বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উলিপুর, কুড়িগ্রাম সদর ও রাজারহাট উপজেলার যে তিন-চারটি স্থানে ক্যাম্পাস তৈরির দাবি উঠেছে, তার সব কটি নিচু। সিএস নকশায় বিলশ্রেণির জমিতেও বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য দাবি উঠেছে। আবার উচ্চ আদালতের রায়েও নদী-খাল-বিল-জলাশয়ের জমিতে কোনো অবকাঠামো করার সুযোগ নেই। ফলে স্থান নির্বাচনের জন্য এসব বিষয়ও ভাবতে হবে।

স্থান এমনভাবে নির্বাচন করতে হবে, যাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা সহজেই আসতে পারেন। প্রতিদিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক-প্রশাসনিক কাজে দেশ-বিদেশের যোগ্য ও ব্যস্ত পণ্ডিত-কর্তাব্যক্তিরা আসবেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় যেখানে হলে তাঁদের আসা-যাওয়া সহজ হবে, সেটাকে প্রাধান্য দিতে হবে। রেল-সড়ক যোগাযোগ একসঙ্গে আছে—এমন স্থান নির্বাচন করতে পারলে ভালো হবে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান বজায় রাখার স্বার্থে তার সব কার্য পরিচালনা করা না গেলে বিকলাঙ্গ শিশুর মতো প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার যথেষ্ট আশঙ্কা আছে।

বিদগ্ধজনদের সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শুরুতেই একটি একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান করতে হবে। একাডেমিক মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী অবকাঠোমোগুলো গড়ে উঠবে। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য জাকির হোসেন এসেছেন স্বনামধন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে। বিদেশে তাঁর গবেষণার অভিজ্ঞতা আছে। এসব অভিজ্ঞতাও কাজে লাগবে।

জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে চরম-পরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো পদের নিয়োগকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। সব নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা জরুরি। দেশে উপাচার্যদের সম্পর্কে জনবল নিয়োগে সততা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠছে। নৈতিক-আর্থিক-স্বজনপ্রীতি, বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ আছে। একবার অভিযোগ উঠলেই নতুন প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি অভিন্ন নীতিমালা অনুসরণ করা না হয়, তাহলে তারও একটি গ্রহণযোগ্য নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে শুরুতেই গবেষণামুখী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। চার বছরে একজন উপাচার্যের মেয়াদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়াবে না। কিন্তু এই চার বছরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক-প্রশাসনিক ভিত্তি দেওয়া হয়ে যাবে। ফলে শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

উপাচার্যের পক্ষে এককভাবে বিশ্ববিদ্যালয়কে গতিশীল করা কঠিন। সরকারের পক্ষে দ্রুতই সহ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া জরুরি। উপাচার্য যদি অভিজ্ঞ শিক্ষকদের এখানে নিয়ে আসতে পারেন, তাতেও তাঁর জন্য অনেক কিছু সহজ হয়ে যায়। আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিন যোগদান করা দুজন শিক্ষকের একজন। ফলে কাছ থেকে দেখেছি একটি বিশ্ববিদালয়ের শুরুতে কতগুলো কঠিন কাজ করতে হয়। পুরোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সবকিছুই একটি পদ্ধতি অনুসরণ করে চলে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্ধতি দাঁড় করাতে হবে। কাজটি কোনো অবস্থাতেই সহজ নয়।

উপাচার্যদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় সবচেয়ে অসুবিধা তদবির সামলানো। প্রতিদিন অসংখ্য তদবির আসতে থাকবে। উপাচার্য যদি শুরুতেই তদবিরকে ‘না’ করতে পারেন, তাহলে তাঁর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করা সহজ হবে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য একবার লিখেছিলেন, মায়ের জানাজার সময়ও তাঁর কাছে তদবির নিয়ে গিয়েছিলেন একজন। ওই উপাচার্য কারও কোনো তদবির কখনোই রাখেননি। সরকার তাঁকে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য উপাচার্য হিসেবে বহাল রেখেছিল।

নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে শুরুতেই গবেষণামুখী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। চার বছরে একজন উপাচার্যের মেয়াদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়াবে না। কিন্তু এই চার বছরে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক-প্রশাসনিক ভিত্তি দেওয়া হয়ে যাবে। ফলে শুরুটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা আশা করব, চলতি শিক্ষাবর্ষে সীমিতসংখ্যক বিভাগ নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হবে। যেহেতু গুচ্ছ পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ আছে, তাই সহজে শিক্ষার্থী পাওয়ার পথ খোলা আছে। কুড়িগ্রামে অব্যবহৃত কোনো ভবন খুঁজে সেখানে কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে গরিব জেলা কুড়িগ্রাম। এমন অঞ্চলে হলো কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়টি। সময় ও চাহিদাভিত্তিক পঠন-পাঠন-গবেষণায় কৃষিনির্ভর পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের একটি অনন্য প্রতিষ্ঠান হবে এ বিশ্ববিদ্যালয়, এটা আমাদের প্রত্যাশা। আঞ্চলিকতা কিংবা দেশীয় গণ্ডি অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিক। গতানুগতিক ধারার বাইরে বিশ্বসেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে এর যাত্রা শুরু হোক। শুভকামনা কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

তুহিন ওয়াদুদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন