গত শনিবার বিজিএমইএ আয়োজিত প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে ব্যবসায়ী নেতারা যে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়েছেন, দেশের বাস্তব অবস্থা তার চেয়েও ভয়াবহ। তাঁরা সহিংসতা বন্ধ করার পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকটের অবসান চেয়েছেন। অন্যথায় তাঁরা দেশ অচল করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে যাওয়ার পর ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এই হুঁশিয়ারি এসেছে, তা সবার জানা। কিন্তু দেশ অচল হওয়ার িক কিছু বাকি আছে? আসল প্রশ্ন হলো, এই অচলাবস্থা কীভাবে এবং কত দ্রুত কাটানো যাবে? 
টানা ৪১ দিনের অবরোধের পাশাপাশি উপর্যুপরি হরতাল ও সহিংসতায় কেবল অর্থনীতি নয়, পরিবহন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রতিটি আর্থসামাজিক খাতই বিপর্যস্ত। ব্যবসায়ী নেতারা তো সমাবেশ ডেকে কিংবা প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এর পরিণতি সম্পর্কে সজাগ করেছেন। কিন্তু দেশের কোটি কোটি মানুষ এতটাই বিপর্যস্ত ও বিপন্ন যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণের ক্ষমতাও তাঁরা হারিয়ে ফেলেছেন। দুর্ভাগ্যজনক হলেও আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব এসব আবেদন, আহ্বান ও হুঁশিয়ারিকে আমলেই আনছেন না; যে যাঁর অবস্থানে অনড়। ফলে দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একমত হয়ে আমরাও বলতে চাই, এভাবে চলতে পারে না। দেশে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এই মুহূর্তে দুটি কাজ করা প্রয়োজন। এক. বিরোধী জোট এখনই অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহার বা স্থগিত করবে। দুই. দমন-পীড়ন বন্ধ করে সরকার বিরোধী জোটের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেবে।
এই পথ না ধরে দুই পক্ষের জেদ বজায় থাকলেও দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য বলে কিছু থাকবে না। গণতন্ত্র যেহেতু মানুষের জন্য, সেহেতু সেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে মানুষকে জিম্মি করা চলবে না। আবার গায়ের জোরে সবকিছু সমাধান করা যাবে—সরকারের এই মনোভাবও বিপজ্জনক। রাজনৈতিক নেতৃত্বের সুমতি হোক। সরকার ও বিরোধী জোটের কাছে আমাদের দাবি, অন্তত ব্যবসায়ীদের কথা শুনুন।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন