অভিযুক্তকে রেহাই দেওয়ার এ কেমন অভিযোগপত্র?

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে গত ৩ ফেব্রুয়ারি। সেদিন মিরপুর ১ নম্বরের গুদারাঘাটে পুলিশের সোর্স দেলোয়ার হোসেনের হাতে চা-দোকানি বাবুল অগ্নিদগ্ধ হন। পরে তিনি হাসপাতালে মারা যান। পরিবারের অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় দেলোয়ার পুলিশ নিয়ে এসেছিলেন এবং বাবুল মাতবরের সঙ্গে তাঁদের বাদানুবাদ ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দোকানের কেরোসিনের চুলা থেকে বাবুলের শরীরে আগুন ধরে যায়। পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে একজন ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে পোড়ানো হলো; পুলিশ সদস্যরা কেউ সাহায্যে এগিয়ে এলেন না, সেই সোর্সকেও আটকালেন না। এমনকি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষকেও জানালেন না।

নিহত বাবুলের সন্তানদের দাবি, তাঁদের বাবার মৃত্যুর জন্য পুলিশ সদস্যরাই দায়ী। এ ঘটনায় গঠিত পুলিশের দুই তদন্ত কমিটিই পুলিশের এই পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতি বা অবহেলার কথা উল্লেখ করে। কিন্তু তারপরও তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতে কোনো মামলা হয়নি। উল্টো পুলিশের নিজস্ব মামলা থেকে দুজনকে দেওয়া হয়েছে অব্যাহতি এবং বাকি তিনজনের বেতন বৃদ্ধি সীমিত করার সিদ্ধান্ত হয়। এভাবে প্রকারান্তরে অভিযুক্তদের দায়মুক্তি দিয়ে পুলিশ খুবই নিন্দনীয় আরেকটি নজির স্থাপন করল।

প্রথম আলোর সংবাদ জানাচ্ছে, এ মাসেই বাবুল হত্যা মামলার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে। বাবুল মাতবরের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে হলে নতুন করে তদন্ত করা প্রয়োজন। আর, এ রকম ক্ষেত্রে পুলিশের বাইরে অন্য কোনো সংস্থাকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার কথা ভাবতে হবে। এমনকি, মানবাধিকার কমিশনও নিজস্ব উদ্যোগে ঘটনাটি তদন্ত করতে পারে। অন্যথায় পরিবারটি ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।