মুক্তচিন্তার মানুষ অভিজিৎ রায়ের খুনিরা অচেনা নয়। যেই অন্ধকারের শক্তি আলোকে ভয় পায়, ভিন্নমতকে সহ্য করে না, তারাই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এই মেধাবী প্রকৌশলীকে হত্যা করেছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে বইমেলা থেকে বেরিয়ে টিএসসির মোড় থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যখন তিনি যাচ্ছিলেন, তখনই চাপাতি নিয়ে দুর্বৃত্তরা তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী রাফিদা আহমেদ গুরুতর আহত হয়ে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনা যেমনই নৃশংস, তেমনই বেদনাদায়ক। এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। অভিজিৎ পেশায় একজন প্রকৌশলী হলেও মুক্তচিন্তার চর্চা করে আসছিলেন। মুক্তমনা ব্লগটির প্রতিষ্ঠাতা তিনি। নানা কুসংস্কার ও ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে লেখালেখির কারণে জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী আগেই তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের টিকিটিও খুঁজে পায়নি।
লেখক–ব্লগার অভিজিৎ রায়কে কুপিয়ে হত্যা১১ বছর আগে এই ফেব্রুয়ারিতেই কাছাকাছি স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন লেখক হুমায়ুন আজাদ। ২০১৩ সালে একই গোষ্ঠীর হাতে খুন হন আরেক ব্লগার রাজীব। তাহলে কি মুক্তিযুদ্ধে অর্জিত বাংলাদেশে কেউ মুক্তভাবে তাঁর চিন্তা ও ভাব প্রকাশ করতে পারবেন না? করলেই তাঁকে খুন হতে হবে? আমাদের রাষ্ট্র কি এই ঘাতকদের ধরতে অপারগ?
ইতিমধ্যে আনসার বাংলা-৭ নামের একটি সন্দেহভাজন জঙ্গি গোষ্ঠী অভিজিৎ হত্যার দায় স্বীকার করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বরাবরের মতো যেকোনো মূল্যে হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার কথা বলেছে। আমরা অবিলম্বে অভিজিতের খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি। এটি নিছক আইনশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা নয়। এই জঙ্গিবাদী খুনি চক্রকে সমূলে উৎপাটন করতে হলে চাই সমাজের সব শুভশক্তির সম্মিলিত উদ্যোগ।
অভিজিতের বাবা প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও পদার্থবিদ অজয় রায়। যিনি আজীবন মুক্তচিন্তার পক্ষে লড়াই করে আসছেন, তার সন্তানই আজ অন্ধকারের জীবদের জিঘাংসার বলি হলেন! আমরা জানি, কোনো সান্ত্বনা ও সমবেদনাই তাঁর বেদনার
ভার লাঘব করতে পারবে না। তারপরও অধ্যাপক রায়কে বলব, ‘আমরা আপনার পাশে আছি।’

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন