default-image

গত মাসের শেষের দিকে কলকাতা হয়ে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জ বেড়াতে গিয়েছিলাম। আন্দামানের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারসহ আরও তিনটি দ্বীপ নিয়ে মোট পাঁচ রাত কাটিয়েছিলাম দ্বীপপুঞ্জে। আমাদের দেশে যারা উপমহাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত, আন্দামান তাদের কাছে অপরিচিত নয়। একসময়কার ‘কালাপানি’ আন্দামান, ব্রিটিশবিরোধী বিপ্লবীদের লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখতে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপপুঞ্জে সারা জীবনের জন্য অন্তরীণ রাখা হতো। এ কারণেই ১৯০৬ সালে পোর্ট ব্লেয়ারের সবচেয়ে উচ্চ ভূমিতে ৬৯৩টি কক্ষবিশিষ্ট কারাগার তৈরি করা হয়। কারাগারটির নাম ‘সেলুলার জেল’। জেলটির বৈশিষ্ট্য ছিল যে মাঝখানে সুউচ্চ পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তা টাওয়ারকে ঘিরে চারদিকে সাতটি উইং তৈরি করা হয়েছিল। উইংগুলো এমনভাবে তৈরি হয়েছিল যে এক উইং থেকে সামনে-পেছনের উইংয়ের বন্দীদের দেখা যেত না। প্রতিটি উইং ছিল তিনতলা। মূলত প্রতিটি সেলে একজন বন্দীকে রাখা হতো। তাঁদের সিংহভাগ ছিলেন স্বাধীনতা সেনানী বিপ্লবী অবস্থায় রাজবন্দী।
সেলুলার জেলটি এখন পূর্ণাঙ্গ অবস্থায় নেই। মাত্র তিনটি উইং রেখে দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পূর্ব সময়ে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত দালানগুলোকে ভেঙে হাসপাতাল গড়ে তুললেও তিনটি উইং থেকে যায়। পুনর্নির্মাণ করা হয় কনডেম সেল-সংলগ্ন ফাঁসির প্রকোষ্ঠ। এখানে প্রায় ৮২ জনকে ফাঁসিও দেওয়া হয়েছিল। এখন এই সম্পূর্ণ জায়গাটি ভারতের জাতীয় স্মৃতিস্মারক। উৎসর্গ করা হয়েছে ১৮৫৮ থেকে ১৯৩৭-৩৮ পর্যন্ত আন্দামানে সাজাপ্রাপ্ত সব জাতীয়তাবাদীর উদ্দেশে। এটি এখন আন্দামানের রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ারের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটন মৌসুমে হাজার হাজার ভারতীয় ও বহির্বিশ্বের পর্যটক আসেন এই স্থাপনাটি দেখতে। তবে আমার চোখে বেশ কিছু বিদেশি পর্যটক পড়লেও ইংরেজি ভাষাভাষী কাউকে দেখিনি। কারণ, গাইড ও লাইট অ্যান্ড সাউন্ড শোর বর্ণনায় এখানকার বন্দীদের ওপর অত্যাচারের যে কাহিনি বয়ান করা হয়, তাতে হয়তো বর্তমান ব্রিটিশ প্রজন্ম লজ্জিত বোধ করে।
আন্দামান বা ‘কালাপানির’ এই স্থানটি দেখার সময় সেই সঙ্গে স্বাধীনতাকামীদের আত্মত্যাগের কথা মনে করলে ভাবাবেগের জন্ম হয়। এই স্বাধীনতাকামীরা সর্বভারতের স্বাধীনতা চেয়েছিলেন ব্রিটিশ অবৈধ শাসকদের কাছ থেকে। তারা বিপ্লব করেছিলেন বিদেশি প্রভুত্ব থেকে নিজেদের মুক্ত করে স্বাধীনভাবে থাকতে।
সুউচ্চ গার্ড চৌকি বা টাওয়ারের গায়ে প্রচুর নাম লেখা রয়েছে, যাঁদের কালাপানিতে পাঠানো হয়েছিল যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ড দিয়ে। তাঁদের মধ্যে অনেক বিখ্যাত নাম রয়েছে, যার মধ্যে বিপ্লবী ভাগত সিংয়ের বাঙালি সহচর বটকেশ্বর দত্ত, ইতিহাসখ্যাত আলীপুর মামলায় অভিযুক্ত যতীন্দ্রনাথ মুখার্জি ওরফে বাঘা যতীনের বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ সহচরের নাম। বারিন্দ্র কুমার ঘোষ, উপেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, বীরেন্দ্র চন্দ্র সেন প্রমুখের নামও খচিত রয়েছে, যাঁরা ওই সময়কার ‘যুগান্তর’ ও ‘অনুশীলন’ সমিতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, সদস্যদের বেশির ভাগ ছিলেন এই সেলুলার জেলে। ভালো লেগেছিল এটা দেখে যে ভারত স্বাধীন করতে গিয়ে যাঁরা বিপ্লবী হয়ে কালাপানি বা দেশান্তর হয়ে এই জেলে এসেছিলেন, তাঁদের সিংহভাগ ছিলেন বর্তমান বাংলাদেশের বাঙালি। এখানে কয়েকজন ছিলেন সূর্য সেনের সহযোগী চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের সঙ্গে জড়িত বিপ্লবী।
এই সেলুলার জেলে যাঁর কক্ষটি শনাক্ত করে আলাদাভাবে সংরক্ষিত, তিনি ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত বলে বিবেচিত ব্যক্তি বিনায়ক দামোদার সাভারকার। একই সঙ্গে তাঁর ভাই ভীর সাভারকারও এখানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত ছিলেন, যা দামোদার সাভারকার জানতে পারেননি। এই মহারাষ্ট্রীয় কবি, লেখক, দার্শনিক ও বিপ্লবী ব্যক্তি ছিলেন বর্তমান হিন্দুত্ব তত্ত্বের উদ্ভাবক। তাঁরই অনুসৃত ‘ঘর ওয়াপসি’ বা হিন্দুধর্মে ফিরে আসার নীতি বর্তমানে ‘বিশ্ব হিন্দু পরিষদ’ অনুসরণ করছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আদর্শগতভাবে দামোদার সাভারকারের সমর্থক। হিন্দু জাতীয়তাবাদের এই প্রবক্তা ছিলেন আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় সেবক সংঘের তাত্ত্বিক গুরু, নরেন্দ্র মোদি একসময় যার সদস্য হয়েছিলেন। দামোদার সাভারকার ছিলেন ঘোরতর কংগ্রেসবিরোধী ভারত বিভক্তির কট্টর বিরোধী। ভারত বিভক্তির জন্য তিনি সর্বতোভাবে কংগ্রেস ও গান্ধীকে অভিযুক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে নাথুরাম গডসে গংকে গান্ধী হত্যায় উদ্বুদ্ধ করার অভিযোগে সাভারকারকে অভিযুক্ত করা হলেও অকাট্য প্রমাণের অভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। নেহরু এবং পরবর্তী সময়ে কংগ্রেসের অন্য নেতারা সাভারকারের সঙ্গে যোগাযোগও রক্ষা করেননি। তবে নেহরুর মৃত্যুর পর লালবাহাদুর শাস্ত্রী সাভারকারকে পেনশন প্রদান করেন। সাভারকার অন্যদের সঙ্গে ১৯৩৭ সালে সেলুলার জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।
বর্তমানে এই জেলের সাভারকার প্রকোষ্ঠ তীর্থভূমিতে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর নেহরু সম্পূর্ণ জেলটিকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। অনেকেই মনে করেন যে দামোদার সাভারকারের সঙ্গে কংগ্রেসের ভাবাদর্শ এবং ব্যক্তি সংঘাতের কারণে ওই সময়ের কোনো কংগ্রেস নেতাই সেলুলার জেলে সাভারকারের প্রকোষ্ঠ দেখতে যাননি। বর্তমানে প্রধান ফটকের বাইরের ছোট বাগানটিতে প্রবেশের মুখেই দামোদার সাভারকারের মূর্তি স্থাপিত রয়েছে এবং পোর্ট ব্লেয়ারের বিমানবন্দরের নাম দামোদারের ভাই ভীর সাভারকারের নামে রাখা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গান্ধী ও রবীন্দ্রনাথের উপর্যুপরি দাবি এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ ভারতের অংশগ্রহণ ইত্যাদির কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে সেলুলার জেল থেকে রাজনৈতিক বন্দীদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অন্য কয়েদিদেরও ফেরত আনা হয়।
আন্দামানে সেলুলার জেল তৈরির আগে সম্পূর্ণ দ্বীপটিই ছিল উন্মুক্ত বন্দিশালা। এখানে ১৮৫৮ থেকে ১৮৫৭ সালের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধে, যার অপর নাম ‘সিপাহি বিপ্লব’, অংশগ্রহণকারী অভিযুক্তদের এই দ্বীপে যাবজ্জীবন শাস্তি ভোগ করতে নিয়ে আসা হয়। তখনো কোনো জেল তৈরি হয়নি। শুধু দেশান্তরিত করা হতো। পরে ১৮৭২ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ভাইসরয় লর্ড মেয়োর এক দেশান্তরি শের আলী আফ্রিদি কর্তৃক এই দ্বীপে হত্যার পর জেল তৈরি করা হয়। বহু বিপ্লবী আর স্বাধীনতা সেনানীর জীবনাবসান হয় এই দ্বীপে। পালানোর উপায় ছিল না। জেল থেকে পালানোর প্রায় ৩০০ ঘটনা ঘটলেও কেউই দেশে জীবিত ফিরে যেতে পারেননি। এমনই আন্দামান তথা কালাপানির ইতিহাস।
আন্দামান উপমহাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের এক বড় অধ্যায়। উপমহাদেশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি থেকে স্বাধীন হতে প্রায় ১৯০ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। সংগ্রাম করতে হয়েছিল ৯০ বছর। ১৮৫৭ সাল থেকেই সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে এসেছিল উপমহাদেশের স্বাধীনতা। ভারত স্বাধীন হয় প্রায় ৬৩ বছর আগে। এই ছয় দশক স্বাধীন ভারত বহুদূর এগিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে দাঁড়িয়েছে এর পেছনে লাখ লাখ অকুতোভয় মানুষের অবদান রয়েছে। স্বাধীনতা অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন, তবে আরও কঠিন রক্ষা করা।
ওপরে আন্দামান আর তার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরলাম এরই সূত্রে আমাদের দেশের আজকের পরিস্থিতির যৎসামান্য আলোচনা করতে। মনে রাখতে হবে, ভারতীয়দের অন্তঃকোন্দল, অস্থিতিশীল স্বার্থপরতা ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ফাঁকফোকর দিয়েই ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ শুরু করেছিল। আজও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রেতাত্মা ঘুরে বেড়াচ্ছে আমাদের এ অঞ্চলে।
আমাদের দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ অত লম্বা সময়ের না হলেও রক্তক্ষয়ী ছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে নয় মাসের যুদ্ধে অতিকষ্টের অর্জিত আমাদের এই স্বাধীনতা। স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরে আমরা এক ভয়াবহ ক্রান্তিলগ্ন অতিক্রম করছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনার প্রধান উপাত্ত ছিল ছয় দফা। যার ভিত্তিই রচিত হয়েছিল অর্থনৈতিক মুক্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একই সঙ্গে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার। বর্তমানে স্বাধীনতার চেতনার মূল বিষয়গুলো বাদ দিয়ে অন্য বিষয়গুলোও উচ্চারিত হচ্ছে অহরহ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে গণতন্ত্রের আকাঙ্ক্ষায় কাটিয়েছে দেশ প্রায় দুই দশক। নব্বইয়ের পরে যৎসামান্য যা অর্জিত হয়েছিল, তা-ও এখন লুণ্ঠিত অবস্থায় রয়েছে।
দেশের পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। এ কথা অকপটে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। দেশে ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতা চলছে। এর শেষ কোথায়, কেউ হলফ করে বলতে পারছে না। যাঁরা এই অচল অবস্থার জন্য দায়ী, সেসব রাজনীতিবিদও বলতে পারছেন না এই সংকটের সমাধান কোথায়। এমনই পরিস্থিতি যে রাজনীতিবিদেরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছেন। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও একপ্রকার হতাশা ব্যক্ত করা হচ্ছে।
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটানোর কোনো দেশি ফর্মুলা ক্ষমতাসীন অথবা বিরোধীরা গ্রহণ করার মতো মানসিকতা রাখছেন না। যার কারণে খোলাখুলিভাবে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা চলছে বলেও কেউ কেউ মনে করেন। মাত্র কয়েক দিন আগে মন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন নেতা ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের বাসায় বৈঠক করেছেন, আলোচ্যসূচি ভিন্ন হলেও রাজনৈতিক সংকট নিয়েও তখন কথাবার্তা হয়েছে। সংসদের আধাসরকারি বিরোধী দলের প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সম্প্রতি ৩২ জন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। বিস্তারিত জানা যায়নি, তবে আভাস-ইঙ্গিতে এটা বোঝা যায় যে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সে সময়ে আলোচনা হয়েছে।
এটা দুর্ভাগ্য যে আমাদের বর্তমান সংকট যা আমাদের রাজনীতিবিদেরাই সমাধান করতে পারেন, সেগুলো এখন বিদেশিদের আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। আমরা কি নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির জন্য রাস্তা খুলে দিচ্ছি? এর সঠিক উত্তর কে দেবেন জানি না। আমাদের এ সমস্যা আমাদেরই সমাধা করা উচিত। সমাধান রাজনীতিবিদদের হাতে রয়েছে, বিদেশিদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে আমাদের দেশের জন্য বিপদের রাস্তা খুলে দেওয়া।
মনে রাখতে হবে, উপমহাদেশের এবং পরবর্তী সময়ে ১৯৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতা এই উপমহাদেশের এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য লাখো প্রাণের আত্মাহুতি এ অঞ্চল ও দেশের আপামর জনসাধারণ দিয়েছে। নিজেদের আত্মমর্যাদা রক্ষার্থে বহু বিপ্লবী, বহু মুক্তিসেনা জীবন দিয়েছেন কিন্তু মাথা নত করেননি। আমরা তাঁদের উত্তরসূরি, একবিংশ শতাব্দীতে বিশ্ববাসীর কাছে মাথা নত করতে চাই না। আমরা গণতান্ত্রিক ও গর্বিত জাতি হিসেবে এগোতে চাই। রাজনীতিবিদেরা দয়া করে আমাদের মাথা হেঁট করাবেন না। সংকটের সমাধান নিজেরাই করার পথ বের করুন। এ ক্ষেত্রে প্রধান দায়িত্ব সরকারের। কারণ, তাদের হাতেই ক্ষমতা। কোনোভাবেই নব্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে যুক্ত করা গ্রহণযোগ্য হবে না।
এম সাখাওয়াত হোসেন: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com

বিজ্ঞাপন
কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন