default-image

মৌলভীবাজারের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে কোদালীছড়া। বর্ষা-বন্যায় একসময় একাই শহরের সব বাড়তি পানি নিজের বুকে ধারণ করত এ ছড়া। একসময় ভাটি থেকে নৌকায় করে এ খাল দিয়েই শহরে আসত লোকজন। বছরের পর বছর ময়লা ও পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়ায় কাজটা আর করতে পারছিল না কোদালী। ফলে বর্ষাকালে প্রায়ই পানিতে তলিয়ে যেত পৌর এলাকা। আবার তাই ছড়াটা খননের উদ্যোগ নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। খুবই ভালো কাজ। প্রশংসা করার মতো উদ্যোগ। কিন্তু আমরা মন খুলে প্রশংসা করতে পারলাম না। কারণ, ১৭ কিলোমিটার লম্বা ছড়াটির যেটুকু অংশ শুধু শহরের মধ্যে পড়েছে, সেই চার কিলোমিটার জায়গাই শুধু তারা খনন করে। অর্থাৎ জলাবদ্ধতার সমস্যাটাকে তারা তাদের কোল থেকে তুলে পাশের শহরতলিতে নিয়ে ফেলে।

সুখের কথা, শহরতলির মানুষজনের দুর্দশা দূর করতে এগিয়ে আসে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন। বৃষ্টির পানি যাতে শহরতলি থেকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে, সে জন্য তারা ছড়াটার আরও চার কিলোমিটার খনন করে। বৃষ্টির পানি এখন শহরাঞ্চল থেকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারছে। খুবই ভালো কাজ। প্রশংসা করার মতো উদ্যোগ। কিন্তু তাদেরও আমরা মন খুলে প্রশংসা করতে পারলাম না। কারণ, এখনো তো কোদালীছড়ার ৯ কিলোমিটার জায়গা খনন ছাড়া রয়ে গেল। অর্থাৎ তারাও সমস্যাটাকে তুলে ভাটির দিকের তিন ইউনিয়নের কোলে নিয়ে ফেলল। ফলে মোস্তফাপুর, গিয়াসনগর ও নাজিরাবাদ, এ তিন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এ দুর্দশা দূর করতে এবার এগিয়ে এসেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভুজবল থেকে সিকিরাইল পর্যন্ত কোদালীছড়ার আরও চার মাইল খাল খননের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। গত ১০ জানুয়ারি থেকে খনন শুরুও হয়ে গেছে। গভীরতা বাড়ার পাশাপাশি বাড়ছে প্রস্থ। আগের চেহারায় ফিরে আসছে ছড়া। কাজটা শেষ হলে খালে সব সময় পানি থাকবে বলে আশা করছে লোকজন। প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া যাবে, মাছের উৎপাদনও বাড়বে কয়েক গুণ। খুবই ভালো কাজ। প্রশংসা করার মতো উদ্যোগ। কিন্তু তারপরও আমরা মন খুলে তাদের প্রশংসা করতে পারলাম না। কোদালীছড়ার পাঁচ কিলোমিটার যে এখনো অখোঁড়া রয়ে গেছে।

হাইল হাওর পর্যন্ত এ পাঁচ কিলোমিটার ছড়া খনন করা না হলে এলাকার কৃষিতে বিরাট পরিবর্তন আসবে না। ঘরে তোলা যাবে না এ উন্নয়নের পুরো সুফল। তাই আমাদের দাবি, বাকি পাঁচ কিলোমিটার খনন করে হাইল হাওরের সঙ্গে অবাধ করা হোক কোদালীছড়ার জলযোগ, যেন মন খুলে আমরা এ কাজের প্রশংসা করতে পারি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন