বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ডিএমপি কমিশনার অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই অপরাধীদের পাকড়াও করার যে নির্দেশ অধস্তনদের প্রতি জারি করেছেন, তাঁরা কতটা আমলে নিয়েছেন বলা কঠিন। ঈদ যত কাছে আসছে, রাজধানীতে ছিনতাই-চুরির সংখ্যাও বাড়ছে। থানা-পুলিশের খাতায় অনেক অপরাধীর নাম থাকে। যদিও তাঁদের ধরার জন্য তেমন চেষ্টা লক্ষ করা যায় না। অন্যদিকে গায়েবি মামলায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের হরদম আটক করা হচ্ছে। তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কাদের রক্ষায় ব্যস্ত?

এ সময় মুঠোফোন ছিনতাইও বেড়ে যায়। মুঠোফোন ছিনতাইয়ের পর ছিনতাইকারীরা এর আইএমইআই (ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি) নম্বর পরিবর্তন করে বিক্রি করে দেয়। অনেকে কম দামে এসব মুঠোফোন কিনে বিপদেও পড়েছেন। পুলিশের ভাষ্য, ঢাকার ১৬টি স্থানে মুঠোফোন ছিনতাই চক্র সক্রিয়। কয়েকটি চক্র ধরা পড়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলা যাবে না। ধরা পড়াদের চেয়ে না ধরা পড়া ছিনতাইকারীর সংখ্যা অনেক অনেক বেশি। আবার চোর-ছিনতাইকারীরা ধরা পড়লেও শাস্তি পায় না। নানা অপকৌশলে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে বেরিয়ে এসে আবার পুরোনো পেশায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি কেরানীগঞ্জে সোনার বার ছিনতাই করতে গিয়ে দুই পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার হয়েছেন। রক্ষক ভক্ষকের ভূমিকায় নামলে সাধারণ মানুষ কার কাছে প্রতিকার পাবে?

তাই চুরি-ছিনতাই বন্ধ করতে হলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অনেক সময় তদন্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারণে চিহ্নিত অপরাধী তথা ছিনতাইকারীরা পার পেয়ে যায়। ঈদের আগে ছিনতাইয়ের হার কমিয়ে আনতে মার্কেট ও গণপরিবহনগুলোয় টহল জোরদার করতে হবে। তাই আশা করব, সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সজাগ হবে। কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

আরেকটি বিষয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একশ্রেণির সদস্যের মধ্যে ছিনতাইয়ের মামলা না নেওয়ার প্রবণতা আছে। তাঁরা ভাবেন, মামলা বেশি হলে থানার বদনাম হবে। আর মামলা কম হলে ‘সুনাম’ হবে। নিজেদের কথিত সুনাম রক্ষা করতে গিয়ে তঁারা যে দেশকে চোর–ছিনতাইকারীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করতে যাচ্ছেন, তা কি একবারও ভেবে দেখেছেন?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন