default-image

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকার বৃদ্ধ, দুস্থ ও বিধবাদের যে ভাতা দেয়, তা নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ কম নয়। প্রথমত, প্রকৃত দুস্থ ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অপেক্ষাকৃত সচ্ছল ব্যক্তির নাম উপকারভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেন। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের যোগসাজশে একশ্রেণির দালাল উপকারভোগীদের অর্থে ভাগ বসায়।

প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের রহিমপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা আমেনা খাতুন স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে সরকারি ভাতার জন্য তালিকাভুক্ত হন। প্রতি মাসে তাঁর ৫০০ টাকা পাওয়ার কথা। অথচ তাঁকে দেওয়া হতো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। বাকিটা আওয়ামী লীগ নেতাই নিয়ে নিতেন। আমেনা খাতুনের পাস বইও তিনি নিজের কাছে রাখতেন। তবে আমেনা খাতুনই একমাত্র ভুক্তভোগী নন, সরকারি ভাতা নিয়ে এ রকম অভিযোগ আরও অনেকের।

এর প্রতিকারে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় অনলাইন পদ্ধতিতে ভাতা দেওয়ার কাজ শুরু করে। ইতিমধ্যে তারা জেলার ৯টি উপজেলায় অনলাইনে ভাতা দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করেছে। জেলায় সরকারি ভাতাভোগীর সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার ২৭৪। ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৯টিতে তারা এ কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। শতাংশের হিসাবে ৮৬ ভাগ এখন অনলাইনে ভাতা পাচ্ছেন। বাকি ১৪ শতাংশ অবিলম্বে অনলাইনে পাবেন বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

অনলাইন পদ্ধতিতে ভাতা পেয়ে উপকারভোগীরা দারুণ খুশি। তাঁরা বলেছেন, অনলাইনে ভাতা দেওয়ায় এখন আর তাঁদের ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হয় না। জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে মোবাইল ব্যাংক হিসাব নগদ কিংবা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অনায়াসে টাকা তুলতে পারছেন। গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত এই ব্যাংকিং সুবিধা আছে। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দেওয়ায় কেউ ভাগ বসাতেও পারেন না।

আমরা ময়মনসিংহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। কিন্তু সমস্যাটি তো কেবল ময়মনসিংহের নয়। দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারি ভাতা নিয়ে অনেক অনিয়ম–দুর্নীতির অভিযোগ আসছে। অতএব, সারা দেশেই অনলাইনে সরকারের এ প্রান্তিক মানুষগুলোকে ভাতা দেওয়া উচিত। কর্তৃপক্ষ অনলাইনে তালিকা যাচাইয়ের কাজটিও করতে পারে। তাতে একই ব্যক্তি একাধিক স্থান থেকে কিংবা একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি ভাতা নিচ্ছেন কি না, তা–ও যাচাই করা যাবে। ময়মনসিংহের এ দৃষ্টান্ত অন্যত্রও অনুসৃত হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন