বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথমত, আমি আমার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিশেষত, আমার স্বামী মো. মনিরুল ইসলাম ও আমার মেয়ে আলভিনাকে অনেক ধন্যবাদ। প্রায় দুই দশক ধরে আমার পেশাগত জীবনে তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছে। এ যাত্রায় পরিবারের সদস্যরা সব সময় আমার পাশে ছিলেন, সমর্থন জুগিয়েছেন। স্বামী-সন্তান ছাড়াও পরিবারের যেসব সদস্য চলার পথে আমার জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আমার প্রতি ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তাঁদের প্রতিও আমি কৃতজ্ঞ।

দ্বিতীয়ত, আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রথম আলোকে। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান ও আমাদের পুরো বার্তা বিভাগকেও ধন্যবাদ। আটক হওয়ার পর থেকে তাঁরা আমাকে সাহস জুগিয়েছেন এবং এর আগে আমাদের দেশে সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন সাংবাদিকতা করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করেছেন।

তৃতীয়ত, আমি দেশি-বিদেশি সহযোদ্ধা সাংবাদিক ও বন্ধুদের ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা কারাগারে যাওয়ার পর আমার মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন। আমাকে সমর্থন করেছেন। বিভিন্ন সংগঠন যেমন জাতীয় প্রেসক্লাব, ডিআরইউ, বিএফইউজে, ডিইউজে, সেক্রেটারিয়েট জার্নালিস্ট ফোরামের নেতাদের অনেক ধন্যবাদ।

আমি আপনাদের আবারও মনে করিয়ে দিতে চাই, করোনাকালীন বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি, কেলেঙ্কারি ও অনিয়ম নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন করার কারণে আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ছয় ঘণ্টা আটকে রেখে আমাকে শারীরিক-মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমার গায়ে হাত তোলা হয়েছে। শেষ অবধি মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ঔপনিবেশিক আমলের মৃতপ্রায় একটি আইনে মামলা করে আমাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শুধু তা-ই নয়, আমি যখন কারাগারে ছিলাম, তখন আমার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছে। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি জানি, এসব করে আমার কলম আটকানো যাবে না। হ্যাঁ, তারা কারাগারে পাঠিয়ে ও প্রেস কার্ড বাজেয়াপ্ত করে আমাকে সাময়িকভাবে আটকে রেখেছিল ঠিকই। কিন্তু এভাবে আমাকে থামানো যাবে না।

আমি বিশ্বাস করি, সত্য একদিন সামনে আসবে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আমাদের ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। আমি জানি, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় কীভাবে সাংবাদিকদের টার্গেট করে হত্যা করা হয়েছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী পাঁচ দশকে বাংলাদেশে আরও কয়েক ডজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।

আমি চাইলে আমার পেশা ছেড়ে দিতে পারি। জীবনভর যা অর্জন করেছি, তাতে আমি সহজেই অন্য কোথাও চলে যেতে পারি। কিন্তু এমন করলে আমি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কী উত্তর দেব; তারা যদি জিগ্যেস করে, ‘যখন তোমার দেশের মানুষ পীড়নের মধ্যে ছিল কিংবা সামাজিক সমস্যায় পড়েছিল, তখন তুমি তাদের জন্য কী করেছ?’

আমি এটা উপলব্ধি করি যে যখন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা পুরোপুরি থাকে না, ওই সময় স্বাধীনভাবে ও কুসংস্কারমুক্ত হয়ে সাংবাদিকতা করাটা মানুষ, সমাজ ও বিশ্বের সেবা করার সর্বোত্তম একটি উপায়। এ জন্য আমি সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ পুরস্কার শুধু আমার কাজের ও অদম্য মানসিকতার স্বীকৃতি নয়, বরং এটা আমার দেশে যে সাংবাদিকেরা এখনো সত্যানুসন্ধানের কঠিন কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের প্রতি বৈশ্বিক সমর্থন।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অধিকার সংগঠনগুলোর মাধ্যমে আপনারা বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার আসল চিত্র সম্পর্কে জেনে থাকবেন। বিশেষত, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে আমার সহযোদ্ধা সাংবাদিকদের মধ্যে যে ধরনের সেলফ-সেন্সরশিপ শুরু হয়েছে। তবে আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিতে পারি, এ পরিস্থিতি অবশ্যই বদলাবে। সাধারণ মানুষের অবস্থার উন্নয়নের জন্য এ পরিস্থিতি বদলাতেই হবে। আমি সেদিনের অপেক্ষায় আছি।

আয়োজক ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা আমার বন্ধুদের আবারও ধন্যবাদ। সাংবাদিকতা দীর্ঘজীবী হোক।

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন