জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে হরতাল-অবরোধ চলছে। এ ধরনের কর্মসূচি থেকে সাধারণত জরুরি সেবা, বিশেষ করে সংবাদপত্র, ওষুধ ও পাঠ্যপুস্তকবাহী যানবাহন রেহাই দেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কর্মসূচিতে বেছে বেছে এসব বাহনই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গত সোমবার ভোরে প্রাথমিক পাঠ্যপুস্তকবাহী একটি ট্রাকে পেট্রলবোমা হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা, বইসহ ট্রাকটি পুড়ে যায়, আহত হন ট্রাকচালক।
অবরোধ-হরতাল আহ্বানকারীদের দাবি, তাদের কোনো নেতা-কর্মী বোমাবাজিতে জড়িত নয়। তাহলে রাতের অন্ধকারে কারা এই পৈশাচিক কাণ্ড ঘটাচ্ছে? অনেক ক্ষেত্রে জামায়াত-শিবির ও ছাত্রদলের কর্মীরাও বমাল ধরা পড়ছেন। আগে জনগণের সমর্থন নিয়েই হরতাল-অবরোধ পালন করা হতো। এখন সেসবের বালাই নেই। পেট্রলবোমা ছুড়ে যানবাহন জ্বালিয়ে দেওয়াই একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্দোলনের নামে এ ধরনের নাশকতা চলতে পারে না।
পাঠ্যপুস্তকবাহী ট্রাকে আগুনখাদ্যপণ্যবাহী যানবাহনের ওপরও হামলা অব্যাহত রয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ওষুধ ও সংবাদপত্রবাহী যানবাহনও। বিরোধী দলের হরতাল-অবরোধে প্রায় দেড় মাস ধরে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বন্ধ রয়েছে। এখন পেট্রলবোমা ছুড়ে যদি তাদের পাঠ্যবইও পুড়িয়ে দেওয়া হয়, তাহলে কীভাবে তারা পড়াশোনা করবে?
শিশু-কিশোরেরা জাতির ভবিষ্যৎ। অথচ সেই শিশু-কিশোরদের জিম্মি করে আন্দোলন পরিচালিত করছেন রাজনীতিকেরা। আমরা এ ধরনের ঘৃণ্য তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানাই এবং যারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি। আর রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আমাদের আহ্বান, আন্দোলনের নামে শিশু-কিশোরদের পাঠ্যবই পোড়াবেন না। এমনকি এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে আহূত প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করবেন না।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন