাবে। এমতাবস্থায় প্রয়োজন মনে করলে পানি দিয়ে কুলিও করে নিতে পারেন। রোজা অবস্থায় তেল, সুরমা, সুগন্ধি, স্নো, ক্রিম, পাউডার প্রভৃতি ব্যবহার করা নিষিদ্ধ নয়।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

[email protected]com

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন