বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধভাবে চলছে পাথরঘাটা ও মঠবাড়িয়ার এসব কারখানা। বিষখালী নদী, হলতা নদী, বলেশ্বর নদের পাড়সহ সংলগ্ন লোকালয়ে কারখানাগুলো গড়ে উঠেছে। কারখানাগুলোর অদূরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিক, মসজিদ-মন্দির ও হাটবাজার রয়েছে। কারখানার দূষণে গ্রামের বাসিন্দাসহ স্কুলগামী শিক্ষার্থী, স্থানীয় হাটবাজারের লোকজন ভোগান্তিতে পড়েছে। এলাকায় শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বন থেকে অবৈধভাবে এসব কাঠ সংগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগ আছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব কারখানার চুল্লিতে প্রতিনিয়ত কাঠ পোড়ানো হয়। একেকটি চুল্লিতে প্রায় ৪০০ মণ কাঠ টানা ৫ থেকে ৬ দিন পর্যন্ত নিবু নিবু জ্বলতে থাকে। চুল্লিতে যখন আগুন দিয়ে কাঠ পোড়ানো হয়, তখন পার্শ্ববর্তী পথ দিয়ে চলাচল তো দূরের কথা, গ্রামসহ আশপাশের দু-এক গ্রামে থাকাই মুশকিল হয়ে পড়ে তখন। কারখানাগুলোর সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত থাকায় সাধারণ মানুষ কিছুই করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতি প্রশাসনের না জানার কথা নয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বরিশালের সমন্বয়কারী লিংকন বায়েন বলেন, কাঠকয়লা কারখানায় কাঠ পুড়িয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করা হয়। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কারখানামালিকেরা প্রতিনিয়ত এভাবে পরিবেশের ক্ষতি করছেন, যা আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ।

বন বিভাগের পাথরঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, বনাঞ্চল থেকে কেউ কাঠ পাচার করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাথরঘাটার ইউএনওর বক্তব্য, বন ও পরিবেশের ক্ষতি করে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এসব বক্তব্য কি কথার কথা হয়ে থাকবে, নাকি অবিলম্বে তাঁরা কোনো ব্যবস্থা নেবেন, সেটিই আমরা দেখতে চাই।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন